ট্রাম্প লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি চাইলে সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধ শেষ করতে পারেন। কিন্তু কোনোভাবেই ১২ বছর আগে ওবামার সময়ে রক্তপাত ছাড়াই রাশিয়ার হাতে চলে যাওয়া ক্রিমিয়া ফিরে পাওয়া যাবে না, আর ইউক্রেনের ন্যাটোতে প্রবেশও নয়।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগেই তাকে চাপে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, জেলেনস্কি চাইলে সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধ শেষ করতে পারেন। তবে এর জন্য ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দেয়ার দাবি ও রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রাইমিয়া পুনর্দখলের আশা ছাড়তে হবে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
রোববার রাতে নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি চাইলে সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধ শেষ করতে পারেন। কিন্তু কোনোভাবেই ১২ বছর আগে ওবামার সময়ে রক্তপাত ছাড়াই রাশিয়ার হাতে চলে যাওয়া ক্রাইমিয়া ফিরে পাওয়া যাবে না, আর ইউক্রেনের ন্যাটোতে প্রবেশও নয়। কিছু জিনিস কখনো বদলায় না!!!’
রোববার রাতে ওয়াশিংটনে পৌঁছে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ‘যৌথ শক্তি’ রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই চাই এই যুদ্ধ দ্রুত ও স্থায়ীভাবে শেষ হোক। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সম্মিলিত শক্তিই রাশিয়াকে প্রকৃত শান্তিতে বাধ্য করবে।‘
এর আগেই শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক ইউক্রেনের নিরাপত্তা প্রত্যাশায় বড় আঘাত হানে। বৈঠকটিকে ব্যাপকভাবে পুতিনের জয় ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপমানজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়ার সঙ্গে ‘বড় অগ্রগতি’ হয়েছে।
সোমবারের বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারা আবারও ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা যেকোনো ধরনের ভূখণ্ড ছাড়ার পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন, যা রাশিয়ার আগ্রাসনকে পুরস্কৃত করবে। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে, তা পরিষ্কার করতে চেয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের উদ্যোগকে প্রশংসা করলেও স্পষ্টভাবে বলেন, ‘শান্তির পথ জেলেনস্কিকে বাদ দিয়ে নির্ধারণ করা যাবে না’ এবং রাশিয়ার ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা চাপানোর আহ্বান জানান।

