ভারতীয় জাদুঘরে ‘বঙ্গীয় শক্তি সঙ্গম ২০২৬’: ঘোষণা হল ঐতিহাসিক বঙ্গীয় ত্রিবেণী কুম্ভ মহোৎসব


গত ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় জাদুঘরের আশুতোষ হলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বিশেষ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক মহাসম্মেলন — ‘বঙ্গীয় শক্তি সঙ্গম ২০২৬’। এই অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় বহুল প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক ‘বঙ্গীয় ত্রিবেণী কুম্ভ মহোৎসব ২০২৬’-এর, পাশাপাশি প্রকাশিত হয় তার বিস্তারিত রূপরেখা ও ভাবনা।

‘শক্তি : ভক্তি : প্রকৃতি’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আয়োজিত এই বিশেষ সন্ধ্যায় বাংলার সুপ্রাচীন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং ত্রিবেণী সঙ্গমকেন্দ্রিক কুম্ভ মেলার লুপ্তপ্রায় গৌরব পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানানো হয়। ত্রিবেণী সঙ্গমে এক সময়কার কুম্ভ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আয়োজক কমিটি ও বিশিষ্ট সাধুসন্তরা ২০২৬ সালের কুম্ভ মহোৎসবের তাৎপর্য, উদ্দেশ্য ও সাংস্কৃতিক-আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশ ও রাজ্যের বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন পূজ্যপাদ নির্গুণানন্দ মহারাজ (সম্পাদক, প্রেম মন্দির আশ্রম, রিষড়া), যোগী কালিকারানন্দ সরস্বতী (আনন্দ আখড়া, ঋষিকেশ), ডঃ শোবানা কুমার পট্টনায়ক, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস (চিফ অফ স্টাফ, মাননীয় রাজ্যপাল, পশ্চিমবঙ্গ), শ্রী কাঞ্চন ব্যানার্জী (প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বঙ্গীয় ত্রিবেণী কুম্ভ মহোৎসব), ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য (ডেপুটি ডিরেক্টর, ভারতীয় জাদুঘর, কলকাতা), ডঃ শতরূপা (সদস্য, বোর্ড অফ ট্রাস্টি, ভারতীয় জাদুঘর), পূজ্যপাদ আচার্য সঞ্জয় শাস্ত্রী (সম্পর্ক প্রমুখ, দক্ষিণবঙ্গ, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ), ডঃ রাকেশ দাস (অধ্যাপক, সংস্কৃত ও দর্শন বিভাগ) এবং শ্রীমতী মৌমিতা চক্রবর্তী (গবেষক, সমাজকর্মী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা)।

আধ্যাত্মিক আলোচনা ও প্রদর্শনীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। মানবতাবাদী ও সম্প্রীতির কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত শ্যামা-সঙ্গীত দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় ছায়ানট (কলকাতা)-এর ৪১ জন শিল্পীর কণ্ঠে শ্যামা-সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। এছাড়াও ডঃ সৌম্য ভৌমিকের পরিচালনায় গৌড়ীয় নৃত্যে চণ্ডী বন্দনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। রিতা পালের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত বিশেষ শিল্প প্রদর্শনী ‘শিল্পাঙ্গন’ অনুষ্ঠানকে আরও বর্ণময় করে তোলে।

সমগ্র অনুষ্ঠানে দর্শক ও শ্রোতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের মেলবন্ধনে ‘বঙ্গীয় শক্তি সঙ্গম ২০২৬’ একদিকে যেমন বাংলার আত্মপরিচয়কে নতুন করে তুলে ধরল, তেমনই আসন্ন বঙ্গীয় ত্রিবেণী কুম্ভ মহোৎসব ২০২৬-এর জন্য তৈরি করল এক শক্তিশালী ও আশাব্যঞ্জক ভূমিকা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.