১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের ঘটনাবলী আমি দেখিনি। তার আগেই, ঐ বছর ২১শে এপ্রিল জরুরীআইনে গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দী হওয়ার পর ১৯৭৭ সালের ৩রা মে আমি মুক্তি পাই। সুতরাং ৭ নভেম্বর অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে কর্নেল তাহের বীরউত্তম-সহ ঐ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার এবং তাহের ভাইয়ের ফাঁসির আগে-পরে পুরো সময়টা আমাকে বোঝার চেষ্টা করতে হয়েছে কারাগারে থেকে। এ দিকে বিচার শুরুর মাস দেড়েক আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রায় সকল রাজনৈতিক বন্দীকে (যাদের মধ্যে আমিও ছিলাম) দেশের বিভিন্ন কারাগারে স্থানান্তরিত করে কারাগারকে ’রাষ্ট্র বনাম মেজর জলিল ও অন্যান্য’ মামলার (শুনেছি এটাই ছিল মামলার সরকারী নাম) গোপন ও নিরাপদ বিচারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
কারাগারে থাকলেও আমরা বাইরের ঘটনাবলী সম্পর্কে একেবারে অন্ধকারে ছিলাম তা-ও নয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল ছিল। তা থেকে বাইরের পরিস্থিতি আঁচ করা দুরূহ ছিল না। কিন্তু কারাগার থেকে বের হয়ে সে সব ঘটনাবলী বিশদ জানার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখলাম, পুরো বিষয়টা যেন রহস্যের চাদরে ঢাকা। ৭ই নভেম্বরের ঘটনাবলী নিয়ে নির্মোহ আলোচনা ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের সুযোগ সংগঠনে অনুপস্থিত বলেই মনে হয়েছে।
অতএব এ সংক্রান্ত ব্যক্তিগত অনুসন্ধিৎসা অব্যাহত থাকে।
৭ই নভেম্বরের ঘটনাবলী নিয়ে ঐ ঘটনার কুশিলবদের অন্যতম প্রধান হাসানুল হক ইনুর (বর্তমানে জাসদ সভাপতি ও বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী) একটি বই প্রকাশিত হয় ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারীতে। ‘তিন দাগে ঘেরা বাংলাদেশ’ নামের সেই বইয়ের শুরুতেই ভূমিকার একেবারে গোড়ার লাইনটিতে তিনি লিখেছেন,
” বাঙালি জাতির ইতিহাসের মহত্তম তিনটি ঘটনা হলো ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৭১-এর সুমহান মুক্তিযুদ্ধ আর ’৯০-এর গৌরবোজ্জ্বল গণঅভ্যুত্থান। “
তার তিন দাগের অভ্যন্তরে কোথাও তারই অন্যতম নেতৃত্বে সংঘটিত ৭ই নভেম্বর ঘটনাবলী সম্পর্কে একটি বাক্যও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বইটিতে ৭ই নভেম্বর পুরোপুরি ব্ল্যাক আউট।
এর পর ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় ৭ই নভেম্বরের আরেক প্রধান কারিগর ড. মো. আনোয়ার হোসেনের বই ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ৭ই নভেম্বর অভ্যুত্থানে কর্নেল তাহের’। ড. আনোয়ার শহীদ কর্নেল তাহেরের ছোট ভাই এবং বর্তমানে জাসদের সহ-সভাপতি, আমার শ্রদ্ধেয় বনধু। তার বইয়ের একেবারে শুরুতে ভূমিকার প্রথম লাইনে তিনি লিখেছেন,
