আসছে প্রধানমন্ত্রীর ভাষন : আবেগতারিত না হয়ে জাতীয় ঐক্যমতের কথা ভাবুন

প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ হয়েগেছে, তৃতীয় মহাযুদ্ধ হবে বলে নানান রকম প্রেডিকশন চলছিলো। চলছিলো বিশ্বে কত হুমকি ধামকি, কত রকম বাহাদুরির বাক্যবাণ আর কত রকম শক্তি আছে তার প্রদর্শন । এক করোনা সব কিছুই উলোটপালট করে দিয়েছে । করোনা অন্তত বুঝিয়ে দিয়েছে আগামীর বিশ্ব একা একা চলা সম্ভব হলেও সহজ হবে না। ইতিমধ্যেই তার নমুনা দেখা যাচ্ছে। বিশ্ব আজ অব্দি এমন করুন অবস্থা ইতিপূর্বে কখনোই দেখেনি। আমি নিজে অষ্ট্রিয়ায় বয়স্ক মানুষের সাথে কথা বলে বুঝেছি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে বা পরে তারা এমন ভয়ানক অবস্থায় পড়েনি। তাদের ভাষ্য, যুদ্বের সময়ও সাইরেন বাজিয়ে বোমা নিক্ষেপ করা হতো, তারা মাটির নিচের ঘরে লুকিয়ে যেতো, আবার সবাই বের হয়ে আসতো। খাদ্যের অভাব ছিলো, মানুষ মারা যেতো হাজারে হাজারে, তারপরেও এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দেখেনি। যুদ্ধ চলছে, মানুষ মারা যাচ্ছে, এটা ছিলো তাদের জন্য সেই সময়ে স্বাভাবিক বিষয়, মেনে নেবার বিষয় ছিলো, গোলাগুলি ছিলো মামুলি বিষয়, মানুষের অনুভূতি ছিলো ভিন্ন রকম, আনেকটা পাথর সম। আর বর্তমানে তারাই বলছেন, এটা কেমন অবস্থা ? যুদ্ধের সময় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছি, আস্ফালন করেছি, কস্ট ভাগাভাগি করেছি। অথচ আজকে হাতটুকুও মেলানো দায় ! করোনায় মৃত ব্যক্তির কাছে যাওয়া যাবে না, ধরা , ছোঁয়া সেতো প্রশ্নই আসে না । তারা ভাবতেই হিমসিম খাচ্ছে ।

এটাকে তৃতীয় মহাযুদ্ধ বলা যাবে কিনা ? কেননা সমগ্র বিশ্ব জুরেই এক অদৃশ্যের সাথে চলছে লড়াই। হ্যাঁ ,গোলা বারুদের গন্ধ নেই, তবে অনেক ভয় আছে, আতঙ্কে জড়সড় হয়ে যাচ্ছে সবাই, সব কিছুই আছে গুমট অবস্থায়, চারিদিকেই ডুতুরে ভুতুরে ভাব, মৃত্যু ভয় । সব যুদ্ধই যে আগুনের গোলাতেই হতে হবে, তা মনে হয় নয় ।  তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলছি, কেননা বিশ্বযুদ্ধের পরে সমগ্র বিশ্বে যেমন অর্থনৈতিক আঘাত এসেছিলো, সামনে সেই রকম অর্থনৈতিক আঘাত আসবেই। বারুদের যুদ্ধ  নয় বটে, তবে ফলাফলের অশনি সংকেত পাওয়া যাচ্ছে।

এমত অবস্থায় আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী আজকে দেশে বর্তমান করোনা আক্রান্ত কঠিন সময়ে জাতীর উদ্দেশ্যে ভাষন দিবেন। এমন কঠিন সময়ে দেশের প্রধানের নিকট জনমানুষ একটা সঠিক দিক নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকবে নিশ্চয়ই । সেটা অবশ্যই রাজনীতি/ অর্থনীতি/ ভবিষ্যত করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বাণী আসবে বলেই সবাই আশায় আছে নিশ্চয়ই । আমাদের দেশ ঘণ জনবসতি দেশ। ছোট্ট ভূখণ্ডে অস্বাভাবিক জনবসতি । এমন একটি দেশ চালানো সত্যি চাট্টিখানি কথা নয়। সমস্যার শেষ নাই, দেশের জনমানুষ আর প্রবাসীদের কঠিন কর্মের অর্থ দিয়েই দেশকে চলতে হয়। তদুপরি সেই অর্থের উপর আছে দূর্ণীতির থাবা। সকল প্রতিষ্ঠান সত্যি সত্যি ভঙ্গুর অবস্থায় জর্জরিত । আর রাজনীতির অবস্থা সেটা তো কুল হারা পথ শিশুর মতন। দেশে চলছে সকল ক্ষেত্রেই একপ্রকার ঘূর্ণিঝড় । এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষন হতে পারে মানুষের আশার বাণী, থাকতে হবে সঠিক দিকনির্দেশনা ।

গতকালই এই ভাষনের পূর্বেই অন্তত রাজনৈতিক দিকটির একটি ভালো সিদ্ধান্ত দেশের জনমানুষের নিকট পৌঁছাতে পেরেছে। এটা একটি ভালো খবর। মানুষের মনে সেটা নিয়েও চলছে সন্দেহ । জনমানুষ কে দোষারোপ করে লাভ নেই। কেননা এই সন্দেহ প্রবণতা আমাদের মাঝে সব সময় বিরাজ করে, তাছাড়া বাস্তবতা হচ্ছে এই সরকার নিজেই সন্দেহের পরিমাণ দীর্ঘদিন যাবৎ নিজেই চাষ করে আসছে। সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে উনার ভাষনে সহনশীলতার বাণী দিলে, জনগণ নিশ্চয়ই অস্বচ্ছতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। সরকার যত কথাই বলুক না কেন, বর্তমানে যে রাজনৈতিক সহনশীলতা একেবারেই শূন্যের কোঠায়, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।

আমরা অপেক্ষা করি, দেখি প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য কি বাণী নিয়ে আসেন। শেষে শুধু বলবো, এতদিন যে মর্জিতে দেশকে চালানো হয়েছে, আগামীতে বিশ্ব অর্থনৈতিক অবস্থায় সেভাবে আর সম্ভব হবে না বলেই প্রতীয়মান হয় । সুতরাং দেশের ১৮ কোটি জনতার মাথা হিসেবে সকল কিছু বিবেচনায় নিয়ে, আগামীর ভবিষ্যত বাংলাদেশের জন্য, স্থিতিশীলতার  বাংলাদেশের জন্য, কল্যাণময় বাংলাদেশের জন্য, সর্বোপরি সকল কিছুর উর্ধে উঠে সকলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের জনমানুষের জন্য ভবিষ্যতে সুন্দর বাংলাদেশকে সামনে নিয়ে উপস্থিত হোন। মনে রাখা ভালো হবে, আবেগকে দমন করে, বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে, কঠিন সত্যকে উপলব্ধি করে, যদি সঠিক বাণী জনগণের জন্য নিয়ে আসতে পারেন, সেটা হতে পারে দেশের জন্য একটি সোনার কাঠি/ রুপার কাঠি। আজকের দিনে আপনার দিকনির্দেশনা হতে পারে দেশের জন্য একটি মাইলফলক ।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম 

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.