রক্তচাপ নেমে গেলে নুন-জল খান, হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে কী কী করবেন ?

চিকিৎসকদের মতে, রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া মানেই সব সময় বিপদের সঙ্কেত নয়। তবে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়াও ঠিক নয়। কারণ খুব বেশি বেড়ে গেলে তা গুরুতর সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই কী করবেন, তা জেনে নেওয়া খুব জরুরি।

 

রক্তচাপ নেমে গেলে নুন-চিনির জল মিশিয়ে খেয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যদি রক্তের চাপ হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে যায় তখন ঠিক কী কী করা উচিত জানেন? হঠাৎ মাথা ঘোরা বা বুক ধড়ফড় বেড়ে যাওয়া রক্তচাপ বৃদ্ধির লক্ষণ হতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতি আতঙ্কে ফেলে দিতে পারে। কিন্তু ঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ করলে পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব। আবার ভুল পদক্ষেপে বিপদ ঘটতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া মানেই সব সময় বিপদের সঙ্কেত নয়। তবে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়াও ঠিক নয়। কারণ খুব বেশি বেড়ে গেলে, তা গুরুতর সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই কী করবেন, তা জেনে নেওয়া খুব জরুরি। মধুমেহর চিকিৎসক অভিজ্ঞান মাঝির কথায়, ‘‘আচমকা রক্তচাপ বেড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাংজ়িয়োলিটিক এবং অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধ খেতে হবে। পাশাপাশি বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকের সঙ্গে এক বার কথাও বলে নেওয়া দরকার সেই মুহূর্তে।’’ মেডিসিনের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলছেন, ‘‘প্রেশার যদি অস্বাভাবিক ভাবে উপরে ওঠে, সে ক্ষেত্রে আমরা দু’টি ভাগে ভাগ করে নিই। প্রথমত, হাইপারটেনসিভ এমার্জেন্সি, হাইপারটেনসিভ আর্জেন্সি। প্রথমটি হলে কিডনি ও চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্তচাপ কমাতে হয়। কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কোনও অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তবে ধীরে ধীরে ওষুধের সাহায্যে ৬ ঘণ্টা ধরে রক্তচাপ নামানো হয়। আবার অতিরিক্ত নামাতে গেলে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। ল্যাবিটেলল, নাইট্রোপ্রুসাইডের মতো ওষুধ সে ক্ষেত্রে কার্যকরী হয়।’’

এর পাশাপাশি বাড়িতে কিছু ঘরোয়া টোটকা মেনে দেখা যেতে পারে। তাতে শরীর ও মনে খানিক স্বস্তি মিলবে

১. প্রথমেই শান্ত হয়ে নিরিবিলি জায়গায় বসে পড়ুন এবং ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের অনুশীলন শরীরকে শান্ত করে। রক্তনালিগুলিকে শিথিল করে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

২. তার পর জল খেতে হবে। অনেক সময়ে শরীরে জলের পরিমাণ কমে গেলে রক্তনালিগুলি সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ বাড়তে পারে। তাই ধীরে ধীরে ঘরের তাপমাত্রায় রাখা এক গ্লাস জল পান করা উচিত।

 

৩. উচ্চ রক্তচাপে ঘাম ঝরতে পারে। তাই ঠান্ডা সেঁক দিলে আরাম মিলতে পারে। মাথা বা ঘাড়ের পিছনে ঠান্ডা জলে ভেজানো কাপড় বা আইস প্যাক ব্যবহার করলেও উপকার পাওয়া যায়। এতে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে এবং চাপ কমাতে সাহায্য করে।

৪. এর পাশাপাশি নিয়ম করে রক্তচাপ মাপা খুব জরুরি। প্রতি ১৫–২০ মিনিট অন্তর মাপুন এবং দেখুন তা কমছে কি না। যদি রক্তচাপ ১৮০/১২০ বা তার বেশি থাকে, বা বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তা হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.