ইউরোপকে গ্রিনল্যান্ডের পরিবর্তে ইউক্রেন নিয়ে মাথা ঘামাতে বললেন ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড দখলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়ার পরিবর্তে ইউরোপীয় নেতাদের ইউক্রেন যুদ্ধে নিয়ে মাথা ঘামানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির।

 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ডেনমার্কের মালিকানাধীন অঞ্চলটি (গ্রিনল্যান্ড) অধিগ্রহণে তার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার জন্য ইউরোপীয় নেতাদের সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য এই অঞ্চলটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

 

 

ট্রাম্প বলেন, “ইউরোপের উচিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধের দিকে মনোযোগ দেওয়া, কারণ স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে পরিস্থিতি তাদের কোথায় নিয়ে ঠেকিয়েছে। ইউরোপের মনোযোগ সেখানেই হওয়া উচিত- গ্রিনল্যান্ডে নয়।”

 

এদিকে সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাত এক প্রতিবেদনে জানায়, এই সপ্তাহের শেষদিকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো প্রতিনিধিদল ইউক্রেন সংক্রান্ত তাদের পূর্বনির্ধারিত আলোচনার বিষয়গুলো বাদ দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন ‘গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে ট্রাম্পের অযাচিত প্রস্তাবটিই আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে’।

গত সপ্তাহে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিরোধিতা করা এবং ওই আর্কটিক দ্বীপে সামরিক মহড়ায় সৈন্য পাঠানোর কারণে ন্যাটোভুক্ত আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেন।

 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সিবিএস নিউজকে ট্রাম্প জানান, গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করায় তিনি যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের পণ্যে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।

শুল্কের হুমকি কার্যকর করবেন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে বলেন, “আমি করব, ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করব।

 

গ্রিনল্যান্ড দখল করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ‘মন্তব্য নেই’ বলে জানান। তবে তিনি সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, তিনি দ্বীপটি ‘সহজ উপায়ে’ অথবা ‘কঠিন উপায়ে’ দখল করবেন।

বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটি ইউক্রেন যুদ্ধকে ছাপিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় মিত্ররা গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস লোক্কে রাসমুসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকির মাধ্যমে ডেনমার্কের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মালিকানা অর্জন করতে পারবেন না।

তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে বলেন, “আমাদের কিছু লাল রেখা (সীমানা) আছে যা অতিক্রম করা যাবে না। আপনি হুমকি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পেতে পারেন না। এই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।”

 

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইউরোপের দেখিয়ে দিতে হবে যে শুল্কের হুমকি ‘এগিয়ে যাওয়ার পথ নয়’।”

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, এই জোট আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের সর্বশেষ হুমকির বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ব্রাসেলসে একটি জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, এই জোটের ‘লড়াই করার কোনো ইচ্ছা নেই, তবে আমরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকব’। তিনি আরো বলেন, “বাণিজ্যিক হুমকি কোনো সমাধানের পথ নয়। সার্বভৌমত্ব বিক্রির বিষয় নয়।”

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.