এক খামোশে এত কথা! তাই একটু পুরানো কাসুন্দি ঘাটতে ইচ্ছে হলো। এই ইচ্ছাটি মোটেও ইন্টারফিয়ার নয়, এক প্রকার ইনকোয়ারি বলা যায় । আরো পরিষ্কার করে বলি, এটা ভোটের বাজারে কোনো প্রচারও নয় এবং কোনো প্রতিক্রিয়াও নয়। কেবলমাত্র অতি উৎসাহ্ থেকে মনে করিয়ে দেওয়া যে, সত্যি বলতে মানুষের গুল্ডফিস মেমোরি হলেও, মাঝে মাঝে সব কিছুই স্বরণে চলে আসে। সেটাকেই সামনে রেখে কিছু পুরোনো কথা আবার নতুন করে সামনে আনা, ভিন্ন কিছুই নয়।
প্রথমেই এক বিদেশির কথা দিয়ে শুরু করি।
হ্যানরি কিসিঞ্জার : ( ৭১ এ আমেরিকান পররাষ্ট্র মন্ত্রী)
* বোটম লেস বাস্কেট ( বাংলাদেশ কে বলেছিলো)
” এখন বাংলাদেশের ঝুড়ি পূর্ণ। তার দেশের রাষ্ট্রদূত গত বছর বলেছে” আমেরিকাও এখন তাই মনে করে।
মাওলানা ভাষানী :
* পশ্চিমাদের সালাম জানাইয়া দেবো ( ৫৪ সালেই এক ভাাষনে)
* বেশি নামাজ পড়লে ক্ষতি নাই
( ইয়াহিয়া বেক্কলের সাথে দেখা করতে গিয়ে, সাথের লোকজনকে বলেছিলো। কেননা বেক্কলটা মাওলানা কে রিসিভ করতে দেরী করে এবং অপেক্ষায় রেখেছিলো, হুজুরও নামাজে বসে ওই বেক্কল কে দাঁড়া করে রেখেছিলো।)
* ভোটের বাক্সে লাথি মারো, বাংলাদেশ স্বাধীন কর। ( ভোটে জিতেও যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে )
এ কে ফজলুল হক :
* আমার নাম হক, আমি যেন সব হক মত কাজ করতে পারি।
* আরো পাঁচ টাকা নিয়ে যাও, ছেলে এন্ট্রান্স পাস করার পরে আমাকে বাঁশ দিবে , বাঁশঝাড় এখনই লাগিয়ে রাখুক ( এন্ট্রান্স ফি দিয়ে উপকারের পর)
বঙ্গবন্ধু :
* কোথায় সিরাজ সিকদার?
* আমার কম্বল কই ?
* মানুষ পায় সোনার খনি , আমি পাইছি চোরের খনি!
মিজানুর রহমান : ( প্রয়াত , প্রবীন আওয়ামী নেতা) :
* একটা ভুবন্ত জাহাজ থেকে একটি ইদুর লাফিয়ে পাড়ে এসে বেঁচে গেলো ( ৭৫ এর ঘটনার পর, বলেছিলেন!)
মালেক উকিল : ( প্রয়াত, প্রবীণ আওয়ামী নেতা) :
* দেশ একজন ফেরাউনের হাত থেকে রক্ষা পেলো ( ৭৫ পরবর্তী লন্ডন বসে বলেছিলেন! পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সভাপতি হন)
মতিয়া চৌধুরী :
* বঙ্গবন্ধুর চামরায় ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিলেন ( বর্তমান আ লীগ নেতা ও মন্ত্রী)
* ওরা সব রাজাকারের বাচ্চা! ( কোটা আন্দোলনের উদ্দেশ্যে)
হাসানুল হক ইনু :
* তিরিশ হাজার জাসদ কর্মীর রক্তের ঋণ আওয়ামী লীগকে শোধ দিতে হবে (ট্যাঙ্কের উপর ফালাফালি করা , ৭৫ পরবর্তীতে, বর্তমানে আ লীগের মন্ত্রী!)
সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত :
* শুঁটকির হাটে বেড়াল চোকিদার
( দরবেশ বাবা , এফ রহমান কে উদ্দেশ্যে করে , শেয়ারবাজারের ধসের পর)
প্রয়াত গুপ্ত পরবর্তীতে আ লীগের মন্ত্রী এবং ৭০ লক্ষ টাকার বস্তা ভর্তি মামলার আসামী !
