গাজায় সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৩৫,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৪০% শিশু। আহত: প্রায় ৭৫,০০০ মানুষ আহত, অনেকেই চিরতরে পঙ্গু। গৃহহীন: ১০ লক্ষের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ত্রাণ সংকট: ৮০% মানুষ খাদ্য, পানি ও ওষুধের চরম ঘাটতিতে ভুগছে। জাতিসংঘ বলছে, গাজা আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় “খোলা কারাগার” হয়ে উঠেছে, যেখানে মানুষ প্রবেশ করতে পারছে না, বেরোতেও পারছে না, এবং বেঁচে থাকাও চ্যালেঞ্জ।
ইউরোপের বিবৃতি
———————
ইউরোপের নতুন কূটনৈতিক কণ্ঠ যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ শুধু একটি বিবৃতি নয়—এটি মধ্যপ্রাচ্যে ইউরোপের নতুন ভূমিকাকে তুলে ধরছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পরে, ইউরোপ চাইছে তার কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে এবং ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে স্পষ্ট ভূমিকা রাখতে। ফ্রান্স বলেছে, তারা “সঠিক সময়ে” ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত।
যুক্তরাজ্য ও জার্মানি এখনো আরও আলোচনার পক্ষে।
জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স মনে করে হামাস গাজার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ হতে পারে না। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে নির্বাচন ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি? ১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধ, ২০০৮ সালের গাজা আক্রমণ, ২০১৪ সালের অপারেশনের মতোই, এই যুদ্ধও বিশ্ব ইতিহাসে যুক্ত হচ্ছে আরেকটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে। তফাৎ এই যে, এবার জনগণের সচেতনতা এবং ডিজিটাল মিডিয়ার নজর অনেক বেশি।
উপসংহার: আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের জন্য একটি সুযোগ? এই যৌথ বিবৃতি হয়তো যুদ্ধ বন্ধ করতে পারবে না, তবে এটি নতুন কূটনৈতিক আলোচনার দরজা খুলতে পারে। যদি আন্তর্জাতিক সমাজ একত্র হয়, তবে এই সংকট শুধু একটি মানবিক বিপর্যয় নয়—একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগও হয়ে উঠতে পারে।

