গার্মেন্ট তথা ব্যবসা-বাণিজ্য চাপের মুখে পড়তে পারে ?

অনলাইন প্রতিবেদন: বিশ্বাসযোগ্য ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রশ্নে আমেরিকা, ইউরোপসহ পশ্চিমা দুনিয়ার অবস্থান স্পষ্ট। এ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে সর্বসম্মতভাবে রেজ্যুলেশন পাস হয়েছে তাছাড়া ঢাকার বিদেশি কূটনীতিকরা প্রায় প্রতিদিনই বিবৃতি দিচ্ছেন।

কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত আহ্বান সত্ত্বেও ভোটের মাঠে দুশ্চিন্তার ‘নানা ঘটনা’ ঘটছে। এ অবস্থায় কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে বাংলাদেশের গার্মেন্ট তথা সার্বিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য চাপের মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় পরিচালিত একটি ওয়েবসাইটে ‘‘বাংলাদেশ-মার্কেট ওভার ভিউ’’ শিরোনামে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সর্বশেষ রিপোর্ট তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়- বাণিজ্য তথা পণ্য কেনার ক্ষেত্রে একটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়া যদি সঙ্গত হয় তা হলে অবশ্যই মার্কিন কোম্পানীগুলো তা বিবেচনায় নেয়।আগামী সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য করার আহ্বান জানিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে সর্বসম্মতভাবে যে প্রস্তাব পাস হয়েছে তার উদ্ধৃতি দিয়ে ঢাকার একাধিক কূটনীতিক বলেন, এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচন নিয়ে সেখানে যা বলা হয়েছে এটি মার্কিন নাগরিকদের কথা। গোটা যুক্তরাষ্ট্রের কথা। রেজুলেশনে যা বলা হয়েছে ঢাকার মার্কিন কূটনীতিকরা তা-ই বলছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার যে অবস্থানই গ্রহণ করুক না কেন কূটনীতিতে তার একটি প্রভাব থাকেই। এটা মানা না মানার মধ্যে সম্পর্ক এবং নেগোশিয়েশনে অনেক তারতম্য হয়।

রেজুলেশনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উৎসাহিত করতে প্রতিনিধি সভার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান জানাতে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়টিও প্রস্তাব পাসের সময় আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা বলছেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কংগ্রেসে রেজুলেশন পাস হওয়া ছাড়াও স্টেট ডিপার্টমেন্টের তরফ থেকে নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে ঢাকায় এবং ওয়াশিংটনে কথা বলেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন মুখ্য উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস। তিনি নির্বাচনী প্রচারণার দলমত নির্বিশেষে সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রচারণার শুরুতেই সংঘটিত সহিংসতায় উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিনিরা প্রায়শই বলছেন, সহিংসতায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এতে তারাই লাভবান হয় যারা গণতন্ত্র চায় না, যারা গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ন করতে উদ্যত হয়ে আছে। মার্কিন কূটনীতিকরা দ্ব্যার্থহীনভাবে বলছেন, তারা বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থী, দল বা জোটের পক্ষে নন।

মার্কিন প্রশাসন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জনগণের মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলকে সহযোগিতা দিচ্ছেন। নির্বাচন নিয়ে কাজ করা মার্কিন সংগঠন এনডিআইকে পর্যবেক্ষণে তহবিল সহায়তা দিচ্ছেন। এনডিআই বাংলাদেশের ভোটের অবস্থা নিয়ে দুটি প্রাক-মূল্যায়ন রিপোর্ট করেছে। তারা প্রতিনিধি মারফত ভোটের দিনেও নিবিড়ভাবে কেন্দ্রগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে এনডিআই’র সহযোগী ‘দ্য এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস’ও ভোট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এ ছাড়া ভোটের দিনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডের অর্থায়ন এবং প্রশিক্ষণে স্থানীয়ভাবে ১৫ হাজার পর্যবেক্ষক মোতায়েন থাকছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.