করোনায় বিশ্বরূপ বদলাবেই, এখনই সাবধান হোন

রাষ্ট্র, বা সরকারকে নিজের ক্ষুদ্র জ্ঞাণে কিছু বলার ইচ্ছা থেকেই আজকের এই লেখা। এই লেখা কোনো পরামর্শ নয়, মনে হলো তাই বলা। বর্তমান পরিস্থিতিতে  বিষয়বস্তু অনুযায়ী সম্ভব হলে লিখছি নিজের মত করে, নিজের ভাবনাকে অকপটেই বলে যাচ্ছি, ভুল ত্রুটি জানিনা এবং কে খুশি বা বেজার হলেন, সেদিকেও নজর দেই না। যা বলি নিজের একান্ত বিশ্বাস থেকেই বলি।

বিশ্বজুড়ে চলছে করোনার কান্না। আমাদের দেশও বাদ নেই। আমাদের দেশে এই অব্দি যত রকম দুর্যোগ এসেছে, বলা যায় তার শতভাগের ভুক্তভোগী নেহায়েত গরিব/ দুঃখিজনেরা। সেটা ঘূর্ণিঝড়/ বন্যা/ খড়া ইত্যাদি এই সবের আঘাত কেবল মরাদের উপর দিয়েই যায় ।  তবে এবারের মহামারী কিন্তু ধনী/গরিব/বিত্তবান কাউকেই ক্যাটাগরিতে ভাগ করবে না । সুযোগ যেখানেই পাবে আঘাত করবে। এই করোনা মহামারী দেশের ধনীকদেরও নিশ্চিত বুঝিয়ে দেবে, মহামারীর ব্যথা কেমন।

করোনার বিষে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো নিজেরাই নিজেদেরকে প্রয়োজনের সাপেক্ষেই আইসোল্যাট করে ফেলেছে। এছাড়া তাদের ভিন্ন উপায়ও ছিলো না । কেননা বিশ্বের উন্নত দেশের সরকারগুলোর জনগণের প্রতি কমিটমেন্ট থাকে এবং প্রশংসনীয়ও বটে।  বলতেই হয় , একটু উলোটপালট হলেই তাদের সরকারে থাকাটাই লজ্জাষ্কর হয়ে উঠে।

আমাদের দেশে সরকারগুলোর পূর্ব থেকে আজ অব্দি  কি কমিটমেন্ট জনগণের জন্য ছিলো / আছে সেই আলোচনা করাটাই বাতুলতা মাত্র এবং শেষ হবার না।  সেটা আলোচনা করার জন্য আজকের লেখা নয় । এই কথাগুলো লেখার শুরুতেই লিখলাম, কারণ যেকোনো নির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ করে লিখলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই বিষয়কে টেনে হিঁচড়ে রাজনীতিতে আনা হয়। শত প্রশ্ন করা হয়, যা কিনা লেখার বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্য থাকে না । অতঃপর  যা হবার তাই হয়, সব গুবলেট হয়ে যায় ।

আজকে কিছু আগামীর ভিন্ন বিষয়ে বলবো। বিশ্বে করোনাকে কেন্দ্র করে যা দেখছি, আগামীতে সমগ্র বিশ্ব জুরেই অর্থনীতিতে একটা আঘাত আসবেই , সেটা জলের মতন পরিষ্কার । যে হারে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো করোনার কল্যাণে তাদের গচ্ছিত অর্থ শেষ করছে, তাতে আগামীতে তাদের নিজ দেশেই অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। বেকারত্বের হার বাড়ার  সম্ভাবনা তৈরি হবে। অনেক ছোটোখাটো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। সেই মানুষেরাই আবার বাজারে কর্মের জন্য ধরণা দেবে। মোট কথা সব কিছুই একটা চক্রাকারে ঘোরপাক খাবে এবং নতুন নতুন সমস্যা তৈরি  হবেই।

এই সংকট  বিশ্বেও ছড়াবে । এক সময় উন্নত দেশগুলো আগামীতে যতটা পারবে অনুন্নত দেশ থেকেই অর্থ রোজগারের প্রচেষ্টায় থাকবে।  হোক সেটা যে কোনো পদ্ধতিতে, আইডিয়া, টেকনোলজি, অস্র বিক্রি , বিশেষ যন্ত্রপাতি কিংবা যেকোনো ধরণের   বিশেষ সার্পোট দিয়ে, যেন নিজেদের দেশের অবিক্রীত পণ্য বিক্রি করতে পারে, যা কিনা অনুন্নত দেশগুলো অনায়াশে একটি চক্রের মাধ্যমে খরিদ করে , ইত্যাদি ইত্যাদি । এই কথাগুলো উল্লেখ করার কারণ, ভবিষ্যতে আমাদের দেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশই এখন থেকেই অর্থনৈতিক দিকটিকে মাথায় রেখে, একটি ফ্লেমওয়ার্ক এখনই তৈরি রাখতে পারে। তা না হলে বিশ্বমন্দা বাজারের সাথে অনুন্নত দেশগুলো কুলিয়ে উঠতে পারবে না বলেই মনে হয়।

