চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল ও কৃষ্ণপুর নজরুল চর্চাকেন্দ্র যৌথভাবে আয়োজন করল ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান ‘সাম্যবাদী নজরুল’। গত ২৩ নভেম্বর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই ১ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন নজরুলসঙ্গীত শিল্পী ও গবেষক সোমঋতা মল্লিক। গান, কবিতা ও নৃত্যে সাজানো মনোজ্ঞ এই আয়োজনে অংশ নেন দুই শতাধিক শিল্পী।
শত বছর আগে ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে নজরুল যে বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সেটি আজ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে— সেই প্রশ্নকে সামনে রেখেই অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্ব সাজানো হয়। নজরুলের নাম উচ্চারণ করলেই ‘বিদ্রোহী’ শব্দটি যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হয়ে যায়; তাঁর আজীবন অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়েই আলোচনার সূত্রপাত করেন আলোচক ড. শেখ কামাল উদ্দীন ও ড. মৃন্ময় প্রামাণিক। ক্ষয়িষ্ণু পৃথিবীতে মানবতার কবি নজরুল কীভাবে তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রমশ আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন— সেই বিশ্লেষণ শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে সোমঋতার পরিচালনায় শতকণ্ঠে পরিবেশিত হয় নজরুলের অমর দুটি গান— ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ এবং ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’। সঙ্গে ছিল প্রেরণা গঙ্গোপাধ্যায়ের নৃত্য পরিবেশনা। পীতম ভট্টাচার্যের পরিচালনায় পরিবেশিত হয় ‘সাম্যবাদী’, সৌম্যশ্রী গাঙ্গুলির পরিচালনায় ‘কুলি মজুর’। এছাড়াও দলীয়ভাবে পরিবেশিত হয় কাব্যগ্রন্থের ‘নারী’ ও ‘সাম্য’ কবিতা।
শেষাংশে সোমঋতার কণ্ঠে ‘জয় হোক, জয় হোক/শান্তির জয় হোক, সাম্যের জয় হোক, সত্যের জয় হোক’ গানটির সমবেত পরিবেশনায় মুগ্ধ হয় উপস্থিত দর্শকরা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে ‘সাম্যবাদী’-র শতবর্ষে নজরুলের চেতনাকে নতুন করে উপলব্ধির এক অনন্য মঞ্চ।

