এবার ঘরে ফেরার পালা – সুলতানা ফিরদৌসী

১৯৭১সাল যুদ্ধ শেষে ঘরে ফিরছে এক তরুণ সাথে তার পরিবার বাড়ির পথে যাওয়া তাদের  গল্প «এবার ঘরে ফেরার পালা»____

বেশ ঠান্ডা পড়েছে,চাদর ভেদ করে হু হু করে শরীর কে স্পর্শ করছে। ঘুটঘুটে অন্ধকার চারিদিক ঘিরে। ছোট একটা ছাপড়া ঘরের মধ্যে সেটা টের পাচ্ছিল রিফাত। তার বউ রিনা এগারো দিনের কোলের ছেলেটাকে সামলাতে ব্যস্ত।দেড় বছরের মেয়েটি তখন ঘুমের কোলে……
রিফাত ভীষণ টেনশন বোধ করছে আজকের এই কালো নিশঃব্দ রাত কিভাবে যে কাটাবে এই ভাবনা তাঁকে অস্থির করে তুলল, তারপরও চেহারাটা স্বাভাবিক রাখার একটা ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছিল। পারিপার্শ্বিকতা এমনিতেই রিনার মুখে ভয়ার্ত ছায়া ফেলেছে, তারপর আবার স্বামীর বিচলিত মুখ!বেচারির তো যায় যায় অবস্থা।
দুই সন্তানের ভারে তার কৈশোর উত্তীর্ণ
শরীরের উপর যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ওর দিকে তাকালাম আমার খুব মায়া লাগলো।
আসলেই পুরো দেশের উপর যে ঝড় বয়ে বয়ে গেছে তা যে এতো তাড়াতাড়ি থেমে যাবে এটা রিফাত ভাবতেই পারেনি। মাত্র নমাসে দেশ স্বাধীন হতে পারে ব্যাপারটা একদমই অবিশ্বাস্য!
এই দেশের মানুষ ইচ্ছে করলে সবকিছু যে করতে পারে তার বড় প্রমাণ আমাদের স্বাধীনতা অর্জন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধ্যায় মাথা নত হয়ে এলো রিফাতের। এই মহান মানুষটি দেশের জন্য যা করেছেন তার কোনো তুলনা
নেই।
মুক্তিযুদ্ধের আগেই রিফাত প্রেম করে বিয়ে করে রিনাকে।বাবা মায়ের অমতেই বিয়েটা হয়। রিফাত জানতো এই বিয়ে ওর বাবা মা মেনে নিতে পারবেনা। তাদের পছন্দেরতালিকায় নিজের আত্মীয়ের মেয়ের সাথে, তাছাড়া রিফাত ছাত্র ছিল তখন বিয়ের জন্য সময়টা ঠিক ছিল না। কিন্তু রিনার
বাবা-মাযে কোন কারণেই হোক বিয়েটা মেনে নেয়। কথা ছিল রিনা বিয়ের পর একবছর বাপের বাড়িতে থাকবে, তারপর রিফাত তার বাবা মা কে বুঝিয়ে সুজিয়ে সামাজিক ভাবে উঠিয়ে নিবে।
বিয়ে করে প্রথমবার যখন খুলনা থেকে বাড়ি আসে রিফাত, তখন ওর
হাতের মেহেদী স্পষ্ট ছিল,ওর ছোট বোন রাবু চা দিচ্ছিল হঠাৎ ওর হাতের
দিকে তাকিয়ে বলল, ভাইয়া তোমার হাতে মেহেদি কেন?
মেহেদি?রিফাতের চোখ জ্বলে উঠল
আমতা আমতা করতে থাকলো ও আচ্ছা। হ্যা মানে একজন বন্ধুর বিয়ে তে গিয়েছিলাম, জোর করে হাতে মেহেদি লাগিয়ে দিল কপট রাগের অভিনয় করতে হয়, কোনমতে সামাল দিয়ে মূহুর্তগুলো পার করে রিফাত।
আর  এভাবেই তার জীবনের প্রথম অভিযান শুরু।
এর কিছুদিনের মধ্যেই রিফাত বাধ্য হয় বিশেষ করে রিনার চাপাচাপি তে বাড়ি নিয়ে আসতে, বাড়ির দরজায় ওরা যখন দাঁড়ালো তখন প্রায় বিকেল।
রেলওয়ের পাকশী শহরের উপর বিকেলের নরম তুলতুলে রোদ ছুঁয়ে যাচ্ছে, তার সাথে বয়ে যাওয়া মিষ্টি বাতাস রিনাকে পুলকিত করলেও রিফাত তখন ভয়ে সিঁটকায় দাঁড়িয়ে আছে, বাড়ির কলিং বেলে চাপ দেওয়ার সাহস হচ্ছিল না! একটি মেয়ে প্রেমিকের সাথে সাহস করে এক কাপড়ে চলে আসলো শুধুমাত্র রিফাত কে বিশ্বাস করে। বেচারা চেহারাটা দেখে রিনা কেন জানি গম্ভীর হয়ে গেল
নিজেকে কোনরকমে সামলে নিয়ে বলল, রিফাত কোন সমস্যা?
এক কাজ কর আমাকে বিকেলে র ট্রেনেই উঠিয়ে দাও আমি ফিরে যেতে পারবো।
রিনার এই সংলাপ টা রিফাতের পৌরুষত্বে রীতিমতো আঘাত হানে মূহুর্তে বদ্ধ ঘরের কড়া নাড়তে সাহায্য করে।
দরজা খুলেছিল ওর ছোট বোন রাবু, ওদের দুজনকে একসাথে দেখে রাবুর এমন চিৎকারে বাড়ির দরজায় সবাই চলে আসে।ওর মা সেদিন গরুর খাঁটি দুধ দিয়ে পায়েস রেঁধে বাবার জন্য একবাটি পায়েস নিয়ে যাচ্ছিল ছেলে আসার কথা শুনে দৌড়ে আসে। সামনে
রিনাকে দেখে বুঝতে আর বাকি রইলো না। ছেলের দিকে নিষ্পলক দৃষ্টি তে তাকিয়ে রইলেন।
তার আগে একটু বলা উচিত____রিফাতের মা আগাগোড়া ছিলেন নিভৃতচারীণী! তার স্বামীর সাথে অনেক অভিমান ভালবাসার বিয়ে ‌ঠিকই কিন্তু কোন দিন একটা শখের জিনিস হাতে করে আসবেনা। একমুঠো কাচেড় চুড়ী তাও না। বয়স বয়ে যায় লোকটার কোন পরিবর্তন হয়নি, হাজার ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, মনে একটা স্বপ্নছিল রিফাত তাদের বড়ো ছেলে মানুষ হবে, বড়ো চাকুরী করবে মাকে সুখ দিবে।
হঠাৎ করেই স্বপ্নটা ভেঙে গেল। চাঁপাএকটা নিঃশ্বাসের শব্দ বেরুচ্ছে, রিফাত সেটা টের পাচ্ছিল মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারলো না, ভাঙ্গাগলায় বললো___
