একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা। মুক্তিযোদ্ধারা আমার কাছে সব চাইতে বড় মানুষ, তাই উনাদের নিয়ে লেখার মত জ্ঞাণ বা সাহস আমার নেই। তারপরেও কলম যেহেতু হাতে আছে, সে সাহসেই আজকে দুকথা বলা মাত্র ।
ঠান্ডা হীমেল হাওয়ার ভোরে ইলেকট্রনিক কলম নিয়ে বসেছি দুকলম লিখবো ভেবে। আমেরিকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে লড়ে যাচ্ছেন সাবেক ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা । দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি আমেরিকায় আছেন। কি কারণে ? সেটা না বললেও, সবার জানা। উনি ঢাকার মেয়র বা বড় রাজনীতিবিদ ছিলেন, সেটা আমার কাছে মোটেও মুখ্য বিষয় নয়। ইতিহাস থেকে যতটুকু জানি, খোকা সাহেব ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঢাকার গেরিলা বাহিনীর অন্যতমদের একজন। সেই সময়ের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, তখন এই গেরিলা বাহিনী বিচ্ছুবাহিনী নামে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিলো, যাদের অসহনীয় আক্রমণে বিশাল পাক আর্মি সর্বদাই ততষ্ঠ থাকতো। অকুতোভয় তরুণরা বিশাল পাক আর্মির বিরুদ্ধে কি দুর্বিসহ কস্ট করে, কতটা শক্ত মন মানসিকতা নিয়ে, দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিয়ে, নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে , এই মাতৃভূমির জন্য লড়ে গেছেন। সেই সময়ের পরিবেশ, পরিস্থিতি, বিপদজনক অবস্থা, কঠিন বাস্তবতা কেমন ছিলো ? এটা যাদের নিজেদের অংশগ্রহণ না ছিলো, তাদের পক্ষে নিশ্চয়ই কখনোই কলমের লেখায় পরিস্ফুটিত করা সম্ভব নয়। এমনকি উনারা নিজেরাও হয়তোবা ভাষা দিয়ে কখনোই তা পরিষ্কার বুঝাতে পারেন নি। এটা সম্ভব নয়, কেননা ধারণা করি সেটা ছিলো নিতান্তই অনুভবের বিষয় । সেটা নিশ্চয়ই সেই পরিস্থিতিতে না থাকলে কারো পক্ষেই অনুভব করা সম্ভব নয়।
বাঘের সামনে থেকে বেঁচে এসেছে, নিশ্চয়ই তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি জানেন, পরিস্থিতি কেমন থাকে। তুলনা মোটেও করছি না বরং উল্টোভাবে বলতে হয় পাকি আর্মিরা ছিলো সেই সময়ে আজরাইলের চেয়েও ভয়ঙ্কর । অনেক অনেক আগে সুন্দর বনের উপর কারো একটি লেখা বই পড়েছিলাম । সেই বইতে ছিলো সুন্দর বনের বাওয়ালি সোনা গাজীর কাহিনী । বাঘের কবলে পরেছিলেন, এক হাত বাঘে কামড়িয়ে ছিঁরে নিয়ে গিয়েছিলো। বইটিতে সোনা গাজীর হাত বিহীন একটি ছবিও ছিলো। সেই ছোটো বেলায় সোনা গাজী আর বাঘের লড়াইয়ের কাহিনী আজও আমাকে ভাবায়। আচ্ছা, এমন পরিস্থিতিতে মানুষের নিজস্ব মানসিকতা কেমন থাকে? কি ভাবে ? আত্মা কেমন শুকিয়ে যায়? মৃত্যুর সম্পূর্ণ সম্মুখীন হয়ে মানুষ কি সত্যি কোনো কিছু ভাবতে পারে ? ইত্যাদি ইত্যাদি নানান ভাবনায় পায়। কেননা মানুষ নিজেকে , নিজের জীবনকে নিশ্চয়ই সবচাইতে বেশি ভালোবাসে । আমি নিশ্চিত যে কেউ এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে থাকলে আমার একথায় সায় দিবেন। আরো বড় প্রমাণ, বিশ্বাসে মানুষ পরকালে বেহেস্ত/জান্নাত কত কিছু পেতে চায়। আর সেটা পেতে হলে তো নিশ্চয়ই আগে মৃত্যুবরণ করতে হবে। মৃত্যু ছাড়া তো আর এটা সম্ভব হবে না। তারপরেও মানুষ মৃত্যুবরণ থেকে বাঁচার কি আকুল চেষ্টাই না করে , কেন ? আরো বেশি বেঁচে থাকার তাগিদেই নিশ্চয়ই । হয়তো বা অজানা, না জানা পথই মানুষের এই ভাবনায় আরো বেশি আঘাত করে, বেঁচে থাকার তাগিদ দেয়। সেটাই মূলত নিজকে সব চাইতে বেশি ভালোবাসা বলছি।

