প্রথমেই বলে নেই, প্রথম আলো এবং টিআইবি এই দুটি সংস্থা ভীষণ খারাপ- ক্ষমতায় থাকলে। আবার এই দুটি সংস্থা সব চাইতে ভালো- বিরোধী দলে থাকলে। আমার এই কথা দিয়ে আমি দুটো সংস্থার কোনো একটিকে মহান অথবা চরম খারাপ প্রমাণের চেষ্টা করছি না। এটা আমরা রাজনৈতিক দলগুলো চর্চা থেকে দেখেছি এবং আজ অব্দি দেখছি।
স্বীকার করি আর না করি, প্রথম আলো বহুল প্রচারিত একটি পত্রিকা, এমনকি সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা বলেই খবরে শুনি। পত্রিকার মান কেমন ? কতটুকু সরকার পক্ষ বা কতটুকু নিরপেক্ষ? কিংবা কতটুকু নির্মোহ সত্য পত্রিকা? সেটা আমার আজকের লেখার বিবেচ্য বিষয় না বা আমার দায়িত্বও না। পত্রিকার পাঠকমহল সেটার বিচার বিশ্লষণ করবেন , রায় দিবেন। তবে নিজের দেখা ও বুঝার মাঝে বলতে পারি, এমন মানের আরো অনেক পত্রিকা দেশে থাকলে জনসাধারণের জন্য ভালো হতো, এমনকি দেশের।
মন্দের ভালো থিওরিতে আমার অ্যালার্জি আছে, তারপরেও ক্ষেত্র বিশেষে বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থায় প্রথম আলোও সহ হাতে গুনা দু-একটি পত্রিকাকে মন্দের ভালো বলা যায় । কেননা অনুসন্ধানী রির্পোট কিংবা গবেষণা মূলক রির্পোট আজকাল পত্রিকায় পাওয়া দুষ্কর । সেই দিক থেকে প্রথম আলো অনেকটাই এগিয়ে আছে বলেই মনে হয়। আরো বড় প্রমাণ আজকাল টিভির পর্দায় যত প্যাঁচালশো ( টকশো ) হয়, সেখানে প্রথম আলোর রির্পোট দেখিয়ে একজন আরেকজনকে ঘায়েল করছেন, কিংবা মুখ বন্ধ করে দিচ্ছেন এবং সেটা বেশ বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ বলেই গ্রহণ হচ্ছে । সুতরাং এইসব দেখে বুঝায় যায়, কেন পত্রিকাটি বহুল প্রচারিত । নিশ্চয়ই জনগণ এত বোকা নয় যে, নিজের গাটের পয়সা খরচ করে দিনের পর দিন প্রথম আলো পত্রিকাই কিনে যাবে। শোনা যায় পত্রিকাটি নাকি সরকারি কোনো বিজ্ঞাপনও পায় না। সরকার কিভাবে বিজ্ঞাপন বিলি করে? কোন ক্যাটাগরিতে বিজ্ঞাপন পায় পত্রিকাগুলো , আমি সেটা জানিনা এবং বলতেও পারবো না । তবে কিছু পত্রিকা আছে নাম নাই বললাম, সেই সকল পত্রিকা কেবলমাত্র সরকারি বিজ্ঞাপনেই চলে, জনগণ পকেটের টাকা খরচ করে কিনে না। সেই সকল পত্রিকা হাতে নিলেই পরিষ্কার বুঝা যায়, কেন ? প্রথম আলো সমন্ধে আপাতত এইটুকুই ভাষ্য । আর টিআইবি! সেটাও আলোচ্য বিষয় নয়। গ্রহণ করা আর না করা নিয়ে বলতে গিয়েই টিআইবির কথা চলে এসেছে। একই সূত্রে বলা যায়, টিআইবিও তাহলে সঠিক অবস্থানেই আছে।