মা তোমাদের ছেলের বউ।
রিনা সালাম কর, আমার মা
রিনাকে পায়েস খাওয়ালো।
তারপর দিনগুলো কেটে যায়খুব দ্রুত রিফাতের পড়াশোনা শেষের দিকে। দেশের অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে লাগল, বৈশাখী ঝড়ের গতিতে দেশ তখন টালমাটাল।রিফাতের কোন ভাবেই ঘরে মন বসছে না।পাকশী শহর
মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্ৰহনের জন্য পাঁয়তারা চলছে।
রিফাতের বাবা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন; তোমারআদর আবদার সহ সবরকমের ইচ্ছা মেনে নিয়েছি কিন্তু যুদ্ধে যাবার অনুমতি দিতে পারবনা। সামনে অনেক বিপদ, বাবা সেদিন ওর দিকে কটমট করে তাকিয়ে রইল,বড় অদ্ভুত দৃষ্টিকোণ! এভাবেই সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্ৰহন করা হলোনা।পরে রিফাত ভারতে স্বেচ্ছাসেবী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে যোগদান করেন। রিনার কান্নাকাটি, রিফাতের বাবা মায়ের অসহায়ত্ব, সবকিছু মিলিয়ে একধরনের কাপুরুষ পেলবতা আখড়ে ধরে আষ্টেপৃষ্ঠে।
যেদিন ওরা ভারত যাওয়ার জন্য সকালে রওনা হন সেদিন সন্ধ্যায় ওদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয় পাকিস্তানিরা। পাকসেনারা রিফাত কে খুঁজে বের করতে পারে না সেজন্য বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। দুর্বৃত্তরা কাউকে পেলে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারতো।
তারপর বিচ্ছিন্নদিনগুলি পার হতে থাকে রুদ্ধশ্বাসে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আর দিন গুনতে থাকে কবে দেশে ফিরবে।এরই মধ্যে রিফাতের জীবনে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। সন্তানের বাবা হলেন বাচ্চাটি নিয়ে রিফুউজি ক্যম্পে থাকা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়ে, দিন এনে দিন খেয়ে পার হচ্ছিল সময়। বাবা-মায়ের সাংসারিক অভাব অনটনের স্বার্থে ওরা বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য হয়। রিফাত কেমন জানি কষ্টের মাঝে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে। স্বেচ্ছাসেবক ক্যাম্পে কমান্ডার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি এক হিন্দু মেয়েকে পড়ায় কিছু টাকা দেয়,তা দিয়ে কষ্টে শিষ্টে চলে যায় ওদের সংসার।
এরি মধ্যে রিফাতের দ্বীতিয় সন্তান আসে। ডেলিভারি সময় এগিয়ে এলে ভারতের এক মিশনারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডিসেম্বর মাসের ১৩ তারিখে রিনা একটি ছেলে সন্তান প্রসব করে, চারিদিকে খবর ভেসে আসে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, হাসপাতালে বসে রিনা বিভিন্ন সংবাদ শুনেতে পাচ্ছিল! অস্থির হয়ে পড়ে স্বামী ও মেয়েটি কে দেখবার জন্য। বুকের ভেতর কেপে ওঠে ওর ফেলে দিয়ে চলে গেল না তো!
শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্য না রাখতে পেরে হাসপাতাল থেকে পারমিশন ছাড়াই বাচ্চাটি নিয়ে চলে আসে গন্তব্য ছাড়াই ট্রেনে উঠছিল ঐসময় রিফাত মেয়ে টি কে নিয়ে ট্রেন থেকে নামছিল। রিনাকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল! তুমি এখানে? হাসপাতালে থাকার কথা, ছাড়া পাবার ডেট আগামী কাল? রিনার চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে তারপর তোতলাতে তোতলাতে বললো আমি অতো সময় পর্যন্ত থাকতে পারব না,তাই চলে আয়।ভয় পেয়েছিলাম আমায় থুয়ে যদি চলে যাও!
একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে,   রিফাত ওর হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় জরিয়ে নেয়। ট্রেন ছেড়ে দিল ঝিক ঝিক শব্দের জন্য   মূহুর্তগুলো ম্লান হয়ে পড়ে। দেশ স্বাধীন হবার খবর ভেসে আসে, দেশে ফেরার তাড়া সবার। কিন্তু রিফাত কেন জানি ভেতরে ভেতরে উত্তেজনায় কাঁপছে মন অস্থির হয়ে উঠেছে। দেশের প্রতিটি রাস্তা বাড়ি,খেত খামার তাকে হাতছানি দিচ্ছে।তোড়জোর করে গোছানো শুরু করে দিল স্বামী স্ত্রী। ওর মা বাবা কিছু দিন পর যেতে চাইলো। ওদেরকে বরং বাড়ন করল,মাত্র স্বাধীন হয়েছে, স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে, রাস্তায় বিপদ হতে পারে। দেশে ফেরার তাড়ায়
রিফাত সবাইকে এক প্রকার না জানিয়েই দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।