দুদিন আগে পত্রিকান্তে দেখেছি, একজন মাঠের মুক্তিযোদ্ধার আবেদন ছিলো, রাষ্ট্রিয় সম্মান না দেবার! কতটুকু কস্ট মনে থাকলে এমন কামনা করতে পারে একজন মৃত্যু পথযাত্রি মুক্তিযোদ্ধা! আবার গতকালের পত্রিকায় আরো একজন জীবন্ত মুক্তিযোদ্ধার একই রকম আবেদন দেখলাম। নিশ্চয়ই একই কারণ হবে। উনাদের এমন আবেদনে রাষ্ট্রের কি ভাবনা হয়? জানতে খুব ইচ্ছে হয়। ঠিক একই রকম আবেদন করেছেন আমেরিকার হাসপাতালের আইসিইউতে শুয়ে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা! এই খবরও পত্রিকায় দেখলাম। উনার আবেদন, কোনো অবস্থাতেই বর্তমান সরকারের সাথে কোনো আপসনামা করে যেন উনার লাশ দেশে আনা না হয় ! আবেদনটি ভীষণ বেদনার আর মর্মান্তিক বটে। লক্ষণীয় যে, দেশে বর্তমানে সেই মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সরকার ক্ষমতায় বহাল আছে। সরকারের কি ভাবনা , জানি না এবং জানার কোনো সুযোগ আমাদের মত সাধারণ জনগণের নেই। তবে আমরাতো কত কিছুই ভাবতে পারি। কেন আজকে দেশে এমন অবস্থার সৃষ্টি হলো? এজন্য কিন্তু সাধারণ জনগণ মোটেও দায়ী নয়। এটা সেই স্বাধীনতার পর থেকে এমন পরিস্থিতি গড়ে উঠেছে, আমদের পরিচালনাকারি রাজনীতিবিদদের দ্বারাই ! সুতরাং এটার দায়ভার উনাদেরকেই শতভাগ নিতে হবে। কার কি দোষ? কে কি করেছে? এত শত প্রশ্নের আগেও বড় প্রশ্ন, আপনারা লজ্জিত হয়ে অন্তত আগামীর ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো পথ এই স্বাধীন দেশের জন্য বাতলাবেন কিনা ? আজকে এই দলের একজন মুক্তিযোদ্ধা, আবার আগামীকাল অন্য দলের একজন মুক্তিযোদ্ধা, এমন পরিস্থিতির স্বীকার হবেন। এটা যুদ্ধ জয়ী স্বাধীন দেশের জন্য কখনোই মঙ্গলের হতে পারে না। সর্বোপরি অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মোটেও সম্মানের নয়। মনে রাখা ভালো লাখো মুক্তিযোদ্ধারাই এই দেশের মূল কারিগর ছিলেন। তাদের কল্যাণেই আজ আমরা স্বাধীন ভূখণ্ডের মালিক। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, এই প্রজন্ম সব কিছু লক্ষ্য করছে, ওদের কাছে আপনাদের কি জবাব আছে ? ওরা কিন্তু এই সকল কিছুর জন্য আপনাদের কে ক্ষমা করবে না ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা, উনার দোষ ত্রুটি নিয়ে আমার আজকের আলোচনার বিষয় না। আমি সার্বিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলছি। আমি বলতে চাচ্ছি, প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার সাহসীকতা আর লড়াইয়ের অবদানেই এই দেশ। অবশ্যই অনেক মুক্তিযোদ্ধারাই এই দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের এমন বিপত্তির কারণে জন্য দোষী। উনারা নিজেরাই দল, রাজনীতি এবং মতপার্থক্যের কারণে , কিংবা স্বার্থের কারণেই