গত কয়েকদিন ধরে ফ্রাঙ্কফুর্টে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক গাড়ীর মেলা , মেলাটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গাড়ির মেলা এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় । মেলার আয়োজন এত ব্যাপক যে মেলাটি দেখতে ইউরোপ তথা সারা পৃথিবী থেকে মানুষ জড়ো হয়েছে ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে । এই মেলাটি পর্যবেক্ষণের জন্য শুদ্ধস্বরের পক্ষ থেকে হাবিব বাবুল এবং মাহাবুবুল হক মেলা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন , তারা মেলা পর্যবেক্ষণ করেন । মেলাটির বিস্তারিত দিক পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হোল ।
বর্তমানে সারা বিশ্বে যে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে তার সাথে সঙ্গতি রেখে বর্তমান সময়ের পেট্রোল চালিত গাড়ির পরিবর্তে বিদ্যুৎ চালিত গাড়ী গুলোকেই তারা প্রধান্য দিয়ে মেলায় প্রদর্শন করছে । এই গাড়ী গুলি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে , দর্শকদের আগ্রহ এই গাড়ী গুলির প্রতিই বেশী । কিন্তু জার্মান হাইওয়ে তে বিদ্যুৎ চালিত গাড়ীর চার্জ করা সুবিধা না থাকায় বর্তমানে এই গাড়ী গুলি বিক্রি করা কঠিন হয়ে পরেছে , এমনটিই জানিয়েছেন গাড়ির প্রস্তত কারকরা শুদ্ধস্বর ডট কমকে ।

এই মেলার উদ্বোধন করেন জার্মান চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেল, উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বলেন বৈদ্যুতিক গাড়ীর গতিশীলতার সাফল্যের জন্য চার্জইং অবকাঠামো নির্মাণ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ । যানবাহন মন্ত্রণালয় থেকে এক জরিপ করে দেখা গেছে বিদ্যুৎ চালিত গাড়ী গুলি নির্বিঘ্নে চালাতে হলে কমপক্ষে ২০০০০ হাজার চার্জইং পয়েন্টের প্রয়োজন । চ্যান্সেলর মার্কেল আরও ঘোষণা করেন ২০২২অসালের মধ্যে সমস্ত মহাসড়কে ৫ জি সটানডার্ট পাওয়া যাবে, যাতে নতুন গাড়ী গুলোর ডিজিটাল ক্রিয়ায় বিঘ্ন না ঘটে ।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন পরিবেশের বিশুদ্ধতা রক্ষার ২০২০ সালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল কিন্তু তা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৩০০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা দিতে হয়েছে , ২০৩০ সালের মধ্যে বর্তমানের দুষিত বায়ু কমপক্ষে ৩০ পার্সেণ্ট কমাতে হবে , এটা করতে না পারলে ৩ বিলিয়ন পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে । এই লক্ষ্য অর্জনে ২০৩০এর মধ্যে বায়ু কে বিশুদ্ধ রাখার জন্য এবং বিভিন্ন খাতে সরকারের প্রয়োজন হবে ৩০ বিলিয়ন ইউরো ।
জার্মান গাড়ী প্রস্তুতকারীরা এই বিষয় সামনে রেখে বিশুদ্ধ পরিবেশের কথা চিন্তা করে প্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনছে । এ ই মেলায় আমরা বিভিন্ন কোম্পানির কর্মকর্তাদের সাক্ষাতে এই তথ্যগুলিই সবচেয়ে বেশী পেয়েছি ।
মাহাবুবুল হক , বিশেষ প্রতিবেদক
শুদ্ধস্বর ডটকম ।

