ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিআইএম) নির্মাণের পরিকল্পনা বহু বছর আগেই নেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক বৈঠকে এ বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হলেও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি।
ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি একটি উন্মুক্ত প্রকল্প। এর মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো। তাই আগ্রহী যে কোনো দেশ এতে অংশ নিতে পারে।
গত ২২ জুন চার দিনের সরকারি সফরে চীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে করিডোর প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয় বলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
চীনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয়, ঢাকা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত একটি সড়ক করিডোর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা বিসিআইএম করিডোর নামে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-চীন সম্পর্কের অবনতির কারণে আপাতত কুনমিং-মান্দালয়-ঢাকা রুটে করিডোর বাস্তবায়নের দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে বেইজিং।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মাধ্যমে আরব সাগরে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পর এবার বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করতেই এই করিডোরে আগ্রহী চীন।
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, চীনের এ প্রস্তাবের বিষয়ে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। গত ২৭ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার আগে দেশটির সঙ্গে যেকোনো স্থল সংযোগ স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