” বাঙালি জাতির ইতিহাসে দুটি যুগান্তকারী ঘটনা আছে। একটি মুক্তিযুদ্ধ, অপরটি ৭ নভেম্বর সিপাহী অভ্যুত্থান। “
অর্থাৎ শহীদ কর্নেল তাহের তার জীবন উৎসর্গকারী কাজের জন্য যে সংগঠনটিকে প্রধান অবলম্বন করেছিলেন সেই সংগঠনের বর্তমান দুই শীর্ষ নেতার একজনের বিবেচনায় বাঙালি জতির ইতিহাসে দুটি যুগান্তকারী ঘটনার একটি যদি হয় মুক্তিযুদ্ধ, অপরটি তাহলে ৭ই নভেম্বর। তবে অপর শীর্ষতম নেতার বিবেচনায় বাঙালি জাতির ইতিহাসের মহত্তম তিনটি ঘটনার মধ্যে একটি মুক্তিযুদ্ধ হলেও অপর দুটির মধ্যে জায়গা করে নিতে পারেনি ৭ই নভেম্বরের ’সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান’, যে নামে সংগঠনটি প্রতি বছর দিবসটি পালন করে থাকে ।
যাহোক, ৭ই নভেম্বর সম্পর্কে জাসদ নেতাদের বক্তব্য নিয়ে আমার বলার কিছু নাই। নেতাদের কথা নেতারা বলবেন সেটাই স্বাভাবিক। আমার অনুসন্ধান অন্যত্র।
২০১৪ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত হয় জাসদের পূর্বসূরি ছাত্রলীগের নিউক্লিয়াসপন্থী অংশের অ্যাকটিভিস্ট, মুক্তিযুদ্ধে মুজিববাহিনীর প্রশিক্ষিত যোদ্ধা, সাংবাদিক, কলাম লেখক মহিউদ্দিন আহমদের তথ্য সমৃদ্ধ গবেষণামূলক বই ‘জাসদের উত্থান পতন, অস্থির সময়ের রাজনীতি।
একই সময়ে ৭ই নভেম্বরে ঢাকা সেনানিবাসে কর্নেল তাহেরের প্রধান শক্তি হিসেবে কথিত ’বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’র সভাপতি (!), কর্নেল তাহেরের বিরুদ্ধে গোপন আদালতে বিচারের রাজসাক্ষী, বর্তমানে জার্মানীতে বসবাসকারী সুবেদার মাহবুবের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন লন্ডন ভিত্তিক ’বেতার বাংলা’র ফ্রাঙ্কফুর্ট প্রতিনিধি প্রবাসী সাংবাদিক হাবিব বাবুল। মামলায় বিরূপ সাক্ষ্য দিলেও সুবেদার মাহবুব তার সাক্ষাৎকারে পঁচাত্তরের ৭ই নভেম্বরের ঘটনাবলীতে তার অংশগ্রহণ, নেতৃত্বদান, বিশেষ করে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার আদর্শ ও লক্ষ্য বিবৃতকারী কিছু মূল্যবান তথ্য প্রদান করেন যা সবিশেষ গুরুত্বের দাবীদার। সুবেদার মাহবুবের সাক্ষাৎকারটি ঢাকার সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক’-এ প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালের ১৩ই নভেম্বর সংখ্যায়।
মাহবুব তার সাক্ষাৎকারে যা বলেন তাতে তিনটি উক্তি বিশেষ লক্ষ্যণীয়, যার মধ্যে দিয়ে রাজনীতি সম্পর্কে তার ও তার সংগঠনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ৭ই নভেম্বরের কর্মকান্ডে তার/তাদের অংশগ্রহণের পটভূমি অনুধাবন করা সম্ভব।
এক) ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ হলো সিপাহী-জনতার বিপ্লব। এ বিপ্লব ছিল দেশ, জাতি ও সাধারণ নির্যাতিত মানুষের মুক্তির বিপ্লব। ———– এ সংগঠনে কোনো অফিসার নেই। কর্নেল তাহের বা জেনারেল জিয়া হলেন অফিসার আর আমরা হলাম আর্মির সাধারণ সৈনিক। তাই জনগণ যদি কর্নেল তাহেরকে নেতা হিসেবে জানে, তাহলে আমাদের করার বা বলার কিছু নেই।
