একবার ভাবুনতো :
মহান শক্তিমান আল্লহ তাআলার নাম নিয়ে একটি দশ বছরের শিশুকে শান ধারিত তরবারি দিয়ে খোলা মাঠে হাজারো জনতার সামনে “আল্লহ হুআকবর” বলে শীরছেদ করা হচ্ছে ! ভাবুনতো, সেই শিশুটি আপনার । কেমন লাগবে আপনার ? কেমন বিশ্বাস থাকবে আপনার সেই ধর্মের প্রতি ? তারপরেও কি আপনি সেই মহান আল্লাহ তাআলার নাম মুখে যপতে পারবেন , যার নামে আপনার শিশু সন্তানটিকে জনসমক্ষে কল্লা নামিয়ে দেওয়া হলো! তারপরেও কি আপনি তজবি হাতে সেই মহান আল্লাহর নাম যপে, সেই মহানের কাছেই আপনার শিশু সন্তানটির জন্য জান্নাত চেতে পারবেন ? যদি পারেন , তাহলে বলতেই হবে আপনি সাচ্চা মুসলমান! আপনি থাকুন আপনার সাচ্চা মুসলমানিত্ব নিয়ে, আমি এই শিশুটির চোখ দুটো দেখে সেই মুসলমানিত্বকে প্রত্যাহার করতে চাই। আমি সেই মুসলমানিত্ব চাই, যেখানে মনুষ্যত্ব আর মানবতা আছে। আমি সেই মুসলমানিত্ব চাই, যেখানে বিবেক আছে। বিবেকহীনা মুসলমানিত্ব নিয়ে আপনি বেঁচে থাকতে চান, থাকুন, আপনি বিবেককে তাড়িয়ে ধর্ম পালন করে জান্নাতবাসী হতে চান হোন, আমার কোনো আপত্তি বা বাঁধা নেই। তবে স্পষ্ট করে বলতে চাই, বর্বর বিবেকহীনা সৌদির আরাবা জাতির মুসলমানিত্বকে আমি ঘৃণা করি এবং ঘৃণা করেই যাবো। সেই ঘৃণা থেকেই মুর্তজা কুরেইরিসের মুক্তি কামনা করি । বিধাতা মহান , নিশ্চয়ই তিনি মুসলমানদের দ্বারা এই জঘন্য কাজ হতে দিবেন না। অবশ্য প্রশ্ন থাকে, কোন মুসলমানদের কথা বলছি?
আপনি ভাবছেন আমি বোকার মত ১০ বছরের শিশুর কথা বলছি ! না, আমি জেনেই বলছি ১০ বছরের শিশু। মাত্র ১০ বছর বয়সের মূর্তাজা কুরেইরিস, এখন বয়স ১৮। কুরেইরিস কাহিনী এখন সবার জানা। সৌদি বিচারে তার মৃত্যুদন্ড হয়েছে – ভয়ানক এবং বর্বর কায়দায় তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে। ক্রুসবিদ্ধ করে দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হবে অথবা জনসমাজের সম্মুখে শীরছেদ!!!
