গতকালই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফিইনল্যান্ড এর হেলসেন্সস্কি থেকে দেশে এসে পৌঁছিয়েছেন। উনার বিদেশ ভ্রমণে পাইলটের পার্সপোট কাহিনী দেশকে একটু নাজেহাল হতে হয়েছে, তারপরেও ভালো খবর যে এরকম অবহেলার কারণে ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিচালক কামরুজ্জামান কে অন্তত সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে আমাদের দেশে বরখাস্ত পর্যন্তই বিচার ! আসলে বিচার নিয়ে কথা বলতে হলে, কোনো কুল কিনারা পাওয়া বর্তমানে ভীষণ মুশকিল বটে! তারপরেও স্বজ্ঞাণে বিচার নিয়ে কথা বলতেই হবে । তাই আজকেও বিচার সুত্রের কাহিনীকেই সামনে এনে বর্তমানে দেশের গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতার নাজেহাল পরিস্থিতিতেও স্বরণ করিয়ে দিয়ে আরো একটি কঠিন বিচারের কথাই বলবো।
সমস্যা হলো বিচার যার নিকট চাওয়া হয়, অন্তত সেই বিচারককে ন্যায় বিচারক, ন্যায় প্রয়াণ, ন্যায় নিষ্ঠাবান, ন্যায় নীতিবান, ন্যায় নীতিবোধ, সত্যবতী, সত্যবাদিতা এবং শতভাগ সত্যেতা থাকতে হয়। এই বিশেষন গুলো সব বাদ দিয়ে কেবলমাত্র একটি উপসর্গ ” বলিষ্ঠতা “ এটার উপর নির্ভর করেই আজকের এই বিচারের কথা বলা। আর সেটা হলো দূর্ণীতিবাজদের বিচার।
লক্ষ্যণীয় যে , আমি স্বজ্ঞাণেই বিচারকের সকল উপসর্গ বাদ দিয়ে বলিষ্ঠতাকেই জোর দিচ্ছি কারণ এই বলিষ্ঠতা একেবারেই জলের মত সচ্ছ এবং প্রমাণিত । সেই প্রমাণিত সত্যেটি হলো ” যুদ্ধাপরাধীদের বিচার”। যদিও সেটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নামে মূলত ৭১ এ দেশ বিরোধী বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারই হয়েছিলো। যদিও ট্রাইবুনালে বিচারক নিয়োগ শুরুতেই একটি ঘাপলা লেগেছিলো, তারপরেও সেটাকে কাঁটিয়ে উঠে কিছু বড় বড় চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির কাষ্ঠে উঠিয়ে ম্যানিলা রশিতে ঝোলাতে পেরেছিলো। আর সেই কাজটি হয়েছিলো দেশের একমাত্র ব্যক্তিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠতার কারণেই। এখানেই ফুলপ্রুফ ফুলস্টোপ দিচ্ছি।
লক্ষ্য করুন, আমি শেখ হাসিনার বলিষ্ঠতা বলে, জেনে বুঝেই ফুলপ্রুফ ফুলস্টোপ দিলাম। তার সুস্পষ্ট কারণ, সেই সকল চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের সাধারণ মৃত্যু হয়ে যেতো যদি , শেখ হাসিনা তার বলিষ্ঠতায় সঠিক অবস্থানে না থাকতে পারতেন। আবার বলি এবং জোর গলায় বলছি, একমাত্র শেখ হাসিনা মন থেকে চেয়েছিলেন বলেই ওদেরকে ফাঁসিতে ঝোলানো গেছে। এই কাজটি ব্যক্তিগতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী না চাইলে কখনোই এদেশে হতো না। এই কাজটি কেউ এ দেশে করতেও পারতেন না। এমনকি স্বয়ং শেখ সাহেবও করতে পারতেন না। কেননা শেখ সাহেবের দয়ালু মন এই কাজটি করতে দিতো না, অনেক প্রমাণ আছে। আমি বলছি না, শেখ হাসিনা দয়ালু নয় । তবে একথাটিও মহা ভারতের মত সত্য ১৫ আগস্টের মত ঘটনা শেখ হাসিনাকে কঠিন হতে নিশ্চিত সহায়তা করেছে। একবার ভাবুন, এরকম ঘটনা যে কারো জীবনে ঘটলে মনটা কি শীলপাথরের মত কঠিন হতো কিনা ?
