প্রেসিডেনট জিয়ার থিওরিই বর্তমান গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ

  • ” মানি ইজ নো প্রবলেম ” –  জিয়া 
  • ” আই মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর দি পলিটিশিয়ান “-  জিয়া ।

রাজনীতি সচেতন সকলেরই নিশ্চয়ই বাণী দুটো জানা। যে যত কথাই বলুক আর যত যুক্তিই দিক না কেন, বাস্তবতা হলো স্বৈরাচারের পিওর  সংজ্ঞানুযায়ী এই স্বাধীন দেশের প্রথম স্বৈরশাসক মেজর জিয়া। ৭৫ থেকে পরবর্তী যত ইতিহাস, পরিস্থিতি,দেশের অবস্থা, যতকিছুই যুক্তির সার্কেলে টেনে এনে যুক্তি দেওয়া হোক না কেন, তারপরেও মহা ভারতের মত মহাসত্য হলো ” জিয়া” এই দেশের প্রথম স্বৈরশাসক। যদি বর্তমান সংসদে সকলে মিলে সংবিধান পরিবর্তন করে এবং সাংবিধানিক ভাবে আগামীতে আর্মি থেকে আগত কোনো উর্দি পড়া ব্যক্তি যদি ক্ষমতা দখল করে , সেটা স্বৈরাচার সরকার হবে না বলে লিখিত আইন করে, তারপরেও জিয়া হবেন এই স্বাধীন দেশের প্রথম স্বৈরশাসক।  কেননা সাংবিধানিক বিষয় বা আইনি বিষয় পরিপূর্ণতার পরেও  পিছনে ফিরিয়ে নিয়ে শুরু করা যায় না। সুতরাং সূত্র মানলে, জিয়া হবেন এই দেশের  প্রথম স্বৈরশাসক।

আজকের লেখার বিষয় বস্তু মোটেও সরলীকরণ করছি না। প্রেসিডেনট জিয়া কি ধরনের শাসক ছিলেন বা তার আমলে দেশে খাল কেঁটে কুমির আনা হয়েছিলো না জল ধরে রাখা হয়েছিলো? তা আমার বলার উদ্দেশ্যে নয়। অনেকেই ভাববেন, আমি প্রেসিডেনট জিয়া কে বলছি দেশের প্রথম স্বৈরশাসক অথচ লেখার সময় লিখছি প্রেসিডেনট জিয়া । সত্য হলো উনার উপরের ভাষ্য দুটি প্রেসিডেনট থাকা অবস্থায় , সেটা যেভাবেই হোক। এখানে আবার দয়া করে কেউ এরশাদকে টেনে আনবেন না। কেননা মানুষজাত স্বভাব হলো একটার সাথে ভিন্নটার যোগসূত্র টেনে এনে উদহারণ তৈরি করা, আমি বলছি না এটা খারাপ, তবে এরশাদের ব্যাপারে আমার সরাসরি নিজস্ব মতামত আছে। যাহোক জিয়ার উপরের দুটি বাণীর কথায় যাবার আগে ভিন্ন একটি কথা বলে নেওয়া ভালো। তবে সেটার বিস্তারিত ব্যাখ্যায় আজকে যাবো না, তবে সময় করে লিখবো। বিষয়টি হলো জিয়ার করা পঞ্চম সংসধোনী আমাদের আদালত বাতিল ঘোষণা করেছে বটে তবে অনেক কিছু রেখে দিতে বাধ্য হয়েছে। আদালত যখন দেশের স্বার্থে কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়েছে, তাহলে বলতেই হয়, সেখানে এমন কিছু বিষয় ছিলো যা শতভাগ দেশের জন্য প্রয়োজনীয় ছিলো। এমনকি সেই বিষয়গুলো আদালত বাতিল করলে , দেশে সাংবিধানিক সমস্যার সৃষ্টি হতো, যা কিনা কারো পক্ষেই সমাধান দেওয়া সম্ভব হতো না। যেমনটি একবার এরশাদ পতনের পরে হয়েছিলো, সেটা কিন্তু সম্ভব হতো না। সেই সূত্রে বলতেই হয় জিয়ার ক্ষমতায়নের সময় সব ফেলনা হতে পারবে না। এখানে আবার বলি বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে, তবে এখানেই আপাততঃ থামলাম ।