আপনি এখন বলবেন, আরাবারা তার অন্যায়ের শাস্তি দিতে বিবেকহীনা নন ? কেননা তাকে শাস্তি দিতে ৮ বছর অপেক্ষা করেছে, পূর্ণাঙ্গ বয়স বানাতে। কত ধৈর্যশীল মহান আরাবা জাতি ! হ্যাঁ ভীষণ ধৈর্যশীল বটে। ৮ টি বছর অপেক্ষা, ন্যায় (!) বিচারের জন্য । বরং এখন সমগ্র মুসলিম জাতির ধন্য ধন্য করা উচিত , তাই না? একবারো কি ভেবেছেন, ১০ বছরের শিশুটির কি অন্যায় ছিলো? ইতিহাস তো এখন সবারই জানা, ভাবুনতো কি এমন অন্যায় শিশুটি করেছিলো ? আর সেই সময়ের ১০ বছরের শিশুটি কতটুকুন বুঝেছিলো? ২০১১ সালে ১০ বছরের শিশুটি এক সাইকেলে মিছিল থেকে দাবি করে বসেছিলো ” মানবাধিকার “ এইতো তার অন্যায়? প্রবল সর্বাত্মকবাদী ও দমনমূলক সৌদি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ” মানবাধিকার ” চাওয়া যদি অন্যায় হয়, তব ঘৃণা তাদের প্রতি যারা এই অন্যায়কে সমর্থন করে।

লক্ষ্য করুন:
১) বর্বর সৌদি আরাবা জাতি, যারা নিজেদেরকে কায়েমি মুসলিম ভাবে! নিজেরা জান্নাতবাসী হতে চায় আর সমগ্র বিশ্ববাসীকে কায়েমি মুসলিম বানিয়ে জান্নাতবাসী করতে চায় ! আমি বরাবর এদেরকে কখনোই মানুষ জাতি বলি না, বলি আরাবা জাতি ( ব্যক্তিগত মত)। এই বর্বর জাতি নিজেদেরকে সমগ্র মুসলিম জাতির কাণ্ডারী ভাবে ! ওদের মাটিতে মুসলিম জাতির দরগাশরিফ বলে ওরা নিজেদেরকে মহান ভাবে ! একবারও ভাবে না দুনিয়ার সকল ওলি/ আউলিয়া ওদের মত বর্বর জাতিকেই সঠিক পথ দেখাতে ওদের মাটিতে এসেছিলো । মক্কা/ মদিনা আর তেল/সোনার খনি ওদের মাটিতে না থাকলে , ওদের যে জ্ঞাণ গরিমা তাতে করে ওদেরকে আজকের বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে ভিক্ষে করে জীবন বাঁচাতে হতো, এ কথা জোর গলায় বলা যায় ।
২) কোথায় আজ বিশ্বের কোটি কোটি কায়েমি মুসলিমগণ ? কোথায় আজ সমগ্র মুসলিম দেশের সত্যবাদিত ও ন্যায়পরায়ন মুসলমানগণ? কোথায় আজ লাক্ষো আলেম ওলায়মাগণ ? কোথায় আজ সেই সকল মুসলিমগণ, যারা মানবাধিকারের কথা বলেন ? যারা অন্যায়কে অন্যায় বলেন ? যারা জান্নাতের পথ দেখান ? কোরআনের তাফছির করেন ? সেই সকল হুজুরে আলেমগণ আজ নিশ্চুপ কেন ? নাকি ধরেই নিয়েছেন, মুসলিমদের পবিত্র স্থানের কায়েমি মুসলিমগণ অন্যায় করতে পারে না ? কেননা তারা আল্লাহ তাআলার প্রেরিত আসমানি কিতাবের দেশের মানুষ বলে ? হে কায়েমি মুসলমানগণ , ভুলে যাবেন না, এরা যত না মুসলমান তার চেয়েও বেশি আরাবা জাতি।
৩) হে কায়েমি মুসলমানগণ লজ্জিত হও। চেয়ে দেখো, একটি মুসলিম শিশুর প্রাণ বাঁচাতে , ইহুদি/খ্রিস্টানরা প্রতিবাদ করছে! হে কায়েমি মুসলমানগণ ওরা তো তোমাদের চোখে অনেক নিচু মানের , তবে তুমি কেন এত বড় মনার হয়ে, পবিত্র ধর্মের অধিকারী হয়ে, একটি শিশুর প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবাদ কর না ? তুমি তো মুসলিম হিসেবে বিশ্ববিবেক, কেন সেই বিবেকে আবেগ আসে না ? কেন বিবেক তোমাকে নাড়া দেয় না ? হে সত্যবাদি মুসলমানগণ বিবেকের তাড়নায় প্রতিবাদী হও , প্রতিবাদী হও মুসলমানের ধর্ম মানবতার জন্য, তার প্রমাণের জন্য ।
হে মুসলিম বিশ্ব , এই শিশুটির চোখ দুটো পড়ে দেখার চেষ্টা কর। এই শিশুটির অন্যায় শীরছেদ হলে, এই আরাবা জাতির কারণেই সমগ্র মুসলিম জাতি প্রশ্নের সামনে চলে আসবে। যদি সত্যিকারের মুসলমান হও, তবে ভাবো এবং ফিরিয়ে দাও মুসলিমদের মহান আল্লাহ্ তাআলার প্রেরিত মানবতাকে। তবেই তুমি হবে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের মহান। তা নাহলে, তুমি মুসলমান নামে আস্তাকুড়েই থেকে যাবে।

বুলবুল তালুকদার
সহকারী সম্পাদক , শুদ্ধস্বর ডটকম

