জর্ডানের একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘটনায় তিনি তেহরানের ওপর বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভাষণ সম্প্রচার না করায় টেলিভিশনের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের
একইসঙ্গে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধাবস্থার পক্ষে জোড়ালো সাফাই গেয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউ নিয়র্ক পোস্ট’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরানি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই সেনারা তাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন।”
তিনি সতর্ক করে আরো বলেন, “তেহরানকে এখনই থামানো না গেলে পুরো অঞ্চলটি আরো বড় ধরনের সংঘাতের দিকে ধাবিত হতে পারে।”
তিনি নিহত সেনাদের পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে সান্ত্বনা জানাবেন উল্লেখ করে বলেন, “ইরান যে কতটা বিপজ্জনক, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।”
শুক্রবার (১৭ জুলাই) জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার ঘটনায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন, একজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত আরো যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তেহরানের ওপর এই বিমান হামলার উদ্দেশ্য হলো ‘হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে’ ইরানি শাসকগোষ্ঠীর সক্ষমতা আরো কমিয়ে আনা।
সেন্ট্রাল কমান্ড আরো জানায়, তেহরানের ওপর এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-কে দ্রুত শাস্তি দেওয়া।
এর আগে শনিবার ট্রাম্প ‘নিউজনেশন’-কে বলেছিলেন, ইরান দুই দেশের মধ্যকার ‘পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা নিয়ে তিনি ‘একবিন্দুও পরোয়া করেন না’। তিনি আরো যোগ করেন, এই সেনারা ‘দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায়’ প্রাণ হারিয়েছেন।
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পর পেন্টাগন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির স্প্যাংডাহলেম বিমান ঘাঁটি থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং ব্রিটেনের একটি ঘাঁটি থেকে অত্যাধুনিক স্টিলথ যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া গত কয়েক দিনে ওই এলাকায় অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, এই সেনা নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এই প্রাণহানির জন্য সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করেছেন।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি নিক্কি বুডজিনস্কি বলেন, “এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধেরই চড়া মূল্য।” অন্যদিকে প্রতিনিধি হার্ব কনওয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আমি দাবি করছি ট্রাম্প যেন তার শুরু করা এই যুদ্ধ বন্ধ করেন।”
ডেমোক্র্যাটদের এই সমালোচনার জবাবে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রশাসনকে আক্রমণ করে বলেন, “আপনারা কি কখনো জানতে চেয়েছেন ভিয়েতনামে বা আফগানিস্তানে ‘স্লিপি’ জো বাইডেনের আমলে একদিনে কত মানুষ মারা গিয়েছিল? আমরা এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের (ভেনেজুয়েলা ও ইরান) সুরক্ষার কথা বলছি। মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এই মিশন জরুরি।”
নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পক্ষ থেকে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ‘বাতিল’ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর শুক্রবার জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত, ১ জন নিখোঁজ এবং ৪ জন আহত হন। যুদ্ধবিরতি সমাপ্ত ঘোষণার পর এটিই প্রথম মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা।