প্রথম আলোর কথা কেন বললাম? সেটাই বলি। গত সপ্তাহে প্রথম আলো পত্রিকার কিশোর আলোর পক্ষ থেকে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় এবং সেই অনুষ্ঠানে অনাকাঙিক্ষতভাবে সেই স্কুলেরই ছাত্র কিশোর আবরার বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু বরণ করেন। প্রথমেই বলছি, মর্মান্তিক এবং ভীষণ বেদনাময়। এতবড় একটি প্রতিষ্ঠান, যারা প্রচারে কিশোর/তরুণ/যুবকদের আলোকিত হবার কথা বলেন এবং সেটা নিয়ে কাজও করেন, অথচ তাদের একটি অনুষ্ঠানেই কিনা একটি কিশোরের অপমৃত্যু । আমি অপমৃত্যু বলছি বা অনাকাঙিক্ষত বলছি, কেননা এমন একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একটি কিশোরের বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুবরণ হবে! এটা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং স্পষ্ট করে বলছি, এটার জন্য সর্ব প্রথম প্রথম আলোকেই সমগ্র দায়ভার নিতে হবে । কেননা তারা অনুষ্ঠানের প্রথম পক্ষ।
এবার আসি ঘটনার মূল আলোচনায় । মূল আলোচনা বলতে কি ঘটেছিলো তা নয়,, কি ঘটছে ? কি ঘটেছিলো তা ইতিমধ্যেই মোটামুটি সবার জানা আছে। মূল কথা হলো একটি কিশোর ছেলের মৃত্যু । এখন চলছে এই মৃত্যুকে সামনে রেখে নানান খেলা। এটা স্পষ্ট যে প্রথম আলো কর্পোরেট বানিজ্যের বাজারে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা করে কিনা জানিনা, তবে ব্যবসা থাকলেও থাকতে পারে। তবে অবশ্যই প্রথম আলো কোনো অবস্থাতেই একটি কিশোরকে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হত্যা করতে চায় নি। এটা হয়তো বা দায়িত্ব পালনের অবহেলা নিশ্চয়ই ছিলো। সেটার জন্য নিশ্চয়ই মামলা হওয়া উচিত এবং হয়েছেও বটে। এখানেই সেই খেলাটির শুরু।
মামলাটি হলো , এটা কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং হত্যা । কেন হত্যা? বিষয়টি ছোটো ছোটো করে কয়েকটি ভাগে দেখার চেষ্টা করি। যুক্তিগুলো হলো, ছেলেটির মৃত্যুর খবর জানার পরেও অনুষ্ঠান শেষ অব্দি করা হয়েছে। ছেলেটিকে কেন পাশের হাসপাতালে না নিয়ে দুরের এবং অনুষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলো? এখানে বানিজ্য জড়িত ! কেননা পাশের হাসপাতালে নিলে তাদের আলাদা খরচ দিতে হতো।
প্রথম আলোর উত্তরে দেখলাম ভিন্ন কিছু । সময় উল্লেখ করে বলছে, কখন খবর পেয়েছিলো, কখন অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। দুটোর মধ্যে গড়মিল আছে। তাদের ভলান্টিয়াররা ছেলেটিকে অনুষ্ঠান স্থলে স্থাপিত ফাস্টএইড ( প্রাথমিক চিকিৎসা) স্থলে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তাররা প্রথম দেখেন এবং ডাক্তারের ভাষ্য (৭১ জার্নালে) ছেলেটিকে যখন আনা হয়, সে মৃত ছিলো। তারপরেও শেষ আশা থেকে ( ডাক্তারি ভাষা ভিন্ন) অ্যাম্বুলেন্সে যাবতীয় চিকিৎসা প্রদান অব্যাহত রেখেই, ছুটির দিন বলেই তাদের নিজস্ব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যেহেতু ডাক্তার নিশ্চিত ছিলেন , ছেলেটি ইতিমধ্যেই মৃত , ধারণা করি সেই কারণেই পাশের হাসপাতালের চিন্তা তাদের মাথায় আসেনি ( এটা কেবল ধারণা মাত্র)