দুই) আমি পূর্বেই বলেছি, আমরা সামরিক বাহিনীর লোক। কোনো প্রকার দল বা রাজনীতি করা আমাদের জন্য সম্পূর্ণরূপে নিষেধ। জেএসডি আমরা কখনো করিনি এবং এখনও করি না। আমরা কমান্ড কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ সেদিন পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রেখে বিপ্লবে পা রেখেছিলাম। শুধু বৃহত্তর রাজনৈতিক মোর্চা গড়া এবং স্বৈরাচারী সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সেদিন জেএসডির সঙ্গে মিলিত হয়েছিলাম। কোনো সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটানোর জন্য নয়।
তিন) সমাজতন্ত্র কখনো কোনো দেশে শান্তি আনতে পারেনি। ধনী-দরিদ্রের মাঝে অবস্থা ও অবস্থানের ব্যবধান ঘুচিয়ে আনার দোহাই দিয়ে পুঁজিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে যখনই যে দেশে বিপ্লবের ডাক উঠেছিল, শুরুতে মানুষ না বুঝে অংশ নিলেও পরে তারা ঠিকই বুঝতে পেরেছে এ বিপ্লব সম্ভব নয়, এবং তারা নিজেরাই ফাঁদে আটকা পড়েছে। ———— বাংলাদেশে যারা সমাজতন্ত্রের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করেন, তাদেরকে বলব, জনগণকে আপনারা আর ধোঁকা দিবেন না। আপনারা যদি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ শান্তি-শৃঙ্খলা কামনা করেন, তাহলে বিদেশি শক্তি তথা সমাজতন্ত্রের লেজুরবৃত্তি না করে নিজেদের মধ্যে সহনশীলতা এনে জবাবদিহিমূলক সুষ্ঠূ গণতান্ত্রিক ধারায় রাজনীতি করুন।
ঘটনার প্রায় ৪০ বছর পর ৭ই নভেম্বর অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান সহযোগী সংগঠনের সভাপতি (!) সুবেদার মাহবুবের এ হেন নীতিগত অবস্থান প্রকাশ থেকে অনেক প্রশ্নের সূত্রপাত ঘটে। আমি কেবল একটি প্রশ্ন তুলতে চাই:
এই যদি ছিল ৭ই নভেম্বরের তাহেরানুগত মূলবাহিনী ’বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’র রাজনৈতিক নীতিগত মৌলিক অবস্থান, তাহলে কোন উপলব্ধি থেকে সোভিয়েত প্যাটার্নের একটি বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের জন্য প্রধান শক্তি হিসেবে নির্ভর করা হয়েছিল সুবেদার মাহবুবের নেতৃত্বাধীন ঐ সংগঠনের ওপর !
এবং
” কী কথা তাহার সনে ? “
(যদিও আমরা সর্বদা জেনে এসেছি বিপ্লবী গণবাহিনীর মতো বিপ্লবী সৈনিক সংস্থারও প্রধান ছিলেন শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তম)
’সাপ্তাহিকে’ সুবেদার মাহবুবের সাক্ষাৎকারটি পড়ার পর আমার মনে হয় সাক্ষাৎকারটি খানিকটা অসম্পূর্ণ এবং তা আরো অনুপুঙ্খ (পয়েন্টভিত্তিক) ও নিবিড় হওয়া প্রয়োজন। এই ভাবনা থেকে আমি যোগাযোগ করি সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী ফেসবুক বনধু জার্মান প্রবাসী সাংবাদিক হাবিব বাবুলের সঙ্গে। তিনি ২০১৫ সালের ২১শে জুলাইকে সামনে রেখে সুবেদার মাহবুবের আরেকটি সাক্ষাৎকার গ্রহণে সানন্দে রাজী হন যেটির জন্য আমি কিছু প্রশ্নের পরামর্শ দেবো। সে অনুযায়ী সুবেদার মাহবুবের বক্তব্য আরো স্পষ্ট ও বিষয়ানুগ করতে আমি প্রথমে ৯টি প্রশ্নের একটি প্রশ্নমালা ও পরে সংযোজন হিসেবে আরো একটি প্রশ্ন হাবিব বাবুলকে পাঠাই।
