ভালো স্বামী বানাতে বিশেষ স্কুল, যা শেখানো হয়

পুরুষদের ভালো স্বামী বানাতে ‘স্কুল ফর হাসবেন্ড’ নামের বিশেষ স্কুল খুলেছে জাতিসংঘ। এই স্কুলে আক্ষরিক অর্থেই শেখানো হয় কীভাবে একজন পুরুষ ভালো স্বামী হতে পারেন।

পুরুষদের কেন গৃহস্থালি কাজে আরও বেশি সাহায্য করা উচিত। পঞ্চাষোর্ধ্ব ইব্রাহিম ডায়ান বলেন, এমনকি নবীজিও (সা.) বলেছেন, যে পুরুষ তার স্ত্রী-সন্তানকে কাজে সাহায্য করে না, সে ভালো মুসলিম নয়।

পশ্চিম আফ্রিকার অনেক দেশের মতো সেনেগালেও যে কোনো কিছুতে পুরুষের কথাই শেষ কথা। এমনকি পরিবার পরিকল্পনাসহ জীবন বদলে দেওয়ার মতো বড় বড় সিদ্ধান্তেও নারীদের কোনো মতামত নেওয়া হয় না।

নারীর জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর জন্যও পুরুষ সদস্যের ‘অনুমতি’ নিতে হয় তাদের। সেই দৃশ্যপটে কিছুটা পরিবর্তন আনতে দেশটিতে বিশেষ এই কর্মসূচি চালু করেছে জাতিসংঘ।

এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য সমাজের পুরুষ সদস্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে ‘ইতিবাচক পুরুষত্ব’ (পজিটিভ ম্যাসকুলিনিটি) জাগিয়ে তোলা।

ইমাম ইব্রাহিম জানান, ইতিবাচক পুরুষত্ব শেখাতে ধর্মীয় প্রেক্ষাপট টানেন তিনি। কারণ, এই অঞ্চলের মানুষ ধর্মের প্রতি প্রচণ্ড সংবেদনশীল। জেন্ডার এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কেও পুরুষদের সচেতন করার চেষ্টা করেন তিনি। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা থেকে শুরু করে এইচআইভির মতো রোগ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি।

শুক্রবার জুমার নামাজের পরের খুতবায়ও এসব নিয়ে আলোচনা করেন ইব্রাহিম। তিনি বলেন, অনেক নারী আমার খুতবার প্রশংসা করেন। তারা আমাকে জানান, তার খুতবা এবং স্কুল ফর হাসবেন্ডের ক্লাসগুলো করার পর তাদের স্বামীদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এমনকি পুরুষরাও তাকে জানিয়েছেন যে তারা এখন একজন স্বামী এবং বাবা হিসেবে নিজেদের আরও উন্নত করতে চান।

হাবিব ডিয়ালো নামের ৬০ বছর বয়সী এক পুরুষ জানান, ইমামের খুতবা আর জাতিসংঘের কর্মসূচির ক্লাস করার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন বাড়িতে সন্তান জন্মদান কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি বলেন, আমার ছেলের বউ যখন অন্তঃসত্ত্বা ছিল, তখন আমি তাদের হাসপাতালে ডেলিভারি করাতে উৎসাহিত করি। যদিও প্রথমে আমার ছেলে একটু আপত্তি করছিল। হাসপাতালে খরচ কেমন হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল সে। কিন্তু আমি যখন তাকে বুঝিয়ে বলি যে এটা তার স্ত্রী ও সন্তানের জন্য কতটা জরুরি, তখন যে বুঝতে পারে এবং রাজি হয়।

২০১১ সাল থেকেই সেনেগালে এই কর্মসূচি চালিয়ে আসছে জাতিসংঘ। তবে, সম্প্রতি দেশটির নারী, পরিবার, লিঙ্গ ও শিশু সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে এটি।

সেনেগালজুড়ে এই প্রকল্পের প্রায় ২০টি স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ পুরুষকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। এই ৩০০ পুরুষ এখন নিজের জনবসতিতে তার অর্জিত জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.