গ্যাবনে অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল এনগেমা বিপুল ভোটে জয়ী

গ্যাবনে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল ব্রিস ওলিগুই এনগেমা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই নির্বাচনে জয়লাভের ফলে তিনি আরও সাত বছরের জন্য দেশটির মসনদে থাকবেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছরের রাজবংশের শাসনের অবসান ঘটানো গ্যাবনের সামরিক নেতা জেনারেল ব্রিস ওলিগুই এনগেমা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। শনিবার নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচনের আগে সমালোচকেরা অভিযোগ করেছিলেন, নতুন সংবিধান এবং নির্বাচনীবিধি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এনগেমার পক্ষে শীর্ষ পদে পৌঁছানো সহজ হয়। বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বিরোধী নেতা এনগেমার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। কিন্তু তাদের নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এই নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে তিনি তাঁর ক্ষমতার আরও পাকাপোক্ত করলেন। প্রায় দুই বছর আগে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট আলি বঙ্গোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। জেনারেল ব্রিস ওলিগুই এনগেমা ছিলেন এই অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনাকারী। প্রেসিডেন্ট আলি বঙ্গো পরিবারের সদস্যরা ১৯৬৭ সাল থেকে গ্যাবনে ক্ষমতায় ছিলেন।

৫০ বছর বয়সী এনগেমার বিরুদ্ধে আরও সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এদের মধ্যে বঙ্গো সরকারের অধীনে দায়িত্ব পালন করা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অ্যালাইন ক্লড বিলি-বাই-এনজে এবং প্রাক্তন ক্ষমতাসীন পিডিজি পার্টির দুই প্রভাবশালী নেতা স্টেফান জার্মেইন ইলোকো এবং অ্যালাইন সিম্পলিস বুঙ্গুয়েরেস ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হারমান ইমংগল্ট ঘোষণা করেন, ‘ব্রিস ক্লোটেয়ার ওলিগুই এনগেমা ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২২২ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।’

তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিলি-বাই-এনজে মাত্র ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ৭০ শতাংশের বেশি নিবন্ধিত ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং কিছু পর্যবেক্ষক এই নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বলেছে।

তবে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। কিছু ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ দেরিতে শুরু হয়, আবার কিছু ভোটার তাদের বুথ খুঁজে পাননি।

বিলি-বাই-এনজে অভিযোগ করেন, কিছু স্থানে ব্যালট পেপার ঠিকভাবে বক্সে ফেলা হয়নি। আবার কিছু বুথে আগে থেকেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করা ছিল।

এনগেমার এই বিজয় তাঁকে সাত বছরের জন্য গ্যাবন শাসন করার ক্ষমতা দিয়েছে। অভিজাত রিপাবলিকান গার্ডের সাবেক কমান্ডার এনগেমা অত্যন্ত স্পষ্টভাষী ও রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসানের পর জনগণের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। দেশের ভাবমূর্তি কলুষিত হবে— এমন কর্মকাণ্ড থেকে দেশকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

তেল ও কাঠ সমৃদ্ধ মধ্য আফ্রিকার এই দেশটিতে মাত্র ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন মানুষের বসবাস। দেশটির সম্পদ থাকা সত্ত্বেও, প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ এখনো প্রতিদিন ২ ডলার (১ দশমিক ৫০ পাউন্ড) এর নিচে জীবনযাপন করে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.