শুনেছি দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছে এবং দু’জন বিশিষ্ট জাসদ-গবেষককে তা পাঠানোও হয়েছে, যা নাকি তাদের পরবর্তী গবেষনাকর্মে সন্নিবেশিত হবে। কিন্তু আমার অনুসন্ধিৎসার তাতে নিরসন হয়নি এবং আমার ক্ষুদ্র লেখালেখির কোনো কাজেও তা লাগছে না। বেশ আবেদন নিবেদন করেও আমি কোনো কপি পাইনি।
আমার বর্তমান পোস্টটি কোনোভাবেই আমার অনুজপ্রতিম বনধু হাবিব বাবুলকে বিব্রত করার জন্য নয়। এ পোস্টটিতে আমি সুবেদার মাহবুবের দ্বিতীয় সাক্ষাৎকার নিয়ে হাবিব বাবুলের সঙ্গে আমার দীর্ঘ বার্তা আদান-প্রদান প্রকাশ করছি, শুধু সেই সাক্ষাৎকারের জন্য আমার সুপারিশকৃত প্রশ্নগুলো তুলে ধরতে, যা থেকে ৭ই নভেম্বর বিষয়ে আগ্রহী সবাই অনুমান করতে পারেন ঐ বিষয়ে আমার চিন্তা-ভাবনা-বক্তব্যই বা কী।
বিশেষত, প্রশ্নের সঙ্গেই অনুক্তভাবে জড়িয়ে আছে সম্ভাব্য জবাবগুলোও, যা হয়তো আগ্রহী অনেকের কৌতুহল মেটাতে সহায়ক হবে।
CONVERSATION STARTS ::
25/04/2015 16:42
SUMON MAHMUD >> প্রিয় বাবুল, আশাকরি ভাল আছেন! আপনি সুবেদার মাহবুবের আরেকটি সাক্ষাৎকার নেবেন লিখেছিলেন। তার কতদূর? যদি অগ্রসর হন তাইলে আমি কয়েকটা প্রশ্ন তৈরী করে দিতে চাই। সাক্ষাৎকারটি ২১ জুলাইকে সামনে রেখে করা যায় কিনা ভেবে দেখবেন। ধন্যবাদ। শুভ হোক!
25/04/2015 18:06
HABIB BABUL >> Sumon vai.apni prosno gulo amake pathiye din.asa korchi 21st july e tar ekta sakkhatkar nebo. Ekhon thekei prostuti nile valo hobe.
SUMON MAHMUD >> Yes, I’ll send you my suggested questionaire soon. It will be appropriate if you contact your preferred media here in advance so that the outcome may be published on that particular day. Thank you.
HABIB BABUL>> Ok
08/05/2015 16:22
SUMON MAHMUD >> প্রশ্ন গুলো পাঠাতে দেরী হয়ে যাচ্ছে বলে দুঃখিত। সামনের সপ্তার মধ্যেই পাঠাবো। আপনি এপয়েন্টমেন্টের জন্যে কথা বলতে পারেন। ভাল থাকুন। শুভ হোক!
HABIB BABUL >> Ami unake bolechi.apnar proso pelei unar sathe bosbo.
SUMON MAHMUD >> Okay! Thank you!
18/05/2015 23:04
SUMON MAHMUD >>প্রিয় হাবিব বাবুল,
শুভেচ্ছা নেবেন। আপনাকে প্রস্তাব দেয়ার আগে থেকেই প্রশ্নগুলোর খসড়া তৈরী করা ছিল। সাজিয়ে লিখতে অযথাই বিলম্ব হলো। এজন্যে দুঃখিত! এই প্রশ্নমালাও একরকম খসড়াই গণ্য করতে পারেন। পরবর্তীতে নতুন কিছু মনে পড়লে পরিমার্জন করা যাবে। আপনার পরামর্শ থাকলে জানাবেন। ভালো থাকুন। শুভ হোক!