স্বাধীন দেশে আজকে মুক্তিযোদ্ধারা অপমানিত ও লাঞ্ছিত হচ্ছেন । এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক এটা নিশ্চয়ই কাম্য ছিলো না। ভুল ত্রুটি সবার আছে। কেউ ধোয়া তুলসি পাতা নন। আমি বলছি না , কোনো মুক্তিযোদ্ধা সুযোগ সুবিধে নিয়ে দূর্ণীতি করেছেন , কিংবা খুন খারাপি করেছেন, তাদের কে কোনো জবাবদিহি করতে হবে না বা তাদেরকে বিচারের আওয়তায় আনা যাবে না। অবশ্যই বিচার করতে হবে এবং জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে আমি যা বলতে চাচ্ছি, তাদের কে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুযোগ সুবিধে দিয়ে, সুরক্ষা দিয়ে, শত অন্যায়ের পরেও শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে, সম্মান দিয়েই সে বিচার করা উচিত ( এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত)।
মনে পরে এ বি এম মুসা বিখ্যাত একজন সাংবাদিক ছিলেন এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সাংসদ। কে না জানতো, এ বি এম মুসা সাহেব সারাজীবন আওয়ামী ঘরনার লোক ছিলেন। জীবনের একেবারেই শেষ প্রান্তে এসে তিনি আওয়ামী রাজনীতির বিরোধীতা করতে থাকেন। আরো সত্য করে বললে বলা যায়, ২০০৮ সালে যখন আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসন গ্রহণ করেন, তার পরেই সেই দ্বন্দ্ব । তিনি আওয়ামী রাজনীতির নানান অসঙ্গতি বা নীতির বিরোধীতা করেন। তবে তিনি ভিন্ন মতাবলম্বী কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদান করেন নি , এমনকি সরাসরি ভিন্ন কোনো পক্ষের অবলম্বনও করতেন না, আওয়ামীর মানুষ বলেই নিজেকে বলতেন। মূলত বলতে গেলে আমরা সাধারণ মানুষ যা দেখি বা বলি, তিনি সেই কাজটিই করতেন শেষ বয়সে, এর বেশি কিছুই নয়। বাজারে তখন একটি কথা প্রচার ছিলো বা অনেকেই বলতেন, মুসা সাহেব একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স চেয়ে পাননি বলেই সরকারের কর্মের বিরোধীতা করতেন ( সত্য/ মিথ্যা জানিনা )। অতঃপর উনার মৃত্যুর পরে অনেক বড় বড় আওয়ামী লীগের নেতারা চেষ্টা করেও , সংসদ ভবনের সামনে কোনো জানাজা করাতে পারেন নি। এটা সংসদিয় রেওয়াজ বা সম্মান যে, একজন মুক্তিযোদ্ধা যিনি সাবেক সংসদ সদস্য, অথবা সংসদ সদস্য ছিলেন, উনাকে সংসদ ভবনের সামনে সকল সাংসদ মিলে বিদায়ী জানাজা পড়ান। তবে মুসা সাহেবের ভাগ্য সেই জানাজা জুটেনি। কি এমন মুসা সাহেব বলেছিলেন বা বিরোধীতা করেছিলেন যে , উনার ভাগ্য সেই জানাজাটি মিলেনি। সত্যি বলতে তেমন কিছুই না। আবার বলি আমাদের সাধারণ জনগণের ভাবনা, আমাদের আক্ষেপের কথাই তিনি বলতেন । এমনটি যদি চলতেই থাকে, সেটা কাম্য হতে পারে না। আর কতজন মুক্তিযোদ্ধাই বা জীবিত আছেন। সকল রাজনৈতিক দল ও সরকারকে বলবো, উনাদের দোষ ত্রুটি আপনারা একে অপরের সাথে মিলে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে, যদি ঘোষনা করে ক্ষমা করে দেন , আমরা সাধারণ জনগণও উনাদের অবদানের কথা বিবেচনা করে সব কিছু ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে নিশ্চয়ই দেখবো। তবে এখানে অবশ্যই বলতে হবে, কোনো খুন খারাপির বিষয়কে অবশ্যই আদালতের মাধ্যমেই সমাধান দিতে হবে, কেননা এটা একেবারেই ভিন্ন বিষয়, এখানে আবার সেই রক্ত এর বিষয় । এই দল আর সেই দল করে যেন এই স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধারা আর অপমানিত না হন, সেটা সবাই মিলে চেষ্টা করুন। সেটাই আমরা সাধারণ জনগণ নিশ্চয়ই দেখতে চাইবো।
