শুধু বয়স্করা নয়, করোনায় তরুণরাও মারাত্মক ঝুঁকিতে: ডব্লিউএইচও

বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে করোনা ভাইরাস। মানুষ আজ দিশেহারা। কী করবে, কোথায় যাবে, কীভাবে নিরাপদে থাকবে- এ নিয়ে বিশ্ববাসীর চিন্তার কোনও অন্ত নেই। কোনও কূল না পেয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর ঝুঁকি। এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪১ হাজার ৩২৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৪ হাজার ৭৪৬ জন। আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন ৯৯ হাজার ৪০ জন। চিকিৎসাধীন আছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৪৩ জন। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৫৬০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুরু থেকেই বলা হচ্ছিল, শিশু ও বয়স্করা করোনা ভাইরাসের বেশি ঝুঁকিতে আছে। এছাড়াও যাদের হার্টে সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস কিংবা কিডনিতে সমস্যা রয়েছে তারাও আছেন ঝুঁকিতে।

কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতিতে তরুণদের স্বস্তিতে থাকার কোনও কারণ নেই। কেননা, শুধু শিশু কিংবা বয়স্কদেরই নয়- তরুণেরাও করোনায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ডব্লিউএইচও’র মহাসচিব টেড্রোস গেব্রেয়েসাস বলেছেন, আমরা তরুণদের কথাও বলছি। তাদেরকেও সতর্ক করছি। বয়স্করাই শুধু নয়, তরুণরাও করোনার প্রকোপ থেকে মুক্ত নয়।

বিশ্বজুড়ে দেশে দেশে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় তরুণ সমাজের সচেতনতার প্রেক্ষিতে গেব্রেয়েসাস এসব কথা বলেন।

করোনা ভাইরাসে বয়স্ক ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও ঝুঁকিতে- শুরু থেকেই এমন ধারণ থাকলেও সদ্য প্রকাশিত কয়েকটি পরিসংখ্যান এ ধারণা পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ২ হাজার ৫০০ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্তের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে যাদের হাসপাতালের নিতে হয়েছে তাদের ২০ শতাশের বয়স ২০ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। আর ৩৮ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বৈশ্বিক পর্যায়ে ৮৫ বছরের বেশি বয়সী যারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের প্রায় ১৫ শতাংশ মারা গেছেন। ৪০ বছরের কম বয়সী আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই হার ০.২ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডিসিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ ও ৩০ বছর বয়সী তরুণরা যে হারে করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন তা ৫০-৬০ বছর বয়সীদের তুলনায় নেহায়েত কম নয়।

এ প্রতিবেদন অনুযায়ী এটুকু বলা যায়, করোনা ভাইরাসে শুধু যে বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন তা নয়। সংক্রমণ ঝুঁকিতে আছেন তরুণরাও।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.