করোনা চিকিৎসায় ৪ ওষুধের ওপর গুরুত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় বিজ্ঞানীরা প্রায় ৭০টি ওষুধ পরীক্ষার ওপর নজর দিচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ওষুধগুলোর বৈশ্বিক প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি এগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি ওষুধ নিয়ে চারটি সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। রোববার সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গুরুত্ব দেওয়া ওষুধগুলোর প্রথমটি হচ্ছে ইবোলা চিকিৎসায় ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক কোম্পানি জিলিড সায়েন্স উৎপাদিত রেমডিসিভির। দ্বিতীয়টি সংক্রামক রোগের বীজনাশক ওষুধের একটি মিশ্রন। এই যৌগে রয়েছে ম্যালেরিয়ার ওষুধ ক্লোরোকুইন ও হাইড্রোক্লোরোকুইন। তৃতীয়টি হচ্ছে এইচআইভির দুটি ওষুধের সমন্বয়-লোপিনাভির ও রিটোনাভির । চতুর্থ চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে তিনটি ওষুধের সমন্বয়। এতে এইচআইভি চিকিৎসায় ব্যবহৃত লোপিনাভির ও রিটোনাভিরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ইন্টাফেরোন-বেটা। এই  ইন্টাফেরোন-বেটা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর আক্রমণকারী ভাইরাসকে দুর্বল করে।

কিছু পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চীনে সীমিত পরিসরে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এইচআইভি চিকিৎসায় ব্যবহৃত দুটি ওষুধের সমন্বিত প্রয়োগ কাজ করেনি। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্বাস বিভিন্ন ধরনের রোগীর ওপর ব্যাপক আকারে এর পরীক্ষা প্রয়োজন।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের শোহোমিশ কাউন্টিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক তরুণের ওপর রেমডিসিভির প্রয়োগ করা হয়। প্রথম দিন তার অবস্থা আরো অবনতির দিকে যায়। দ্বিতীয় দিন থেকে তার অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। ক্যালিফোর্নিয়াতেও করোনা আক্রান্ত এক রোগীর ওপর রেমডিসিভির প্রয়োগ করা হয় এবং সে সুস্থ হয়।

চীনে ২০ জনেরও বেশি করোনা আক্রান্ত রোগীর ওপর ম্যালেরিয়ার ওষুধ ক্লোরোকুইন ও হাইড্রোক্লোরোকুইন প্রয়োগ করা হয়েছিল। ওষুধ প্রয়োগের পর তাদের কী অবস্থা হয়েছিল সে বিষয়ে চীন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে  চীনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এই বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে।

সার্স ও মার্স ভাইরাসের চিকিৎসায় গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছিল লোপিনাভির ও রিটোনাভির। তবে এর ফলাফল খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না।

লোপিনাভির ও রিটোনাভিরের সঙ্গে ইন্টাফেরোন-বেটা যুক্ত করে সৌদি আরবে মার্স ভাইরাসের চিকিৎসায় প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত গুরুতর রোগীর বেলায় ইন্টাফেরোন-বেটা ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন এক বিজ্ঞানী।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.