জার্মানির বন সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বাংলাদেশি-জার্মান সাংবাদিক, গবেষক ও রাজনীতিক ড. আব্দুল হাই। তিনি কাউন্সিলর, হার্টব্যার্গ জেলা কাউন্সিল প্রতিনিধি এবং বন সিটির ইন্টেগ্রেশন কাউন্সিলের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। চাঁপাই নবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীর তীরে জন্ম নেওয়া ড. আব্দুল হাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা নেন। তার সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয় ২০০১ সালে ডেইলি স্টার–এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে। এরপর তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) রাজশাহী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। টেলিভিশন সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৫ ও ২০০৬ সালে বিটিভি থেকে সম্মাননা পান।
২০০৭ সালে দারিদ্র্য বিমোচনবিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থা প্যানোস তাকে ফেলোশিপ ও পুরস্কার প্রদান করে। পাশাপাশি তিনি ব্রিটিশ কাউন্সিল, ইউনিসেফ, কেয়ারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গেও কাজ করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগ ও টেলিভিশন শাখায় কর্মরত ছিলেন। ২০১৪ সালে বন বিশ্ববিদ্যালয়, হোকশুলে বন-রাইন-জিগ ও ডয়চে ভেলে একাডেমির যৌথ উদ্যোগে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া স্টাডিজে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০২৩ সালে বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। এছাড়া আফ্রিডাত সংস্থার মুখ্য গবেষক হিসেবে ২০২৪-২৫ সালে স্পেনের গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়েছেন। লেখালেখির প্রতি তার আলাদা ঝোঁক রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, জার্মানি ও ফ্রান্সের সাহিত্যসংকলন, সাময়িকী ও পত্রিকায় তার কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ২০১৫ সাল থেকে বহুভাষিক অনলাইন গণমাধ্যম আওয়ার ভয়েস এবং প্রিন্ট ম্যাগাজিন সীমান্ত সম্পাদনা করছেন। ২০১৬ সালে সহকর্মীদের সঙ্গে যৌথভাবে জার্মানির বার্লিন থেকে হোস্টরাইটার প্রদত্ত বর্ষসেরা পুরস্কার অর্জন করেন। ২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল প্রেস ফাউন্ডেশন থেকে বিরল রোগ নিয়ে গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনের জন্য ফেলোশিপ লাভ করেন। রাজনীতির ক্ষেত্রেও ড. হাই সক্রিয়। ২০২০ সাল থেকে তিনি জার্মানির অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল সামাজিক গণতান্ত্রিক পার্টি (এসপিডি)-এর নেতৃত্বে রয়েছেন। দলের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বন নগরীতে অভিবাসী সমাজের প্রতিনিধিত্বে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। বন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ড. আব্দুল হাই–এর অংশগ্রহণ ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফাতেমা রহমান রুমা ফ্রাংকফুট জার্মানি

