২৫ মাস পর মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া। কিছুক্ষণের মধ্যেই মুক্তি পাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। নেত্রীর মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মী।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রহণ করতে দলটির নেতাকর্মীরা ভিড় করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে। সেখানে ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। বিএনপির সিনিয়র নেতারাও ভিড় সামাল দিতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তারা চেষ্টা করছে কর্মীদের সরিয়ে এনে পরিস্থিতি সামাল দিতে।
বুধবার বিকাল ৩ টা ৩৫ মিনিটে বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকে এ দৃশ্য দেখা গেছে। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল মাইক হাতে নিয়ে নেতাকর্মীদের সরে যেতে অনুরোধ করেন। তিনি খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়টি সামনে এনে সবাইকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ করেন।
কিছুক্ষণ পর মির্জা ফখরুল নিজেই মাইক হাতে নিয়ে সবাইকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। সবাইকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার আহ্বান জানান। এতেও সবাই সাড়া না দিলে কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি মাইক হাতে নিয়ে বলেন, ‘সরে যান’ নইলে কঠোর ব্যবস্থা। পরে নেতাকর্মীরা সরে যান।
এর আগে খালেদা জিয়াকে নিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ পরিবারের সদস্যরা বিএসএমএমইউতে পৌছান। সেখানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনসহ নেতাকর্মীরা আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন।
এর আগে খালেদা জিয়া সাজা স্থগিতের আবেদনের ফাইলে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে কারা অধিদফতরে পৌঁছায়। পরে জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী সেই চিঠি বিএসএমএমইউতে নিয়ে যান।
মুক্তির শর্ত হিসেবে বাসায় অবস্থান করতে হবে খালেদা জিয়াকে। চিকিৎসা নিতে হবে দেশেই। সাজা মওকুফকালীন ছয় মাস তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ করেই ডাকা সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়াকে মুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
উল্লেখ্য, জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া।
প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়।
খালেদার জামিনের জন্য আইনজীবীরা গত দুই বছরে বহুবার আদালতে গেছেন, কিন্তু জামিন হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে মার্চের শুরুতে খালেদা জিয়ার সাময়িক মুক্তি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার খবর আসে।
শুদ্ধস্বর/বিটি