ছেলেটি কি সেই স্কুলের ছাত্র ছিলো কিনা ? সেটাই নাকি বুঝা যায় নি, কেননা তার পড়নে কোনো স্কুল ড্রেস ছিলো না। পরবর্তীতে পকেট থেকে স্কুল আইডি কার্ডের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, সে এই স্কুলেরই ছাত্র ছিলো। এখানেও একটি বিরম্বনা আছে। বিরম্বনাটি একটি কিশোরের মৃত্যু হয়েছে অনুষ্ঠান স্থলে ( হোক বাহিরের ) অনুষ্ঠান বন্ধ করা উচিত কিনা ? যদি প্রথম আলো সত্যি নিশ্চিত হয়েও অনুষ্ঠান বন্ধ না করে থাকে, তাহলে অবশ্যই শতভাগ প্রথম আলোর অন্যায় । প্রথম আলো বলছে ভিন্ন কথা। সাথে সাথে কেন স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় নাই? সেই একই সমস্যা । এমন অবস্থায় কে স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা করে কর্মযজ্ঞ করতে পারে? কোনটা আগে জরুরি? ছেলেটি ট্রিটমেন্ট না কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ?
ভলান্টিয়ার ফোনে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে ( সময়ের হেরবফের আছে ) কেন প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ এই কাজটি করলো না? ভলান্টিয়ার দায়িত্ব পালন করেছে, এটা কি ভুল কিনা জানিনা । তবে অবশ্যই সেখানে প্রথম আলোর কর্তৃপক্ষের কারো থাকা উচিত ছিলো। হ্যাঁ ছিলো, ডাক্তার ও ভলান্টিয়ার তো তাদের কাজেই নিয়োজিত ছিলো। কর্তৃপক্ষ বলতে কি প্রধান কাউকে বুঝানো হচ্ছে কিনা? জানিনা। এখন প্রশ্ন হলো, প্রথম আলোর হয়ে ভলান্টিয়াররাই দুর্ঘটনা দেখবালের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেই কর্তৃপক্ষ কিনা ?
সেই অনুষ্ঠান স্থলে দুপুর থেকেই ছাত্ররা বারবার বিদুৎস্পর্শে এসেছে এবং তা অনুষ্ঠানের কর্তৃপক্ষে অভিযোগ করা হয়েছে। এটা কেমন জানি পুরো সত্য বলে মনে হচ্ছে না। কেননা, এমন ঘটনা ঘটবে, আর কর্তৃপক্ষ কিছুই করবে না ! আর বিদুৎস্পর্শে মৃত্যুর ভয় কি কর্তৃপক্ষের থাকে না ? সুতরাং এটা অনেকটাই অসত্য বলেই মনে হচ্ছে।
ছলেটির মৃত দেহ কবরস্থ করা হয় মধ্যে রাতে । বলা হচ্ছে প্রথম আলো ঘটনা ধামাচাপা দেবার জন্য মধ্যে রাতে কবরস্থ করা হয়েছে। আসলেই কি তাই ? নাকি লাশ রাতে রাখার বন্দবস্ত ছিলো না ? সেই কারণেই মধ্যে রাতেই হয়েছে? পরিবারে পক্ষ কেন হতে দিলো ? লাশ কবর দেবার সময় কি স্কুল কর্তৃপক্ষের কেউ ছিলো ? যদি থেকে থাকে, তাহলে তাদের কি কোনো দায়িত্ব ছিলো না ? এখানে আবার স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্বিচারিতা পাওয়া যায় ।
প্রথম আলো বলছে , ছেলের পরিবারের কোনো ভাষ্য নেই, দুর্ঘটনা হিসেবি মেনে নিয়েছে। এটার ব্যাখ্যা প্রথম আলো ও ছেলের পরিবার কে স্পষ্ট করতে হবে।এখন মামলা হয়েছে, চারদিন পরে ! এখন বলা হচ্ছে থানায় মামলা নেওয়া হয়নি ( ৭১ টভির খবর) । প্রথম আলোর প্রভাবেই থানা মামলা নিতে বাঁধা দিয়েছে ! প্রশ্ন হলো, প্রথম আলোর কি সত্যি সত্যি এত ক্ষমতা ? থানা কি প্রথম আলোর হুকুমে চলে ? তাহলে তো মহা বিপদ।
