গত ১৩ মার্চ রামমোহন লাইব্রেরি এন্ড ফ্রি রিডিং রুমের উদ্যোগে রামমোহন লাইব্রেরির রায়া দেবনাথ মেমোরিয়াল হলে ‘ভাসিয়ে দিলেম গানের তরী’ শীর্ষক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শতাব্দী প্রাচীন রামমোহন লাইব্রেরি বাংলার বহু মনীষীর পদধূলিধন্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম সহ বাংলা ভাষার বরেণ্য সাহিত্যিকরা রামমোহন লাইব্রেরিতে বহু অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। সেই পুণ্যভূমিতে বছরব্যাপী একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার ভিন্ন স্বাদের অনুষ্ঠান হয়। কলকাতা শহরের সঙ্গীতপ্রেমীরা গ্রামোফোনে পুরনো রেকর্ডের গান শোনার জন্য মিলিত হন।
শুধুমাত্র একসঙ্গে বসে গান শোনা নয়, তথ্য সমৃদ্ধ এক সন্ধ্যার সাক্ষী থাকেন সংস্কৃতিপ্রেমী কলকাতাবাসী। এই অভিনব উদ্যোগ সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার এক সার্থক প্রচেষ্টা। ১৩মার্চ রায়া দেবনাথ হলে বাংলা আধুনিক গানের অনুরোধের আসরের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই এই উদ্যোগ সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন রামমোহন লাইব্রেরি এন্ড ফ্রি রিডিং রুমের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত মিত্র। অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন উৎপল চৌধুরী। তাঁকে সার্বিক সহযোগিতা করেন অর্পন চ্যাটার্জি। অনুষ্ঠানে প্রতি মাসের এই বিশেষ আয়োজন সম্পর্কে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন ছায়ানট (কলকাতা) – এর সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। বেশ কিছুদিন আগে থেকেই শ্রোতারা গানের অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই অনুষ্ঠানে গান নির্বাচন করেন উৎপল চৌধুরী। সেই সঙ্গে গানগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন। সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘এলো বরষা যে সহসা মনে’, উৎপলা সেনের কণ্ঠে ‘চম্পাবতীর দেশে’, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘একটু কিছু বলো’, আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘ছোট্ট পাখি চন্দনা’, কিশোর কুমারের কণ্ঠে ‘আকাশ কেন ডাকে’, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘বাঁশ বাগানে মাথার উপর’, তালাত মেহমুদের কণ্ঠে ‘যেথা রামধনু উঠে হেসে’, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘মায়াবতী মেঘে এলো তন্দ্রা’, মান্না দের কণ্ঠে ‘ও আমার মন যমুনা’, শ্যামল মিত্রর কণ্ঠে ‘নাম রেখেছি বনলতা’, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘মেঘ কালো আঁধার কালো’, সুবীর সেনের কণ্ঠে ‘এত সুর আর এত গান’ — এই গানগুলি দর্শকদের অনুরোধে শোনানো হয়। উৎপল চৌধুরীর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে। অনুষ্ঠানে দুজন প্রবীণ লাইব্রেরির সদস্যর প্রতি বিশেষ সম্মান জ্ঞাপন করা হয় যাঁরা শারীরিক প্রতিকূলতাকে জয় করে প্রতি মাসে এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন।
সত্যব্রত চট্টোপাধ্যায় ও বিকাশ মুখোপাধ্যায়-কে সংবর্ধিত করেন রামমোহন লাইব্রেরি এন্ড ফ্রি রিডিং রুমের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত মিত্র এহং ছায়ানট (কলকাতা) – এর সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে রামমোহন লাইব্রেরির এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক — সঙ্গীতপ্রেমীদের এমনটাই প্রত্যাশা।