ভোগবানগোলা থেকে ট্রেনে রওনা দিল, বহরমপুরে এসে থামল। ওখান থেকে বাসে উঠে। আবার রওনা হলো। ওদের সাথে বেশ কিছু বাক্স পেটরা ছিল। ছেলেটি মায়ের কোলে, মেয়েটি বাপের কোলে নামল পদ্মা তীরবর্তী সীমান্ত শহর জলংগী থানায়। তখন প্রায় বিকেল, সারাদিন অনাহারে অর্ধাহারে ক্লান্ত অবসন্ন। বহরমপুর শ্টেশনে মাটির খোরায় চা আর বিস্কুট খেয়েছিল। সেই অবধি পেটে কিছু ই পড়েনি। এখান থেকে পার হল পদ্মার একটি শাখা সরু নদী। ওপারে যখন নামল নামল তখন ঘন সন্ধ্যা। জায়গাটি বাংলাদেশের দোলতদিয়া থানার নাম না জানা এক চর এলাকা।
যে চরে যুদ্ধের নমাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ গ্ৰামের মানুষ ছোট ছাপড়া ঘর করে আশ্রয় নিয়েছিল। রিফাত আর রিনা যখন দাঁড়ালো ওদের সাথে তেমন লোকজন ছিল না। শুধু একজন বয়স্ক লোক ছিলেন তিনি ওদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে যেতে বলল আজকের রাত্তিটি আল্লাহর নামে কাটিয়ে দেও।বলেই লোকটা নিমিষেই হারিয়ে যায়। নিঃশব্দ পরিবেশে আসার পর রিফাত অনুভব করে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এভাবে একা চলে আসা ঠিক হয়নি। চারিদিকে কিছু মশালের আলোয় আলোকিত চরে শিয়াল ডাকার আওয়াজ দূর থেকে ভেসে আসছে, রিনাপ্রায় কাঁদো গলায় বলল; খুব ভয় করছে, তোমাকে বলেছিলাম সবার সাথে আসি, দলবেঁধে আসলে ভালো হতো; এখনযদি বিপদে পড়ি কেউ আমাদের সাহায্য করবে না।
রিফাত বলল:সাহস রাখো! সামনে এগিয়ে যেতেই এই ছাপড়া ঘরের সন্ধান পাওয়া গেল তার উপর ক্ষুধার্ত, ওদেরপোটলার মধ্যে কয়েক মুট চালভাজা ছিল দুজন মিলে তৃপ্তি সহকারে খাচ্ছিল।