সুমন মাহমুদ।।
প্রশ্ন – এক :
গত নভেম্বরে আপনার আগের সাক্ষাৎকারটি বাংলাদেশে ‘সাপ্তাহিক’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় সেখানকার রাজনীতি সচেতন মানুষ বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মীমহলে সাড়া জাগিয়েছে। আমার অনেক বন্ধু এ বিষয়ে আপনার কাছ থেকে আরো বিশদভাবে জানতে চেয়েছেন। তাদের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখাতেই আপনার এই দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারটি নিতে উদ্যোগী হয়েছি।
এ পর্যায়ে আপনার কাছে প্রথম প্রশ্ন হলো:
কর্নেল আবু তাহেরের সঙ্গে আপনার প্রথম সাক্ষাৎ কোথায় ও কিভাবে? আপনারা কখন এবং কেন একমত হলেন যে, দেশে একটি সিপাহী-জনতার বিপ্লব সংঘটনের প্রয়োজন সমুপস্থিত? আপনাদের দু’জনের মধ্যে কে কাকে প্রথম এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি দিলেন?
প্রশ্ন – দুই :
আপনার আগের সাক্ষাৎকারটি পড়ে অনেকেই বলেছেন, শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানো এবং সে সময়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক মহলের কবল থেকে আপনার ভাষায় ‘খোদার খাসী, পাকিস্তানে প্রক্ষিণপ্রাপ্ত’ সামরিক বাহিনীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্য ছাড়া আপনার বক্তব্যে বিপ্লবের আর কোনো সুদূরপ্রসারী বা চূড়ান্ত লক্ষ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। আপনি স্পষ্টতঃই বলেছেন, সমাজতন্ত্র দেশে শান্তি ও মানুষের মুক্তি আনতে পারে না। অপরদিকে কর্নেল তাহেরের লক্ষ্য ছিল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটনের মাধ্যমে একটি সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। তাহলে আপনারা সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী দুজন মানুষ বা দুটি ভিন্নমুখী শক্তি ৭ই নভেম্বরের মতো একটি সশস্ত্র কর্মকান্ডে একজোট হলেন কিভাবে?
প্রশ্ন – তিন :
৭ তারিখেই ঘটনা ঘটাতে হবে এ প্রস্তাব আপনাদের মধ্যে কে কাকে দিলেন এবং কেন দিলেন? কেবল একটা ঘটনা ঘটানো নয়, বরং ঘটনায় বিজয় অর্জনটা করাটাই জরুরী। তো, এই বিজয অর্জনের লক্ষ্যে কী প্রস্তুতি আপনাদের ছিল? শুধু সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য একত্রিত হলেই তো একটা বিপ্লব ঘটিয়ে তাতে টিকে থাকা সম্ভব নয়, এর পেছনে ব্যাপক জনগণের সমর্থনপুষ্ট রাজনৈতিক শক্তির (বা দলের) সক্রিয় সমর্থন – অংশগ্রহণ তো থাকা চাই! আপনারা কি এমন কোনো রাজনৈতিক মহলের (যেমন জাসদ-এর) সক্রিয় সমর্থনের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন এবং তাদেরকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করেছিলেন?