এখন আসি জিয়ার ” মানি “ এর বিষয়ে। জিয়ার ঘোষণার মানি ইজ নো প্রবলেম, এখন যেন বর্তমান গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে! লক্ষ্যণীয় যে , বর্তমানের রাজনীতি সত্যি সত্যি মানির উপর নির্ভরশীল। বিভিন্নভাবে দেখা যেতে পারে। রাজনীতি করলেই মানি আর মানি , তবে হতে হবে ক্ষমতার সঙ্গী । আবার বিনা মানিতে রাজনীতি এক বিন্দুও আগায় না। সেটা যে দলই হোক। মানি ছাড়া দলগুলো যেমন বামেরা হাহুতাশে আছে, এটাই তার বড় প্রমাণ । যদিও যারা আর্দশকেই প্রধান বলে দেখতে চায় । তবে বর্তমান রাজনীতির পরিস্থিতিতে একেবারেই হিমসিম খাচ্ছে সেই মানির কাছেই। জিয়ার মানি ইজ নো প্রবলেম ছিলো, দল ও দেশ গড়া নিয়ে । বলতেই হয় , জিয়া সেই সময়েই উপলব্ধি করেছিলেন, এই উপমহাদেশের মানুষের রক্ত এবং মানসিকতাকে, তাই একেবারে জায়গা মত  হাত দিয়েছিলেন, সেই মানিতে । লক্ষ্যণীয় যে জিয়ার সেই মানি থিওরি রাজনীতির এখন প্রধান স্তম্ভ । কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক আওয়ামী লীগের মত এত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দলও জিয়ার মানি থিওরিতেই চলছে। রাজনীতি চলছে, মানি ইনকাম হচ্ছে, দেশের বাকি সব গোল্লায় গেলেও সেই দিকে চোখ কান নাই বর্তমানের গণতন্ত্রে। তাই জোর গলায় বলাই যায়, জিয়ার মানি থিওরি বর্তমান গণতন্ত্রের শক্তিশালী একটি স্তম্ভ ।

এবার আসি জিয়ার ” ডিফিকাল্ট পলিটিক্স “ এর কথায় । এই বিষয়ে বেশি বলার প্রয়োজন হবে না। জিয়া বলেছিলেন, আমি রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে তুলবো। বর্তমানের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জিয়ার এই থিওরি শতভাগ গ্রহণ করেছে বলেই মনে হচ্ছে। বর্তমান সরকার রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্য এতটাই কঠিন বা ডিফিকাল্ট করে ফেলেছে যে , সেখান থেকে চাইলেও অতি সহজে ফিরা কঠিন হবে। উদহারণ শত শত দেওয়া যাবে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো লড়াই সংগ্রাম করা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল বর্তমানে স্বৈরাচার জিয়ার থিওরি শতভাগ মেনে চলছে ! শাসক গোষ্ঠী বর্তমানে যেনতেন ভাবে যা ইচ্ছা তাই করে চলছে এবং করতে পারছে, তার মূল কারণটি হলো সেই জিয়ার পিওর থিওরি অনুযায়ী । রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্য সত্যি ডিফিকাল্ট করা হয়েছে।  ফলাফল :  পলিটিক্স ইজ নাও পলিট্রিক্স ।

লেখার শেষে গণতন্ত্রের পিতা আব্রাহাম লিঙ্কনের সেই ” অফ দা পিপল, বাই দা পিপল, ফর দা পিপল ”  বর্তমানে বাংলাদেশের গণতন্ত্রেও আছে । তবে সেটা হয়ে গেছে জিয়ার পিওর থিওরিতে,  ” অফ দি জিয়া, বাই দা জিয়া, ফর দা জিয়া  “!!! কাকে ধন্যবাদ দেবো ? জিয়া কে না আওয়ামী লীগ কে ?

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার

সহকারী সম্পাদ,শুদ্ধস্বর ডটকম 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.