দুই প্রধান দলেরই মেয়র প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে রেখেছে দলের হাইকমান্ড ।তার পরেও আজ তারা মনোনয়ন পত্র বিক্রি করলেন এবং দাম রাখলেন দশ হাজার টাকা । দু-দলের প্রায় ১০ জনের মতো হবে মনোনয়ন পত্র কিনেছেন। আওয়ামীলীগ থেকে যারা কিনেছে তারা সবাই ব্যবসায়ী আর বি এন পি থেকেও একজন ছাড়া সবাই ব্যবসায়ী বা আধা রাজনিতিক । এত বড় দুইটি দল যাদের নেতা কর্মীর সংখ্যা অসংখ্য কিন্তু নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার মতো একজন নেতাও খুঁজে পাননি তারা। সরকারী দল থেকে একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে নমিনেশন দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে, বি এন পি থেকেও একজন ব্যবসায়ীর পুত্রকে নমিনেশন দেয়া প্রায় চূড়ান্ত । বি এন পি থেকে একজন সাবেক ছাত্র নেতা এবং বর্তমানে বি এন পি র কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুজ্জামান রিপন নমিনেশন চাইছেন ।তিনি আজ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে তার অতীতের রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরেছেন। রাজনীতি করতে যেয়ে তার যৌবনকালের দিনগুলি কিভাবে দলের জন্য নিবেদন করেছেন তা তার লেখায় উল্লেখ করেছেন । তিনি বি এন পি র কেন্দ্রিয় নেতা হয়েও তার মনোনয়ন নিশ্চিত নন জেনে ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করেছেন । তিনি লিখেছেন যখন কোন জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ আসে,নিজের এত দিনের কষ্টের , শ্রম ঘামের মূল্যায়নের সুযোগ আসে তখন পাহাড় সমান বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় আমার অর্থনৈতিক মানদণ্ড ।কিছু অর্বাচীন এগিয়ে আসে, বলে নির্বাচন করতে অর্থ লাগে তার অর্থ নেই তাই তাকে নয় আলালের ঘরের সর্বসুখ ভোগী আমার সেই বন্ধুকে মনোনয়নের জন্য এগিয়ে আনা হয় । তিনি আরও লিখেছেন, আমার অনেক কষ্টের শ্রমে পাথুরে জমিনে যখন ফসলে ভরপুর তখন বর্গী এসে তা ভক্ষন করার পাঁয়তারা শুরু করে। তখন আমার বুকের আর্তনাদ অট্টহাসি দিয়ে আমায় উপহাস করে ।
আসাদুজ্জামান রিপনের এই কথায় ধ্বনিত হয়েছে দেশব্যাপী অগণিত রাজনৈতিক নেতা কর্মীর , যারা জীবন দিয়ে শ্রম দিয়ে মেধা দিয়ে দলকে গড়ে তোলে দলের দুঃসময়ে দলের জন্য জেল খাটে , জীবনের মূল্যবান সময় গুলো দলের ব্যয় করে কিন্তু নির্বাচন এলে তারা মনোনয়ন পান না । এটা বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে খারাপ দিক এখন । এর থেকে বের না হতে পারলে রাজনীতি একসময়য় শুধুই প্রহসনে পরিণত হবে । রাজনীতি থেকে রাজনিতিকরা হারিয়ে যাবে ।
হাবিব বাবুল
সম্পাদক