তবে হ্যাঁ এর একটা বিপরীত চিত্রও করোনার কল্যাণে হতেও পারে। এটা কোনো প্রেডিকশন নয়, কিছু নমুনা দেখা যাচ্ছে। লক্ষণীয় যে, করোনার শক্তিশালী আঘাতে দেশগুলো প্রায় কলাপ্স হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই কতগুলো রির্পোটে এসেছে,ইউরোপের দেশগুলোর উপলব্ধি হচ্ছে, একা একা সম্ভব নয়, আশেপাশের বড় বা ছোটো দেশের শক্তিগুলো সাথে একসাথে কাজ করলেই কেবল ভবিষ্যতে আগমনীর সকল সমস্যার সমাধান হতে পারে। কেননা শোনা যাচ্ছে এই করোনা কেবলমাত্র শুরু! সামনে ভিন্ন কিছুও আঘাত হানতে পারে। যদি তাই হয়, তাহলে বারবার দেশগুলো পক্ষে কমোর সোজা হয়ে টিকে থাকা সহজ হবে না ।

লক্ষণীয় যে, আমেরিকা ইতিমধ্যেই উন্নত দেশগুলোকে সাথে নিয়ে ভবিষ্যতে একসাথে চলার কথা বলছে। আমেরিকার আগামীর প্রেসিডেনট প্রার্থী জো বাইডেন করোনার কারণে নিজের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ ঘোষণা করে, আজকেই বলেছেন, ” আমেরিকা হবে সবার এবং আগামীতে আমেরিকা বিজ্ঞানকে অনুসরণ করে চলবে, কেবলমাত্র আমেরিকার বিজ্ঞাণকে নয় “”। তার কথাতেই ভবিষ্যত আমেরিকার কথা স্পষ্ট । এর ছাড়া ভবিষ্যতে আমেরিকার ভালো কোনো পথ খোলা থাকবে না । অবশ্য ট্রাম্পের মতন কেউ যদি আবারো নির্বাচিত হয়, সেটা হবে ভিন্ন বিষয় । সেই সমন্ধে কেউ প্লেডিকশনও করতে পারবে না। ভুল হবার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে।

উপায় থাকবে না ভেবে, সেই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই ভারতের মতন বড় মাস্তান (এশিয়া অঞ্চলে) দেশও প্রায় মৃত সার্ককেও ইদানীং মূল্যায়ন করছে। ইতিমধ্যেই মোদী সার্কের কিছুটা কার্যক্রম শুরু করেছেও বটে।  সার্কের বৈঠক চাচ্ছে সম্মিলিত ভাবে। ভারতের সম্ভবত উপলব্ধি হচ্ছে, পড়শিদের হুমকি ধামকি দিয়ে বিশ্ব বাজারে টেকা সহজ হবে না। কেননা ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা এশিয়ার অনেক দেশের চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছে। সেই সূত্রেই সম্ভবত মোদী নিজের ইচ্ছায় পাকিস্তানের প্রেসিডেনট ইমরানের সাথে কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সামনে দেখার বিষয় জল কতদূর পর্যন্ত গড়ায় ।

এমন কিছু হলে বলাই যায় করোনা ডিজাস্টারের কারণে বিশ্ব একটি ভিন্নরূপ পেলেও পেতে পারে।  সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে আমাদের দেশের সরকারের উচিত হবে, অন্যের দিকে না তাকিয়ে থেকে, আগামীর কথা বিবেচনায় রেখে , বর্তমান পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ নিরাপদ রাখার চেষ্টা করে, দেশের অর্থনীতি নিয়ে অগ্রিম ভাবনা এখনই শুরু করা। লক্ষণীয় যে আমাদের দেশের গার্মেনটসগুলোর হাল এখনই খারাপের দিকে ছুটছে ( পত্রিকার খবর )।ভবিষ্যতে প্রবাস থেকে রেমিটেন্স কমার সম্ভাবনাও দেখা দিবে। দেশে বর্তমানের চেয়েও দ্বিগুণ বেকারত্ব বাড়ার সম্ভাবনা আছে। এই করোনার কারণেই নানাবিধ অযাচিত সমস্যার মুখোমুখি হতেই হবে।

এই সব অনাকাঙিক্ষত সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের দেশে একটি রাজনৈতিক সহনশীলতা আগামীতে ভীষণভাবে জরুরি হয়ে পড়বে। সরকারের উচিত হবে বিষয়গুলোকে হাল্কাভাবে না দেখে, এখন থেকেই জরুরি ভাবে বিষয়গুলো নিয়ে কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা। মনে রাখা ভালো হবে, আগামীতে গণতান্ত্রিক ফ্রেমের মধ্যে দিয়ে রাজনৈতিক সহনশীলতা হতে পারে একটি উপযুক্ত ট্রামকার্ড।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক/ শুদ্ধস্বর ডটকম 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.