হাউহাউ কান্নায় জ়ুবিনকে শেষবিদায় ৮৫ বছরের বাবার

রাস্তা জুড়ে শুধুই তিনি! অসমের বিখ্যাত ‘গামোছা’য় লেখা ‘জ়ুবিন গার্গ চিরকালের’। কাতারে কাতারে লোক নেমে পড়েছেন পথে। তাঁদের প্রিয় গায়ক যে শেষবারের মতো তাঁদের থেকে বিদায় নিতে আসছেন! রবিবার সকালে নির্দিষ্ট সময়ে গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছোয় গায়কের দেহ। প্রয়াত গায়ককে নিতে এসেছিলেন তাঁর স্ত্রী গরিমা শইকীয়া গার্গ। বাড়িতে তত ক্ষণে ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে অধীর ৮৫ বছরের বাবা!

অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাঁর ঝুলিতে। সে সব শুনিয়ে এত দিন তিনি মনোরঞ্জন করেছেন শ্রোতাদের। প্রিয় গায়ককে সেই ভালবাসা অনুরাগীদের বুঝি ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। সদ্যপ্রয়াত গায়কের নামে দেওয়া ধ্বনিতে তাই বুঝি সুরের ছোঁয়া!

জানা গিয়েছে, গায়কের দেহ প্রথমে তাঁর কাহিলিপারার বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সদ্যপ্রয়াত গায়ক-পুত্রের ৮৫ বছরের বাবা এবং গায়কের পরিবার থাকেন সেখানে। সেখান থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হবে অর্জুন ভোগেশ্বর বরুয়া স্পোর্টস কমপ্লেক্সে, যেখানে শনিবার রাত থেকে হাজার হাজার মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে দাঁড়িয়ে!

মরদেহ নিয়ে যাত্রার শুরুতে জ়ুবিনের প্রিয় হুডখোলা জিপ। এই গাড়িতে চেপে তিনি বেশির ভাগ অনুষ্ঠানে যেতেন। যাত্রী নেই। বদলে গাড়িতে ফুল দিয়ে সাজানো তাঁর বিশাল আকারের প্রতিকৃতি। গায়কের শেষযাত্রার সঙ্গী তাঁর প্রিয় বাদ্যযন্ত্রীরা, যাঁরা বছরের পর বছর ধরে নানা অনুষ্ঠানে বাজিয়েছেন গায়কের সঙ্গে। যোগ দেন অসমের ডিজিপি হরমিত সিংহ। গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহান্ত নিজে গাড়ির সামনে হেঁটে ভিড় সরান। গায়ক যাতে নির্বিঘ্নে পৌঁছোতে পারেন।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.