এবার ২৪X৭ ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করল হোয়াইট হাউস

হোয়াইট হাউসের তরফে তিনটি সংবাদ মাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাল্টা প্রেসিডেন্টকে বয়কটের পথে হেঁটেছে সেদেশের সংবাদ মাধ্যম। দমবার পাত্র নন ট্রাম্প। সোমবারই হোয়াইট হাউস ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামে একটি ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচারকারী চ্যানেল চালু করেছে।

ওই তিন সংবাদমাধ্যম ‘অন্যায্য সংবাদ পরিবেশন’ করে বলেই তাদের গোয়াই হাউসে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে বলে জানিয়েছিলেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট। কড়া বার্তা দিয়েছিলেন ট্রুথ সোশ্যালে। এবার ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ চালুরও ঘোষণা করেন এক্স-এ।

 

অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে প্রেসিডেন্ট জানান, ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ একটি লাইভ বা সরাসরি সম্প্রচার ব্যবস্থা যা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে এবং ‘রিয়েল-টাইমে’ (তাৎক্ষণিকভাবে) আপডেট করা হবে। এর মাধ্যমে অতীতের বিভিন্ন মুহূর্ত, গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এবং প্রশাসনের কার্যক্রম সংক্রান্ত খবর এক জায়গায় পাওয়া যাবে। প্রথম সম্প্রচারে মাউন্ট রাশমোরে ট্রাম্পের ৩ জুলাইয়ের ভাষণ এবং এরপর ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর ২০২৫ সালের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানের ফুটেজ দেখানো হয়।

হোয়াইট হাউসের ইউটিউব বিবরণে বলা হয়েছে, এই চ্যানেলে “সেরা ভিডিও, গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং অবশ্যই দেখার মতো বিশেষ মুহূর্তগুলো” ২৪ ঘণ্টা স্ট্রিম করা হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট করা হবে। চ্যানেলটি কি সরাসরি বা সমসাময়িক ঘটনা প্রচার করবে নাকি কেবল পুরোনো ফুটেজ বা আর্কাইভের ওপর নির্ভর করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে দর্শকদের “অবহিত ও আপডেট থাকার” আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার দিনজুড়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ক্লিপের মাধ্যমে হোয়াইট হাউস এই চ্যানেল চালুর বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি করেছিল। এর মধ্যে ছিল একটি পুরোনো টেলিভিশন সেটের ছবি যাতে লেখা ছিল “কিছু একটা আসছে। চোখ রাখুন” এবং একটি ভিডিও যাতে হোয়াইট হাউসের গেট দিয়ে একটি স্যাটেলাইট ট্রাক প্রবেশ করতে দেখা যায়।

ট্রাম্প-সংবাদমাধ্যম সংঘাত কী নিয়ে?

গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও এবং পোলিটিকো-র সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করে দেন। ফলে এই তিন সংস্থার সাংবাদিকের হোয়াইট হাউসে ঢোকা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। আগে কোনও ধরনের নোটিস ছাড়াই ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে শোরগোল পড়ে যায়। এরপর শনিবার ওই তিন সংস্থার সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস থেকে বের করে দেওয়া হয়।

কেন এমন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? সিএনএন, এমএস নাও এবং পোলিটিকো কর্তৃপক্ষের দাবি- ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে খবর না করাতেই ওই তিন সংস্থার উপর ক্ষুব্ধ তিনি। ফলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে। কিন্তু তা সম্পূর্ণ আইন বিরুদ্ধে।

প্রেসিডেন্টের নির্দেশে হোয়াইট হাউসের আচরণের প্রতিবাদে সোমবার ঐতিহাসিক পাল্টা পদক্ষেপ করে সংবাদ মাধ্যমগুলো। সিবিএস , এবিসি, এনবিসি, ফক্স নিউজ এবং সিএনএন যৌথভাবে ঘোষণা করে যে, তারা হোয়াইট হাউসের কোনও ‘পুল’ কভারেজ (যেখানে একটিই সংস্থা সকলের জন্য শুটিং করে) করবে না। ফলে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে আসা রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কোনও টিভি সম্প্রচার হয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে সিএনএন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সংস্থাটির অভিযোগ, মার্কিন সংবিধানে বিদ্যমান বাক্‌স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Discover more from শুদ্ধস্বর ডটকম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading