মনমোহন বলেন, ‘এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, যে ভারত অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকটা সময় নষ্ট হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এবং নোটবাতিলের মতো বিষয়ে সময় নষ্ট না করে কেন্দ্রের উচিত পরিকাঠামোগত সংস্কারে মন দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’ তিনি এও বলেছেন, এই মুহূর্তে সরকার বিবেচকের মতো কাজ না করলে বেহাল অর্থনীতি আগামী কয়েক বছর আরও ভোগাবে।
১- জিএসটিকে আরও বাস্তবমুখী করতে হবে। তাতে রাজস্ব আদায় কম হলেও তা হবে সাময়িক।
২- বাজারে নগদের জোগান কীভাবে আরও বাড়ানো যায় সেদিকে নজর দিতে হবে।
৩- কৃষিক্ষেত্রকে চাঙ্গা করা এবং গ্রামীণ উপভোক্তাদের পরিধি বাড়ানো। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ, এ বিষয়ে কেন্দ্র সরকার কংগ্রেসের ইস্তেহার দেখতে পারে। সেখানেই কৃষিক্ষেত্রকে চাঙ্গা করার উপায় বলা আছে।
৪- বস্ত্র, গাড়ি, ইলেকট্রনিক্স শিল্প ও রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রের পুনরুজ্জীবন দরকার। এসব শিল্পে কুটির-ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোগপতিরা যাতে সহজে ঋণ পান সেদিকেও নজর দিতে হবে।
৫- আমেরিকা-চিনের ট্রেড ওয়ারের ফলে বাণিজ্যিকভাবে অসুবিধায় পড়েছে ভারত। এখন দেশের উচিত আমদানির নয়া ক্ষেত্র খুঁজে বের করা।
উল্লেখ্য, মনমোহন সিং নিজেই বিশ্বের প্রথম সারির অর্থনীতিবিদদের অন্যতম হিসেবে গণ্য। তাঁর হাত ধরেই ভারতীয় অর্থনীতির উদারীকরণ হয়। মনমোহন প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি ১০ শতাংশ ছাড়িয়েছিল। যা এখনও রেকর্ড। তিনি অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন ১৯৯১ সালে ভারত এবং ২০০৮ সালে বিশ্বজোড়া অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব কাটিয়ে উঠেছিলেন সেকথাও তিনি তাঁর সাক্ষাৎকারে নরেন্দ্র মোদিকে স্মরণ করিয়ে দেন।
শুদ্ধস্বর/আইপি