নিজামী : ( যুদ্ধাপরাধী, ফাঁসিতে মৃত্যু)
* গত চল্লিশ বছর ধরে রাজনীতি করি, কোনো দিন পত্রিকায় হেডলাইন হই নাই! কোথাকার কোন বাংলাভাই ! এ দেশে কোনো বাংলাভাই নাই। এগুলো পত্রিকার তৈরি । পরবর্তীতে বাংলাভাই এর ফাঁসি হয়। বিএনপির সময়কার মন্ত্রী।
মুজাহিদ : ( যুদ্ধাপরাধী, ফাঁসিতে মৃত্যু)
* বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নাই! এই যুদ্ধাপরাধী বিএনপির সময়কার মন্ত্রী! পরবর্তীতে যা নাই বলে দম্ভ করেছিলো! সেই মামলায় লটকাইছে ।
কাজী জাফর :
* আমি পিচঢালা রাস্তার গন্ধ শুকে বলে দিতে পারি , রাজনীতি কোনদিকে যাচ্ছে। পরবর্তীতে বিএনপির মন্ত্রী । চিনিচোর জাফর নামে ফাপরে পরেছিলো। একসময় কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলো।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন :
* হাসিনা , খালেদা কে ? ওরা রাজনীতির কি বুঝে ?
* আমরা শিক্ষিত মানুষ ( উনার প্রচলিত উক্তি)
* এত শিক্ষিত মানুষ, টিভির পর্দায় প্রকাশ্যে মহিলা সাংবাদিক ভাট্টিকে ” চরিত্রহীন ” বলে এখন নানান প্যাঁচে পরে চোদ্দশিকের ভিতরে।
আব্দুল হামিদ : ( বর্তমান প্রেসিডেনট)
* আপনেরা লেংটি পরে সংসদের মাঠে গিয়া কুস্তি করেন
( স্পিকার থাকা অবস্থায়, সহজ সরল ভাষায় সাংসদদের বাজে মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষীতে)
আবুল মাল আবদুল মুহিত :
(এরশাদ এবং বর্তমান আ লীগের অর্থ মন্ত্রী )
* রাবিশ , খোবিশ, বোগাস বেশ প্রচলিত।
* ৪ হাজার কোটি টাকা কোনো টাকাই না !
* আমি স্বৈরাচারের মন্ত্রী ছিলাম এরশাদের নয় ( নিজ স্বীকারোক্তি!)
* সাংবাদিকরা সব ভন্ড
তারেক জিয়া :
* ছাত্রদল আর শিবির একি বৃন্তের দুই ফুল !
* জিয়া দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি!
খালেদা জিয়া :
* চুপ বেয়াদপ ( সংসদে আ লীগের এমপি কে উদ্দেশ্যে করে )
* পাগল আর শিশু ছাড়া কোনো নিরপেক্ষ মানুষ নাই।
* তুমি কি গোপালি ( নিজ গৃহে বন্দী অবস্থায় একজন মহিলা পুলিশ কে)
শেখ হাসিনা :
* যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তারা হবে জাতীয় বেঈমান ( পরেরদিন আ লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ৮৬)
* ছাত্রলীগের ছেলেরা কি হাতে চুরি পরে থাকে ?
( চট্রগ্রামে ভাষনে, ছাত্রলীগের কর্মীর মৃত্যু হয়েছিলো শিবির কর্মীদের সাথে মারামারিতে, সেই উপলক্ষে)
* একটা লাশ পরলে দশটা ফেলতে হবে , (চট্রগ্রামে ভাষনে)
* দুই কাকে কা কা করে ( ডঃ কামাল এবং কাদের সিদ্দিকীকে উদ্দেশ্যে করে )
* আই এম নট আন হ্যাপি ( এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণের পর)
* আমাদের আন্দোলনের ফসল ( আর্মি শাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতয় আসার পর)
* আমি আর প্রশ্নবোধক নির্বাচন চাই না (এই বছর)
উপরের বলা কথাগুলোই আপাতত মনে পড়লো , জানি আরো শত কথা এমন আছে, তবে এই মূহুর্তে মনে পড়ছে না । কেননা আমরা মানুষ মাত্রই কিছুটা গোল্ডফিসের চরিত্র বহন করি, সকল সময় সব কিছু স্বরণে থাকে না। তবে অন্য কারো ভিন্ন কিছু স্বরণে পড়লে যোগ করে সহযোগিতা করলে ভালো হবে। কেননা আমাদের রাজনীতিবিদদের কে আমরা মনে প্রাণে সম্মান করি, সুতরাং তাদের বলা বাণীতো স্বরণে থাকা আমাদের উচিত, তাই নয় কি ?

বুলবুল তালুকদার
সহকারী সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম

