জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা। সোমবার বেলা ১২টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়ে এক ঘণ্টার বেশি সময় চলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, জবি ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। অপরদিকে নতুন কমিটি প্রত্যাশী ছাত্রলীগের আরেক গ্রুপের কর্মীরা ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে তাদের ধাওয়া করলে তারাও পালটা আক্রমণ করে। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা সুসজ্জিতভাবে হেলমেট পরে ক্যাম্পাস থেকে নতুন পদ প্রত্যাশিদের তাড়িয়ে দেয়।
রাব্বানী ও শোভনের গ্রুপ বলে পরিচয় দেওয়া ছাত্রলীগের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির কর্মীরা আমাদের উপর পরিকল্পিতভাবে হেলমেট পরিহিত হয়ে হামলা করে। ১২টার দিকে আমরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সময় আমাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়।”
তিনি বলেন, “সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা লাঠি, হাতুরি, রড়, চাপাতিসহ একাধিক দেশিয় অস্ত্র ব্যবহার করে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের হেলমেট পরিহিত কিছু কর্মী ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়।এসময় ক্যাম্পাসের নতুন ভবনের নিচে ছাত্রলীগের কিছু কর্মী দা হাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। এতে আতংকিত শিক্ষার্থীরা এদিক সেদিক ছুটাছুটি করে। এসময় এক সাধারণ শিক্ষার্থীর মোবাইল ছিনিয়ে নেই ছাত্রলীগের এক কর্মী।”
সংঘর্ষের সময় প্রক্টরিয়াল বডি দর্শকের মতো দাড়িয়ে একপাশে অবস্থান নেয় বলেও অভিযোগ করেন এই ছাত্রলীগ কর্মী
এদিকে সংঘর্ষ থামার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ফলে জবি শাখা ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম বন্ধসহ কমিটি স্থগিত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এর পরপরই জবি ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কলহের জের ধরে উত্থান ঘটে বিদ্রোহী গ্রুপের। যারা জবিতে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দাবি করছে। এরই প্রেক্ষিতে কিছুদিন ধরে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে তরিকুল-রাসেল গ্রুপ ও বিদ্রোহী গ্রুপের মধ্যে।
অপরদিকে জবি শাখা ছাত্রলীগের অফিস সীলগালা করেছে জবি প্রশাসন।অবকাশ ভবনের দ্বিতীয় তলার এ রুমটি রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস কক্ষটি সিলগালা করে।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমি আসলে এখনো জানিনা কেন বা কখন রুমটি বন্ধ করা হয়েছে। আমি প্রক্টেরের সাথে কথা বলবো বিষয়টি নিয়ে। তখন হয়তো বিস্তারিত জানতে পারব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, অবকাশ ভবনে ছাত্রকমন রুম ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি,বিএনসিসি,রোভার স্কাটউসহ অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের অফিস রয়েছে।ছাত্রকমন রুম নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হলে বাকি সংগঠনগুলোর অফিসের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই কমনরুম নিয়ে ছাত্রদের দু পক্ষের ঝামেলা এড়াতে রুমটি আপাতত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পরে আবার খুলে দেয়া হবে।

