প্রেমঘটিত কারণেই জবি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ খুন

পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫, নূরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’ নামের একটি বাসায় রোববার বিকেলে ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে খুন হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, ওই ছাত্রীর প্রেমঘটিত কারণেই খুন হয়েছেন জোবায়েদ।

জানা গেছে, রোববার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে ওই বাসার তৃতীয় তলায় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। বাসার নিচতলা থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিঁড়িতে রক্তের দাগ ছিল এবং তৃতীয় তলার সিঁড়িতে পড়ে থাকতে দেখা যায় তার মরদেহ। এরপর রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিডফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত ১১টার দিকে ওই ছাত্রীকে নিজ বাসা থেকে পুলিশ প্রটোকলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর চলে জিজ্ঞাসাবাদ।

 

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ছাত্রী জানিয়েছেন, তিনি ও তার বয়ফ্রেন্ড মাহির রহমানের প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে খুন হয়েছেন জবি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেন। তবে জোবায়েদের খুনের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন তিনি।

সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সাংবাদিকদের সামনে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ওই ছাত্রীর সঙ্গে মাহির রহমানের ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাহির বুরহান উদ্দিন কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং মেয়েটি ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন। তারা ছোটবেলা থেকেই প্রতিবেশী এবং একে অপরকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন।

 

রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। কিছুদিন আগে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর তিনি মাহিরকে জানান, এখন জোবায়েদকে পছন্দ করেন তিনি। এটা জানার পর রাগে-ক্ষোভে মাহির রহমান তার বন্ধু নাফিসকে সঙ্গে নিয়ে জোবায়েদকে খুন করেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.