ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি এ মামলায় আনা অভিযোগ তুলে ধরার পাশাপাশি ফরমাল চার্জ আমলে নেয়ার আবেদন করেন।
শুনানি শেষে অভিযোগটি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তার আসামিদের হাজিরের নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।
এই মামলায় আসামিরা হলেন: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন (সেনাবাহিনীতে কর্মরত), কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), মেজর রুহুল আমিন, সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব, সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি ও সেনা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান। এর মধ্যে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আবদুর রহমান বদি, আনোয়ার লতিফ ও মাহাবুব আলম।
এদিন সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে র্যাবের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন একরামুল। এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড তখন দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে, যার সঙ্গে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত রয়েছে।
ঘটনার দিন রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের নোয়াখালীপাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে র্যাবের কথিথ ক্রসফায়ারে নিহত হন তিন বারের কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগের সদস্য ও টেকনাফ যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল। এ ঘটনায় ওই বছরের ৩১ মে কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে একরামুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম এ হত্যাকাণ্ডকে ‘ঠান্ডা মাথায় হত্যা’ উল্লেখ করে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
‘ক্রসফায়ার’ এর সময় তার সেলফোনে রেকর্ডকৃত কথোপকথনের কিছু অডিও ক্লিপ তিনি সাংবাদিকদের দিয়েছিলেন। একটি রেকর্ডে, বন্দুকের ট্রিগার টানার শব্দ শোনা যায়। তারপর গুলির শব্দ। এরপর একজন মানুষের গোঙানির আওয়াজ।
ওই অডিও ক্লিপে ‘আব্বু তুমি কান্না করতেছ যে…’ একরামুলের মেয়ের কণ্ঠ তখন দেশজুড়ে আলোচিত ছিল।
তখন র্যাব দাবি করেছিল, একরামুল মাদক ব্যবসায়ী ও র্যাবের মধ্যে ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়েছেন। একরামুলের স্ত্রীর দাবি ও বক্তব্যকে ‘পুরোপুরি অসত্য’ বলে সংস্থাটি।