প্রশ্ন – চার :
বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা কে গঠন করেন? আপনি দাবী করেছেন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা মূলতঃ আপনার চিন্তার ফসল এবং এই সংগঠন ও এর পরিচালিত বিপ্লবে কোনো অফিসার ছিল না। অপরদিকে কর্নেল তাহের (এবং জিয়া) ছিলেন অফিসার। আপনি বলেছেন, আপনি ছিলেন সংস্থার নেতা ও সভাপতি। অথচ, সবাই জানে কর্নেল তাহেরই ছিলেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এবং মূল নেতা। শুধু তাই নয়, এই সংগঠন গঠন, পরিচালনা ও এর মাধ্যমে নেতৃত্ব দিয়ে ৭ নভেম্বর অভ্যুত্থান সংঘটনের দায়ে গোপন বিচারে তাহেরকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসিও দেয়া হয়ে গেছে। এবং তা আবার হয়েছে আপনি (এবং আপনারই সহযোগী আরো দুয়েকজন) রাজসাক্ষী হয়ে সামরিক আদালতে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন তারই ভিত্তিতে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
প্রশ্ন – পাঁচ :
জেনারেল জিয়াকে মুক্ত করাই বিপ্লবের প্রথম করণীয় – এই সিদ্ধান্ত কি আপনারা নিয়েছিলেন? এবং নিযে থাকলে কেন নিয়েছিলেন? বন্দী জিয়াকে কে (বা কার নেতৃত্বে) মুক্ত করলেন? তাকে বিপ্লবে সহায়ক নিবেদিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাহচর্যে না রেখে সেকেন্ড ফিল্ড রেজিমেন্ট সদরে হরেক চিন্তা-চেতনার সেনা কর্মকর্তাদের মাঝে কেন রাখা হলো?
প্রশ্ন – ছয় :
জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্নেল হুদা ও কর্নেল হায়দারকে কারা হত্যা করলো এবং কেন করলো?
প্রশ্ন – সাত :
’সিপাহী-সিপাহী ভাই ভাই, অফিসারের রক্ত চাই’ – এই শ্লোগানটি কারা দিলো এবং ৭ই নভেম্বর দিবাগত রাতে বেশ কিছু সংখ্যক অফিসারকে কেন হত্যা করা হলো? প্রচলিত বিশ্বাস হলো এই কাজ বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার লোকেরা করেছে। বিভিন্ন বই পুস্তকেও এ রকমই লেখা হয় এবং এর সম্পূর্ণ দায় চাপানো হয় কর্নেল তাহের ও তার সহযোগীদের ওপর। আপনার বক্তব্য কী?
প্রশ্ন – আট :
‘আপনাদের অস্পষ্ট অভিপ্রায় ও স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে আপনি বা আপনারা কর্নেল তাহেরকে TRAP করেছিলেন এবং কথিত বিপ্লব ব্যর্থ হওয়ায় তাকে বলি দিয়েছেন !’
এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আপনার বক্তব্য কী?
প্রশ্ন – নয় :
আগের সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছেন, ‘৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ হলো সিপাহী জনতার বিপ্লব’। এ পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই বলছেন, ‘আসলে ৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ ব্যর্থ হলো সিপাহী-জনতার পরিকল্পিত বিপ্লব’।
জবাবে আপনি কি কিছু বলবেন?
19/05/2015 00:15
HABIB BABUL >> Ok sumon vai. Kal unar sathe kotha bolbo.
26/05/2015 21:23
SUMON MAHMUD >>সুবেদার মাহবুবের জন্য প্রশ্নমালায় আমি আরেকটি প্রশ্ন যোগ করতে চাই। এটি হবে প্রশ্নমালার ৫ম প্রশ্ন এবং পরের প্রশ্নগুলোর নম্বর এক ধাপ এগিয়ে হবে যথাক্রমে ছয়, সাত, আট, নয় এবং দশ।
প্রশ্ন – পাঁচ :
বিপ্লবী গণ-বাহিনীর সঙ্গে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার কী সম্পর্ক ছিল? ৭ নভেম্বর বিপ্লবে বিপ্লবী গণ-বাহিনীর ভূমিকা ও কর্মকান্ড সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
HABIB BABUL >> ওকে । ভালো হবে বড় করে নিতে পারলে ।
SUMON MAHMUD >> ঠিক বলেছেন। আমরা অপেক্ষায় রইলাম। ভাল থাকুন! শুভ হোক!