চারদিন পরে এসে স্কুল কর্তৃপক্ষে হুঁশ হয়েছে, স্কুলের প্রিন্সিপাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ বলেন কিশোর আলোর কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ দায়ভার নিতে হবে। অমরাও তাই মনে করি। প্রাশ্ন হলো আপনি চারদিন পরে টের পেলেন বিষয়টি । অথচ সাথে সাথে কেন প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর খবর জানালো না ? সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ! প্রথম আলো এ ব্যপারে এখনও কিছু বলে নি। এরকম অনেক প্রশ্ন তোলা যায় এবং উচিত সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই।
একটু প্রথম আলোর কর্মকা দেখি: প্রথম আলো অনুষ্ঠানের খবর পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় করে ছেপেছে, অথচ আবরারের মৃত্যুটি ছেপেছে সাত নাম্বার পাতায়! এটা কেমন সাংবাদিকতা ? এটা কি কিছু লুকানো চেষ্টা, না এখানেও খামখেয়ালিপনা ? যত কিছুই হোক একটি কিশোর অনুষ্ঠান স্থলে মারা গেছে , তাও আবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, এটা স্পষ্ট যে , সেখানে আপনাদের শতভাগ সঠিক ব্যবস্থাপনা ছিলো না। আপনাদের চরম অবহেলা আর অব্যবস্থাপনাতেই একটি কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এখানে বলা ভালো যে, যারা বিদুৎ সংযোগ দিয়েছেন, তাদেরকেউ এখানে দায়িত্ব নিতে হবে।
আজকেই সরকার প্রধান বলেছেন এটা দায়িত্ব অবহেলা থেকে হত্যা হয়েছে, এটার সমাধান হতে হবে। অবশ্য, আমরাও চাই । প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অনুষ্ঠান আয়োজন করে, তাদের একটা দায়িত্ব থাকে। রেসিডেন্সিয়ালে একটা ঘটনা ঘটলো। আয়োজকরা এটাকে এতটা নেগলেক্ট করেছে! বাচ্চাটা মারা গেছে, এরপরও ঘটনাটা চাপা দিয়ে অনুষ্ঠান চালিয়ে গেছে। ধানমন্ডিতে এতোগুলো হাসপাতাল, তবুও মহাখালীতে নিয়ে গেলো। প্রথম আলো এই ধরনের একটা ঘটনা কীভাবে ঘটায়? তাদের কোনও দায়বদ্ধতা নেই? ছোট ছোট বাচ্চারা এখানে পড়াশোনা করছে। তাদের নিরাপত্তা না দেখা এটাও তো গর্হিত অপরাধ। এটা তো বরদাশত করা যায় না।’
এই হত্যাকে বুয়েটের আবরার হত্যার সাথে তুলনা কতটা সঠিক? অথবা কতটা যুক্তিযুক্ত? ৭১ টিভি প্রশ্ন তুলেছে ( ৭১ জার্নালে) বুয়েটের আবরার হত্যায় যতটা সরব ছিলো সবাই এখানে কেন নয়? তাদের প্রশ্ন শুনে মনে হচ্ছে এখানে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে। কে করছে? কেন করছে ? সে বিষয়ে ব্যাখ্যা নাই ! ৭১ টিভিতে দেখলাম এমন তুলনা চলছে । এই টিভি চ্যানেলটি এই হত্যা বিষয়ে এমনভাবে পর্যালোচনা করছে বা প্রশ্ন করছে, শুনে কারো মনে হতেই পারে , যেন একটি এজেন্টের হয়ে কাজ করছে! গত তিন দিনের ৭১ জার্নাল শুনে দেখুন, আমার কথা অমিল পাবেন না ।
