৬ দিন পর ভাগ্নেকে পেয়ে উচ্ছ্বাস, অপেক্ষা নিখোঁজ বোনের জন্য

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় দুই বছর বয়সী শিশু ক্লেইবার মোরানকে। এখনো নিখোঁজ শিশুটির বাবা-মা। এমন সময় এগিয়ে এসেছেন শিশুটির খালা ২৩ বছর বয়সী আন্দ্রেইনা সারমিয়েন্তো।

ভাগ্নের সঙ্গে পুনর্মিলনের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আন্দ্রেইনা সারমিয়েন্তো। বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে তিনি আশা প্রকাশ করেন শিগগিরই খুঁজে পাওয়া যাবে তার বোন ও ভগ্নীপতিকে।

মঙ্গলবার ভোরে জর্ডানের উদ্ধারকারীরা ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় লা গুয়াইরা রাজ্যে ক্লেইবার মোরানকে তার বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনাকে তিনি ‘আশার মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আন্দ্রেইনা সারমিয়েন্তো বিবিসি বলছিলেন, আমার বোন খুঁজে পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। সে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত মায়ের মতো স্নেহ দিয়ে আমি ক্লেইবারের যত্ন নেব।

রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে ক্লেইবারের বিছানার পাশে বসে ভাগ্নের হাত শক্ত করে ধরেছিলেন সারমিয়েন্তো। ‘আমি ঈশ্বরের কাছে শক্তি চেয়ে প্রার্থনা করছি, কারণ ওর বয়স মাত্র দুই বছর এবং আমি তো মা নই।’

‘এটা আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে, কারণ আমার বোন সবসময় আমাকে বলত যে ও আমার ছেলে। আর এখন মনে হচ্ছে যেন ও ক্লেইবারকে আমার হাতে তুলে দিয়ে বলছে— ও তোমার ছেলে, ও তোমার দায়িত্ব।’

লা গুয়াইরা থেকে এক বন্ধু আন্দ্রেইনাকে ফোন করে ক্লেইবারকে উদ্ধারের খবর জানান। খবর পেয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করেন তিনি। তারপর দ্রুত যান ক্লেইবারের সঙ্গে দেখা করতে।

তিনি জানান, জর্ডানের দলটির প্রচেষ্টা সফল হওয়ার আগে যুক্তরাজ্যের উদ্ধারকারীরাও তার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিল।

আন্দ্রেইনা বলছিলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ক্লেইবার ‘হতবাক অবস্থায় ছিল, চিৎকার করছিল’। কিন্তু সে সারারাত ঘুমিয়েছিল এবং বুধবার নাগাদ ‘তার অবস্থা স্থিতিশীল হয়’।

তিনি বলেন, ‘আজ সে আমাকে চুমু দিচ্ছে, আমার সাথে কথা বলছে, কোথায় ব্যথা করছে তাও বলছে’।

হাসপাতালে বসে তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন ক্লেইবার তার পাশে শুয়ে ছিল। স্পাইডারম্যান কম্বলে মোড়ানো এবং খেলনা দিয়ে ঘেরা, বিছানার চারপাশে একটি ছোট গাড়ি ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিল। সে ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া অন্যান্য শিশুদের সাথে একটি ওয়ার্ডে ছিল।

‘ওর একটাও হাড় ভাঙেনি। সবকিছু খুব ভালো আছে। শুধু ওর হাতে আর পায়ে কিছু আঁচড়ের দাগ আছে, এর বেশি কিছু না’, আন্দ্রেইনা একগাল হেসে বললেন।

কিন্তু ভাগ্নের সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত হলেও আন্দ্রেইনা বলেন, ‘আমার কষ্ট হচ্ছে কারণ আমি আমার বোনকে খুঁজে পাচ্ছি না।’

আন্দ্রেইনা যখন হাসপাতালে তার ভাগ্নের পাশে বসেছিলেন, তখন দেশজুড়ে মরিয়া হয়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছিল। ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৯৫ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.