HABIB BABUL >> আপনিও ভালো থাকুন ।
28/06/2015 15:50
SUMON MAHMUD >> বাবুল, কেমন আছেন? আপনার সাক্ষাৎকার প্রকল্পের কতদূর? সময় তো হয়ে এলো। শুভেচ্ছা জানবেন।
HABIB BABUL >> সুমন ভাই, আগামী শুক্রবার হয়ে যাবে ।
SUMON MAHMUD >> খুব ভালো। ছাপা হবে কোথায়? কথা বলেছেন?
HABIB BABUL >> না, এখনও বলিনি, আপনার কোন পছন্দ থাকলে জানাবেন ।
SUMON MAHMUD >> আগে যেখানে হয়েছিল সেখানে হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত।
HABIB BABUL >> ওকে ,তাহলে মোর্তুজা ভাইকে বলবো ।
SUMON MAHMUD >> তবে প্রথম আলোতে একটু নক করে দেখতে পারেন। বেশি মানুষ পড়তে পারতো।
HABIB BABUL >> মেসবাহ ভাইকে বলবো ,সোহরাব হোসেনের সাথে কথা বলতে । উনার একটা ধারাবাহিক লেখা প্রথম আলোতে একবার ছেপেছিল ।
SUMON MAHMUD >> প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলাটা একটু সমস্যাই। মনে করে বড় গরজ!
HABIB BABUL >> হ্যাঁ, একটু সমস্যাই, যুগান্তরে মনে হয় মাহাবুব কামাল আছে ,তার সাথে কি আপনার যোগাযোগ আছে ?
SUMON MAHMUD >> না ! ফেসবুক ছাড়া আমি আসলে কারো সাথেই আর যোগাযোগের মধ্যে নেই।
HABIB BABUL >> দেখি আমি যোগাযোগ করার চেষ্টা করবো ,নইলে ‘সাপ্তাহিকে’ দিয়ে দেবো ।
SUMON MAHMUD >> হ্যাঁ, সেটাই ভালো হবে! ভালো থাকুন!
24/07/2015 12:08
SUMON MAHMUD >> ইন্টারভিউটা বোধহয় হলো না !
HABIB BABUL >> উনি সময় করতে পারেন নি ,নভেম্বরের প্রকাশ হলে ভালো হয় বলেছেন, আর কিছু বিষয় যোগ করতে চান এই বিষয়ে ।
SUMON MAHMUD >> ঠিক আছে, যা ভালো মনে করেন। ওখানে ৭ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট আর কেউ কি আছে?
HABIB BABUL >> Na ekhane keu nei
Ekjon chilo mara geche.
24/07/2015 15:26
SUMON MAHMUD >> Okay! Thanks!
16/08/2015 14:32
HABIB BABUL >> সুমন ভাই, আজ মহিউদ্দিন ভাইর ইন্টার্ভিউ করবো, ইন্টারনেট এ লগইন করে শুনতে পারবেন ।
SUMON MAHMUD >> কিভাবে লগ ইন করবো এবং সময়টা কখন?
HABIB BABUL >> বিকেল পাঁচ টায় অনুষ্ঠান শুরু করবো , সাড়ে পাঁচটায় মহিউদ্দিন ভাই যোগ হবেন, লাইভ অনুষ্ঠান ।
listen live e klik korlei radio sunte parben.
SUMON MAHMUD >> সাড়ে পাঁচটা + ক’ ঘন্টা?
HABIB BABUL >> 20 মিনিটের মতো বলবেন
SUMON MAHMUD >> না না, আমি জানতে চাচ্ছি বাংলাদেশ সময় কত? ৪ ঘন্টা যোগ করবো, না ৫ ঘন্টা?
HABIB BABUL >> না যোগ করতে হবে না। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে পাঁচ টা । আমি যোগ করেই সময় ঠিক করেছি ।
SUMON MAHMUD >>আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে । আমি শুনবো। ধন্যবাদ আপনাকে!