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সেই কঠিন মন থেকেই শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে বলিষ্ঠ থাকতে পেরেছিলেন। অনেকেই রাজনৈতিক শত প্রশ্ন তুলবেন বা তুলতে পারেন, আশ্চর্য হবো না। শত রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে ,ভবিষ্যতেও উঠবে এবং উঠুক, তাতে কিছুই যায় আসে না। মূল বা আসল ব্যাপারটি হলো তাদেরকে ফাঁসিতে ঝোলানো গেছে। আমি আরো মনে করি, গোলামা আজমকেও যদি ফাঁসির রশিতে ঝোলানো হতো , তাহলে আরো বেশি কার্যকর হতো। এই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি নিয়ে শতকথা ভবিষ্যতে হবে, হোক, কাজের কাজ হয়ে গেছে।
এই কাজের কাজ, সেখানেই ঘুরেফিরে আসতে চাচ্ছি। মাননীয় শেখ হাসিনা দূর্ণীতিবাজদের কঠিন বিচার করবেন বলে বেশ অনেকবার উচ্চারণ করেছেন। ঈদ পূর্ববর্তী পত্রিকার পাতায় পড়েছি, ঈদের পরে দূর্ণীতির বিরোধী চিরুনি তল্লাশি চালানো হবে। চিরুনি তল্লাশি চালানো হয় লুকায়িত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে । কিন্তু আমাদের দেশে বড় বড় দূর্ণীতিবাজরা তো আর লুকায়িত নয়! এরা সমাজে প্রকাশ্যে বড় বড় দূর্ণীতিবাজ সন্ত্রাসী। এমনকি এরাই বেশি সরকারে এবং প্রশাসনে আছে, এটা বলতে মনে হয় কোনো দালিলীক প্রমাণ বলতে হবে না। যুদ্ধাপরাধীরা যেমন প্রকাশ্যে ছিলো, বড় বড় দূর্ণীতিবাজরাও সমাজে প্রকাশ্যে আছে। সত্যি বলতে দেশ এখন দূর্ণীতিতে যে অবস্থানে চলে গেছে, এটার একটা বিহিত করার চুড়ান্ত সময় এখন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কিভাবে ভোট হয়েছে বা কিভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন? সেই দিকে আমি এই মূহুর্তে যেতে চাচ্ছি না। তবে একথা জোর গলায় বলা যায়, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলে দেয়, এই সরকার আগামীর সময় কালের ক্ষমতায় থাকবেই। হাতে এখনও চার বছরের বেশি সময় । সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার বলিষ্ঠতা দিয়ে দেশের বড় বড় দূর্ণীতিবাজদের বিচারটি দ্রুতর শুরু এবং শেষ করুন । এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে যা শুরুই হয়নি, তার শেষ হবার কথা কেন বলছি? হ্যাঁ, সেখানেই আমার বলা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি অন্তত কিছু চিহ্নিত বড় বড় দূর্ণীতিবাজদের ম্যানিলা রশিতে দ্রুতর ঝোলান ( যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে ফাঁসির বিরুদ্ধে, তবে দেশে এখনও ফাঁসি আইন বলবত আছে ) । যে যত কথাই বা রাজনীতি করুক, সত্য হলো যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিতে ঝোলানোতে, আপনার প্রতি জনমানুষের একটা আস্থা এসেছিলো । আপনি চাইলেই পারেন। সুতরাং সেইরকম আরো একটি উদহারণ তৈরি করুন, যাতে দেশের এই রাঘব বোয়াল দূর্ণীতিবাজরা দূরীভূত হয় বং দেশ কিছুটা হলেও শান্তি পায়, যেমনটা পেয়েছিলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে।
আপনার বাবা এদেশের মহান পুরুষ, দেশ স্বাধীনতার নায়ক ছিলেন। বর্তমানে আপনি ওনার চেয়েও বড় পাহাড় সম ক্ষমতার অধিকারী বলেই মনে হয়। এই ক্ষমতাকে দেশের জন্য একটি বড় এবং ভালো কাজে নিয়োজিত করুন। এই সকল কুলাঙ্গার দূর্ণীতিবাজরা দেশের জন্য যুদ্ধাপরাধীদের চেয়েও ভয়ঙ্কর! দ্রুত এবং অতি দ্রুত এদেরকে ( অন্তত বড় বড় কয়েকটা) ম্যানিলা রশিতে ঝোলান। জনমানুষেরা আপনাকে মনে এবং মাথায় রাখবে আজীবন। আপনি কথা দিয়েছেন, দূর্ণীতিবাজদের কঠিন বিচার করবেন, আপনার বাবার সোনার বাংলা গড়বেন। সোনার বাংলা গড়তে হলে এদের বিচার কঠিন থেকে কঠিনতর ভাবে করলেই সোনার বাংলার পথে দেশ এগিয়ে যেতে সহায়ক হবেই হবে। যদি এই কাজটি আপনার বলিষ্ঠতা দিয়ে, সত্যিকারের কিছু (দলমতনির্বিশেষে) দূর্ণীতিবাজদের বিচারটি করেন, তাহলে জনমানুষের মনে আপনার দল এবং সরকারের অনেক অপকর্মের অনেক প্রশ্ন থেকে রক্ষা পাবে বলেই মনে করি এবং আপনার বাবাকে ছাড়িয়ে দেশের উপকারের মহত্ত্বতা নিশ্চিত পাবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সময়ের কাজ সময়েই শেষ করতে হয়, সেটা আপনার চেয়ে ভালো কয়জন বুঝে ? আর সময় সব সময় সাথে থাকে না, সুতরাং ইংরেজির পরিচিত ও প্রথিতযশা বাক্য ” থিং টুয়াইস্ “ ভালো করে দ্বিতীয়বার ভাবুন ।

বুলবুল তালুকদার
সহকারী সম্পাদক ,শুদ্ধস্বর ডটকম