ক্লান্তিতে চোখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু কোন ভাবেই ঘুমাতে পারে না।যদি শেয়ার কুকুর এসে বাচ্চাদের নিয়েযায়।
বড়ো মেয়েটির। গলা ঠান্ডায় ঘরঘর করছে। রিফাত তার গলার মাফলার টা
দিয়ে গলা জড়িয়ে দিল পরম মমতায়।
সারাটি রাত জেগে কাটিয়ে দেয়। ভোরের দিকে বিভিন্ন পাখির ডাকে উঠে বসে, আলোকিত সকালের আলোয় রিফাতের সাহস হচ্ছিল। গুছিয়ে নিয়ে বেড়িয়ে পরে, বেশখানিকটা সময় দাঁড়িয়ে থেকে একটা গরুর গাড়ির দেখা পেল তবে গাড়িতে জায়গা ছিল না অনেক অনুনয় করে একটু জায়গা মিললো। পদ্মার তীরে এসে দিন শেষ। সারা শরীর ব্যথা, বুকের ভেতর অজানা আশঙ্কায় ছমছম করছিল।
পরক্ষনেই একটি দৃশ্য দেখে মুগ্ধ।গ্ৰামে ডুকতেই লোকজন ছিল সবাই কে আমন্ত্রণ জানাচ্ছিল নিজ বাড়িতে আপ্যায়ন করার জন্য। সবাইকে এগিয়ে নিয়ে বাড়িতে নিয়ে এলো। ওনাদের সকল বাড়ির সন্তানরা মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। হয়তোবা অন্য কোন গ্ৰামে তাদেরকে কেউ আহার জোটাচছেন এই সময়ে সবার মধ্যে দেশ প্রেম__এক দেশ এক পরিবার। অনেকদিন পর এই বাড়িতে এসে ঝাল মশলা দিয়ে মুরগির ঝোল, বেগুন ভাজা,মুশরীর ডাল দিয়ে প্রায় চেটে পুটে পেট ভরে ভাত খেল।
খাওয়ার পর উঠোনে বসে গল্প করছে, দেশের কথা জানল। লোকটি নিজের সন্তানের খোঁজ নিতে নতুন লোকজন আসলেই দৌড়ে যায় যদি তার সন্তান আসে। এইস্বপ্নেই দিন কেটে যায় তাদের।
রিফাতের কেন জানি কান্না পেল; এই দেশ মানুষ কে যতটা ভালবাসায় আপ্লুত করেছে সেই রকম বিচ্ছিন্ন করেছে অনেক কে আপনজনের কাছ থেকে।ঐসব নির্ভীক সৈনিকরা ছিল বলেই আমরা এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি। নাহলে যে কোথায় হারিয়ে যেত আমাদের অবস্থান।
বেশ ভালো একটা ঘুম দিয়েছিল রিনা। রিফাত দেশে ফেরার টেনশনে এপাশ ওপাশ করেছে। সকাল হওয়ার সাথে সাথেই দাঁড়িয়ে থাকে নদীর পাড়ে। কিন্তু
দুপুরের আগে কোন নৌকাই এখানে ভিড়ে না। বড়োএকটা দেশী নৌকা দুপুরে এলো।
বিদায় নেয়ার সময় সবাই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
নৌকা চলছিল ধীর গতিতে। পঁচিশ মাইল পর যখন পাকশীতে নৌকা টি
ঢুকলো ওদের মন খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়ে।খিদে তেষ্টা সবকিছু আনন্দে র মাঝে মিলিয়ে যায়।
বড় বড় আম গাছেমিষ্টি আলো খেলা করছিল, পাখিরা স্বাধীনভাবে ডানা মেলেছে যেন। গরুর গাড়ির ঝাঁকুনিতে
দুটো বাচ্চাকে রিনা একা সামলাতে ব্যস্ত কষ্টহলেও স্বামী কে বিরক্ত করতে চাইলনা।ওর স্বামী দেশে ফিরছেন চোখ জুড়ে তখন দেশের জন্য ভালবাসা উপচে পড়ছে,ক্ষনে ক্ষনে গেয়ে যাচ্ছে;
“ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা”…….

Unbenannt

সুলতানা ফিরদৌসী

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.