মোহন ভাই, ( কামাল সাঈদ ) একজন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, আমেরিকার প্রবাসী । আমার প্রায়শই উনার সাথে টেলিফোনে কথা হয়। বেশিরভাগ সময়ে আমি নিজেই ফোন করি। অনেক কিছু জানতে চাই, বুঝতে চাই। চমত্কার মনের মোহন ভাই, একটুও বিরক্ত হন না। উনি টেলিফোন ধরে এত দ্রুত সালাম বিনিময় করেন যে, উনাকে আগে সালাম দেওয়া আমার জন্য রীতিমতো একটা যুদ্ধ । ধৈর্য ধরে অনেক কিছুই বলেন, সেই সময়ের ইতিহাস, মনের ক্ষোভ , দেশের পরিস্থিতি, আগামীর ভবিষ্যত ইত্যাদি ইত্যাদি । ইউরোপ আর আমেরিকার সময়ের পার্থক্য প্রায় ছয় ঘন্টা । বলা যায়, প্রায় বিপরীত মেরুতে ঘড়ির কাঁটা ঘোরে। আজকের অনেক ভোরে অভ্যাস বসত কফি আর সিগারেট হাতে ফেসবুকে ঢু মেরেছি, ঠিক তখনই মোহন ভাইয়ের ফোন কল। এত ভোরে উনি ফোন করেন না, কেননা আমেরিকায় তখন গভীর রাত। ফোন করেই সেই অভ্যাসের দ্রুত সালাম ( এবারও হারলাম) দিয়েই বললেন , এখানে রাত দুটার বেশি বাজে, আমি মাত্রই হসপিটাল থেকে এসেছি। খোকা ভাই আইসিইউতেই আছেন, তবে ডাক্তাররা তেমন আশাবাদী নন। তবে উনি এখন কিছুটা স্টাবিল। ফেসবুকে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে , উনার পরলোক গমনের কথা । কথাটি ঠিক নয়। আমরা সবাই খোঁজ খবরে আছি, ডাক্তারাও বেশ যত্নশীল এবং আমরা আশা রাখি উনি আমাদের মাঝে ভালো হয়ে ফিরে আসবেন।
এর ঠিক এক মিনিট পূর্বেই আমি কারো ফেসবুক স্ট্যাটাসে ওনার পরকাল সুন্দর হোক সেই কামনা করে কমেন্টস করেছি, দুঃখিত । মোহন ভাইয়ের সাথে অল্প কথায় টেলিফোন শেষ করলাম, কেননা উনি নিজেও রেস্ট নিবেন। টেলিফোন আলাপ শেষ হবার এক মিনিট পরেই , অন্য কারো স্ট্যাটাসে লিখলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ভালো আছেন। খবরের সূত্র উল্লেখ করে। সাদেক হোসেন খোকা সাহেব সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক সেই কামনা করি। আর সব শেষে সরকারকেই বলতে হয়, গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার পাশে দাঁড়ান, উনার পরিবারের পাশে দাঁড়ান, খোলা মনে কথা বলুন। দোষ ত্রুটি এখন বিবেচনায় না নিয়ে, রাজনৈতিক হিংসে বিদ্বেষ বাদ দিয়ে, একজন সত্যিকারের লড়াকু মুক্তিযোদ্ধার সম্মানটুকু শতভাগ দিন, এতে করে সরকারেরই বেশি সুনাম হবে এবং আগামীতে যদি কখনো ভিন্ন সরকার ক্ষমতায় আসে , তাদের জন্যেও একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে ফলাফল যা হবে, সেটা মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানিত হবেন, দলমত নির্বিশেষে । এটা যুদ্ধ জয়ী স্বাধীন দেশের জন্য অতীব প্রয়োজন । সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

বুলবুল তালুকদার
সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম।