27/09/2015 09:59
SUMON MAHMUD >> Dear Habib Babul, what about your project now? Will it be done this time? Thank you! s.m.
27/09/2015 12:44
HABIB BABUL >> Sumon vai.ei bar korchi.
SUMON MAHMUD >> খুশির কথা! ধন্যবাদ! কবে নাগাদ শেষ হবে বলে মনে করছেন?
HABIB BABUL >> Nov er prthom soptha e prokasito hobe.
SUMON MAHMUD >> কোন কাগজে? অপেক্ষায় থাকছি।।
HABIB BABUL >> Somvoto manobjomine ami ekhono kotha bolini tobe moti vair sathe amar ekjon bondhu kotha bolbe boleche.
SUMON MAHMUD >> ধন্যবাদ!
03/11/2015 14:11
HABIB BABUL >> সুমন ভাই , টুলু ভাইর নাম্বারটা দিতে পারবেন ।
SUMON MAHMUD >> Tulu Bhai – 01718243287. What about your project?
HABIB BABUL >> পাঠিয়েছি সম্ভবত ছাপা হবে ,
SUMON MAHMUD >> কোন কাগজে?
HABIB BABUL >> আলতাফ পারভেজের ও কিছু প্রশ্ন ছিল ,এগুলো যুক্ত করে উনার কাছেই পাঠিয়েছি, উনি কোন কাগজে দেবেন এখনও জানি না ,আজকালের মধ্যে জানতে পারবো ,সম্ভবত কোন দৈনিকে ছাপা হবে।
SUMON MAHMUD >> ধন্যবাদ!
09/11/2015 08:19
SUMON MAHMUD >> আপনার লেখাটির ব্যাপারে আর কিছু জানতে পারলাম না। আলতাফকে যেটা দিয়েছেন তার কপি কি আমাকে দেয়া যায়? অন্ততঃ জবাবগুলো জানতে পারতাম !!
09/11/2015 20:44
HABIB BABUL >> উনার উত্তর গুলো যথাযথ হয়নি ,তাই ছাপায় নি ,তবে কয়েকদিনের মধ্যে ছাপাবে আশা করি ,কিছু নতুন যোগ করে, তার হাতের লেখা উত্তর গুলো এলোমেলো অনেকটা ,আলতাফ পারভেজ কাজ করছে এটা নিয়ে ।
12 JANUARY 23:39
SUMON MAHMUD >> প্রিয় বাবুল, শুভেচ্ছা নিবেন। আশা করি ভালো আছেন! সুবেদার মাহবুবের সাক্ষাৎকারটি হয়তো প্রকাশিত হলো না। তা না হোক, আপনার নেয়া পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারের কপি যদি আমাকে দিতেন তাহলে উপকৃত হতাম। আসলে ৭ নভেম্বর ঘটনাবলী সম্পর্কে আমার নানা অনুসন্ধিৎসার জবাব খুঁজতেই আমি প্রশ্নমালাটি তৈরী করেছিলাম। সেটুকু চরিতার্থ হলে আমার বহু কৌতুহলের নিরসন হতো। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ !!
[ দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলতে থাকা ফেসবুক কথোপকথনটি এখানে এসে আকস্মিকভাবে শেষ হয়ে যায়, এবং এরপর এ ব্যাপারে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।]
[ অনুসন্ধিৎসূ পাঠকের সুবিধার জন্য ২০১৪ সালের ১৩ই নভেম্বর সাপ্তাহিক ‘সাপ্তাহিকে’ প্রকাশিত হাবিব বাবুলের নেয়া সুবেদার মাহবুবের সাক্ষাৎকারটি আমি ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করে হুবহু শেয়ার করলাম, – নিচে, এবং প্রথম কমেন্ট বক্সে। এই পোস্টের জন্য যে ছবিটি ব্যবহৃত হলো সেটি ঐ সাপ্তাহিকেরই প্রচ্ছদ। ]

