ঢাকা-১৪ আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রবাসী কণ্ঠস্বর নুরুল আমিন

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদান অনস্বীকার্য। অর্থনৈতিক রেমিট্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রবাসীরা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার, বিশেষ করে ভোটাধিকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকেছে। এই প্রেক্ষাপটে যে কজন ব্যক্তি নিরলসভাবে প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন, তাদের মধ্যে নুরুল আমিন অন্যতম।

নুরুল আমিন শুধু একটি নাম নন, তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক। দেশে ও বিদেশে বহু সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। বছরের অধিকাংশ সময়ই তাকে দেখা যায় সফরের মধ্যে—যেখানেই প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে সভা, সেমিনার, আলোচনা বা আন্দোলন হয়েছে, সেখানেই উপস্থিত থেকেছেন নুরুল আমিন। প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তিনি ছিলেন দৃঢ়, আপসহীন ও ধারাবাহিক।

বিশেষ করে প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশীদের জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার যে দাবি, সেটিকে তিনি কেবল বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ রাখেননি। সংগঠন গড়ে তোলা, জনমত সৃষ্টি, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি এই আন্দোলনকে একটি দৃশ্যমান জায়গায় নিয়ে এসেছেন। প্রবাসীদের সংগঠন “কানেক্ট বাংলাদেশ”-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে নুরুল আমিন প্রবাসী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

রাজনীতির ক্ষেত্রেও নুরুল আমিন একজন পরিচিত ও পরীক্ষিত মুখ। তিনি বাংলাদেশে আসম আব্দুর রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডি (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল)-এর কেন্দ্রীয় নেতা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের সাধারণ জনগণের জন্যও কাজ করে যাচ্ছেন। তার রাজনীতির মূল দর্শন হলো—জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা।

ইউরোপে দীর্ঘ সময় বসবাস ও কাজ করার অভিজ্ঞতা নুরুল আমিনের চিন্তা ও কর্মপরিকল্পনাকে করেছে আরও আধুনিক ও বাস্তবমুখী। ইউরোপের গণতান্ত্রিক চর্চা, প্রবাসী নীতিমালা, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবার ধারণা তিনি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রয়োগ করার স্বপ্নই তাকে জাতীয় নির্বাচনের রাজনীতিতে আরও সক্রিয় করেছে।

সম্প্রতি নুরুল আমিন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তিনি ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। এই আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং জনবহুল। যদি তিনি নির্বাচিত হন, তাহলে প্রবাসী বাংলাদেশীরা পাবেন তাদের একজন পরীক্ষিত প্রতিনিধি—যিনি তাদের জীবন, সংগ্রাম ও বাস্তবতা খুব কাছ থেকে জানেন। একই সঙ্গে দেশের জনগণ পাবেন ইউরোপীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন দায়িত্বশীল ও আধুনিক চিন্তাধারার নেতা, যিনি জনসেবাকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে বিশ্বাসী।

নুরুল আমিনের রাজনীতি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়; এটি অধিকারকেন্দ্রিক। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রবাসীরা কেবল রেমিট্যান্স পাঠানোর যন্ত্র নন, তারা এই রাষ্ট্রের সমান অংশীদার। ভোটাধিকার, প্রবাসী সংসদীয় আসন, দূতাবাসভিত্তিক সেবা বৃদ্ধি—এই সব দাবিই তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ। একই সঙ্গে তিনি দেশের ভেতরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের প্রশ্নেও স্পষ্ট অবস্থান রাখেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন আস্থার সংকট প্রকট, তখন নুরুল আমিনের মতো রাজনীতিকরা আশার আলো দেখান। তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা প্রমাণ করে—তিনি কথার মানুষ নন, কাজের মানুষ। প্রবাস ও দেশের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নই তাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।

একজন নাগরিক, একজন সাংবাদিক এবং একজন প্রবাসীবান্ধব চিন্তাধারার মানুষ হিসেবে নুরুল আমিনের প্রতি আমার আন্তরিক শুভকামনা রইলো। তিনি নির্বাচিত হোন বা না হোন, প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের যে সংগ্রাম তিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

লেখক: হাবিব বাবুল
প্রধান সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম  । 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.