ইসলামের পবিত্রতম তীর্থস্থান মক্কায় ক্ষেপনাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করল সৌদি সিভিল ডিফেন্স। ১০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার মক্কায় এমন সতর্কতা জারি করা হল। সৌদি সিভিল ডিফেন্স তাদের অফিসিয়াল ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ‘মক্কা শহরে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করতে ‘ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্ম’-এর পক্ষ থেকে একটি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।’
সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের অন্যান্য এলাকা, যার মধ্যে লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু গভর্নরেট এবং তায়েফ, জেড্ডা ও তাবুক অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত। এগুলোর জন্য পৃথক সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত ৫৭টি দেশের সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে যে, তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীটির ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তারপরই কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ওই শহরগুলো থেকে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছিল।
সাম্প্রতি দেখা গিয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের হামলার ঠিক আগেই এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে সৌদি আরব, হুথিদের বিরুদ্ধে মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ তোলে। তবে ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছিল। দেশটি জানায়, ২০১৭ সালের পর এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম কোনও প্রচেষ্টা। অবশ্য হুথি গোষ্ঠী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এর আগের সতর্কতা এসেছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। মক্কার দক্ষিণে হুথিদের একটি ড্রোন সৌদি-র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত ও ধ্বংস করার পর ওই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ড্রোনটি নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারেনি। এর কয়েক দিন পর, হুথিরা বহু বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সৌদি রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা সংঘাতের নতুন এক তীব্রতার ইঙ্গিত দেয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনার মধ্যেই ইরান-সমর্থিত হুথি এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা এবং লোহিত সাগরে দেশটির জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে, সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে এলাকা দখলের পর হুথিরা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর নজর রাখা কৌশলগত উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য এই প্রণালীটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে টিকিয়ে রাখা সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হুথিরা সৌদি আরবের ওপর তাদের হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে ইয়েমেন মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছে।

