তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান গাজায় ইসরাইলের হামলা, গণহত্যা এবং দুর্ভিক্ষের প্রতি জার্মানির উদাসীনতার জন্য সমালোচনা করেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎর্সের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। এর মাধ্যমে গাজার মানবিক সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।
এরদোগান জার্মানিকে ইসরাইলের গাজার উপর হামলা ও গণহত্যার অজ্ঞতার জন্য সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎর্সের তুরস্ক সফরের সময় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে। তিনি মনে করেন গাজার দুর্ভিক্ষ এবং হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করা তুরস্ক, জার্মানি ও অন্যান্য দেশের মানবিক দায়িত্ব। পাশাপাশি তিনি গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
এরদোগান বলেন, ইসরাইলের হাতে পারমাণবিক এবং অন্যান্য শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে, যা তারা গাজায় ব্যবহার করছে এবং হুমকি দিচ্ছে, অথচ হামাসের কাছে এমন অস্ত্র নেই। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গত কয়েক দিনে ইসরাইল আবারও গাজায় হামলা চালিয়েছে। এর ফলে বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৬ জন শিশু রয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জার্মানি কি এসব দেখছে না?” এবং গাজার দুর্ভিক্ষ ও হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করা জার্মানি ও তুরস্কের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর মানবিক দায়িত্ব।
এছাড়া, এরদোগান আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জার্মান রেড ক্রস এবং তুরস্কের রেড ক্রিসেন্টকে গাজায় গণহত্যা ও দুর্ভিক্ষ বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তুরস্ক ও জার্মানি যৌথভাবে গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া শান্তি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলাকে এরদোগান গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সতর্কবার্তা এবং মানবিক উদ্যোগের তাত্পর্য আরও বাড়িয়েছে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স

