ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা ২০২৫ প্রমাণ করল—বই শুধু পণ্য নয়, এটি প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সেতুবন্ধন

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বের বৃহত্তম প্রকাশনা শিল্পের আসর — ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা ২০২৫। এবারের আয়োজনে বাণিজ্যিক দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে, যা আন্তর্জাতিক বইবাজারের প্রতি আগ্রহ ও প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

মেলার অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং এর প্রভাব। ডেটা লাইসেন্সিং ও কপিরাইট সুরক্ষা নিয়ে নানা সেমিনার ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষভাবে দৃষ্টি কাড়ে ‘Amlet’-এর উদ্ভাবিত ISCC কোড, যা কনটেন্ট শনাক্তকরণ ও এআই ব্যবহারের লাইসেন্সিং সহজ করবে।

“Frankfurt Calling” শীর্ষক কর্মসূচিতে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মারিয়া রেসা এবং ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গের মধ্যকার আলোচনাটি বিশেষ সাড়া ফেলে।

শিশুদের বই নিয়েও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। “Fragile World” থিমের আলোকে বাড়তে থাকা নিরক্ষরতা ও বইবিরোধী আক্রমণের বিরুদ্ধে শিশুদের পাঠাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। Frankfurt Kids Conference-এ আলোচিত হয় বহুবর্ণিল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সাহিত্য তৈরির প্রয়োজনীয়তা।

এবারের অতিথি দেশ ছিল ফিলিপাইন। “Jeepney Journey” নামে এক রূপকল্পের মাধ্যমে রঙিন জিপনিকে রূপান্তরিত করা হয় সাংস্কৃতিক মঞ্চে—যেখানে ছিল কর্মশালা, সংগীত, সুস্বাদু খাবার ও শিল্প প্রদর্শনী। ফিলিপাইনি লেখকেরা জানান, ওয়াটপ্যাডের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে দেশে গড়ে উঠছে নতুন প্রজন্মের লেখক-পাঠক।

মেলায় বই স্বত্ব বেচাকেনার জমজমাট বাজারে লেখক আর. এফ. কোয়াং এবং সাইমন সেবাগ মন্টিফিওরি-র মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের বই নিয়ে বড় বড় প্রকাশনা চুক্তি সম্পন্ন হয়। লিটারারি এজেন্ট ও স্কাউটদের কেন্দ্র LitAg ছিল কানায় কানায় পূর্ণ—যা প্রকাশনা শিল্পে ব্যবসায়িক সম্ভাবনার প্রমাণ রাখে।

হাবিব বাবুল , প্রধান সম্পাদক , শুদ্ধস্বর ডটকম ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.