প্যান-আফ্রিকান ইব্রাহিম ট্রাওরে

“জলের শ্যাওলা”-  এক সময় মুসলিম ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে ANEB (Association Nationale des Étudiants Burkinabè) বাংলা অর্থ: বুরকিনাবে (বুরকিনা ফাসোর) জাতীয় ছাত্র সমিতি নামের একটি ছাত্রসংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন, ইব্রাহিম ট্রাওরে (Ibrahim Traoré) এই ANEB সংগঠন থেকে মার্কসবাদী চিন্তার প্রভাব আসে ইব্রাহিম ট্রাওরের। ছাত্রজীবনে ইব্রাহিম ট্রাওরে সহপাঠীদের অধিকার নিয়ে সর্বোচ্চ সোচ্চার থাকা একজন ছাত্র নেতা ছিলেন। ইব্রাহিম ট্রাওরের জীবনে বিপ্লবী নেতা টমাস সানকারার (Thomas Sankara) অনুপ্রেরণা বেশ স্পষ্টতই লক্ষ্য করা যায়।

আত্মনির্ভরতা, দুর্নীতিবিরোধিতা, আফ্রিকার স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিদেশি প্রভাব কমানোর ধারণা সানকারার কাছ থেকেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। ইব্রাহিম ট্রাওরে তাঁর সামরিক জীবনে দীর্ঘদিন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে কাজ করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং রাষ্ট্রের দুর্বলতা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বলে ধারণা করা হয়।
ইব্রাহিম ট্রাওরেকে তাঁর রাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষ পছন্দ করেন কারণ ট্রাওরে সরল জীবনযাপনের চেষ্টা করেন। বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরতা কমানোর কথা বলেন। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা জনগণের হাতে থাকা উচিত, এ কথা জোর দিয়ে বলেন। তরুণদের উদ্দেশ্যে আত্মসম্মান, পরিশ্রম ও দেশপ্রেমের কথা বলেন।
এখানে নিরপেক্ষ (!) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কিছু অভিযোগ তুলে ধরতেই হয়। তবে সেগুলো কেবলমাত্র অভিযোগ। কি সেই অভিযোগ? “ট্রাওরের শাসনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত হয়েছে”
যা হোক ট্রাওরে ভূতত্ত্বে (Geology) স্নাতকোত্তর ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সামরিক বাহিনী থেকে একজন মেধাবী ক্যাডেট হিসেবে বের হন। শোনা যায় ট্রাওরে সৌদীআরবেও লেখাপড়া করেছেন। (তবে সেটার কোন সূত্র পাইনি)।
এখানে আপন একটি মতামত দিচ্ছি:
আফ্রিকার ইতিহাস ও রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদদের চরিত্র ও প্রভাব দীর্ঘদিন যাবৎ মোটাদাগে দেখছি, পড়ছি, জেনেছি আপন আগ্রহ থেকেই। সেই জানা ও বুঝা থেকেই লিখছি, “আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে এই মানুষটি ইব্রাহিম ট্রাওরে জীবনকে বেশ অনুধাবন করে”।
আমি বেশ অবগত আছি যে, আমি যে মতামত দিলাম সেটা নিয়ে দ্বিমত থাকতেই পারে আমি কেবলমাত্র একটি ছবি দেখে ট্রাওরের ব্যক্তি চরিত্র বা জীবনদর্শন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দিচ্ছি না। তবে তাঁর বক্তৃতা, আচরণ এবং রাজনৈতিক অবস্থান দেখেই বলছি, ট্রাওরেকে দেখেছি, একজন আদর্শবাদী, আত্মনির্ভরতা ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নিতে। তাই ট্রাওরেকে নিয়ে ওভাবে আমার মতামত প্রকাশ করা।
যদিও ট্রাওরের দেশে বহু সমালোচকেরা লিখছেন, ট্রাওরের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে।
লেখার শেষে এসে বলছি, ইব্রাহিম ট্রাওরের বিরুদ্ধে কথা উঠেছে যে, ট্রাওরে ইসলাম বিদ্বেষী এবং নিজ দেশে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কাজ করছেন বা যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
এ বিষয়ে অনেক বড় ব্যাখ্যা না দিলে মারাত্মক ভুল বোঝার সুযোগ থেকে যাবে। তবে এতটুকু লিখছি, যে বা যারা অথবা যে সকল আন্তর্জাতিক মাধ্যম এভাবে লিখছেন, তাদের উচিত হবে আফ্রিকা মহাদেশের সার্বিক ইতিহাসের বিশ্লেষণ করে মতামত প্রকাশ করা।
হঠাৎই স্বরণ হচ্ছে আশি দশকের সেই রুটস “Roots” ছবিটির কথা। এমন কি সাম্প্রতিককালের (২০১২ সাল) জাঙ্গ “Django” ছবিটিও স্বরণ হচ্ছে। সেই সূত্রেই লিখছি, আফ্রিকার দেশগুলোতে ধর্মের দোহাই দিয়ে যেন তাদের গন্তব্যকে আর রুখতে না পারে। এগিয়ে যাও ইব্রাহিম ট্রাওরে তোমার/ তোমাদের দেশ বুরকিনা ফাসোরকে নিয়ে তোমার/ তোমাদের মতন করে, হে প্যান-আফ্রিকান ইব্রাহিম ট্রাওরে।
বুলবুল তালুকদার 
শুদ্ধস্বর ডটকম

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.