আচ্ছা প্রশ্ন করা যাবে কি, যদি প্রথম আলো না হয়ে এখানে সরকারি অথবা সরকারের প্রভাবশালী কোনো সংস্থার অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটতো, তাহলেও কি ৭১ টিভি এমনভাবেই হত্যাটি নিয়ে পর্যালোচনা করতো? নাকি, শ্রেফ দুর্ঘটনা বলেই শেষ করে দিতো? আমার খুব ভালো লাগছে, ৭১ টিভি এই হত্যা বা দুর্ঘটনা নিয়ে বেশ তত্পর । প্রথম আলো না হয়ে ভিন্ন কারো যদি ভবিষ্যতে এমন কিছু হয় ( অবশ্যই আমরা সেটা চাই না ) তাহলেও নিশ্চয়ই আমরা ৭১ টিভিকে এত শক্তভাবেই পাবো। শতভাগ নিরপেক্ষ টিভি চ্যানেল বলে কথা।
এই কিশোর আবরার হত্যা বা দুর্ঘটনা গিয়ে এখন আদালতে গড়িয়েছে। এটাই স্বস্তির বিষয় । অনেক শত প্রশ্ন তুলা যায় এবং মামলার স্বার্থেই নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে সে প্রশ্ন উঠবে। দুর্ঘটনা বা অবহেলার কারণে হত্যা, যাই হোক, সেটার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচার আদলতের মাধ্যমেই হোক সেটাই আমাদের কাম্য । এই কিশোরটির মৃত্যু নিয়ে অন্যান্য অনেক সাংবাদিকদের তেমন সরব হতেও দেখা গেলো না! প্রশ্ন উঠবেই, তাহলে কি প্রথম আলো বড় প্রতিষ্ঠান, এখানে কি কোনো কারণ আছে সাংবাদিকদের ? নাকি নিছক দুর্ঘটনা বলে অন্য সাংবাদিকরা তেমন বেশি বলছেন না? আমরা সাধারণ জনগণ আশা করি আদালতের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু বিচার এবং ভবিষ্যতে সকল প্রতিষ্ঠান এমন সব অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে শতভাগ সতর্কতা অবলম্বন করে। আমাদের আবার যেকোনো কর্মে অবহেলা জনিত রোগটি একটু বেশিই বলে মনে হয়। কিছু ঘটে গেলে আমাদের হুঁশ হয়। কথায় বলে চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে! এটা মেনে নেওয়া যায় না। দেশে শত শত এমন অনুষ্ঠান হয়। আজকে প্রথম আলোর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে, আগামীকাল অন্য কারো ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। প্রথম আলোর এমন অনুষ্ঠান এটাই প্রথম না। এবার এমন ঘটেছে বলেই আমাদের টনক নেড়েছে! যদি পূর্বের মত এবারো কিছু না ঘটতো, তাহলে সব একই রকম চলতো। অবহেলা আর অসাবধানতা ! আজকে আবরারের মৃত্যু,আগামীকাল অন্য কারো! এটা হতে পারে না।
কারো প্রভাবে যেন একটি পত্রিকাকে হেনস্থা হতে না হয়। কেন এই হেনস্থার কথা বললাম, সে কথা লেখার শুরুতেই উল্লেখ করেছি। আমরা আবার জাতি হিসেবে একটু বেশিই প্রতিহিংসা পরায়ণ কিনা ! আবার ক্ষমতার ব্যবহারও ভালোই জানি। ক্ষমতার অপব্যবহার আমরা নিশ্চয়ই কেউ কামনা করি না, যদিও সেটাই বেশি পরিলিক্ষত হয়।

বুলবুল তালুকদার
সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম

