“সাকিব কেন সহানুভূতি পাওয়ার যোগ্য না?”

সাকিব আল হাসান ।বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ক্রীড়াবিদ। বহির্বিশ্বে সাকিবের চেয়ে বাংলাদেশের অন্য কোন খেলোয়াড়ের পরিচিতি আছে কিনা সন্দেহ।বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা অল রাউন্ডার হিসেবেও সাকিবের দাবী সবচেয়ে জোরালো।ক্রিকেটের অসংখ্য বিশ্বরেকর্ড সাকিবের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে।
ক্রিকেটের অর্জনে সাকিব আজীবন মানুষের মনে থাকতে পারতেন শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে।নতুনদের জন্য হতে পারতেন অনুপ্রেরণা।কিন্তু সাকিব নিজের খ্যাতিকে কাজে লাগিয়েছেন অনৈতিক সুবিধা নেয়ায়।ক্যারিয়ারের শুরুতে সাকিব কোন একটা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সাথে নিজেকে জড়িয়েছিলেন।যারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে বিদেশে মানুষ পাচার করেছে।যদিও সাকিব সেই কোম্পানির সাথে সরাসরি নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন বরাবর।ব্যাপারটা খুব বেশিদূর এগোয়নি ।
সাকিব অহংকারী।সমর্থক আর দর্শকদের সাথে বিরুপ আচরণের জন্য সমালোচিত হয়েছেন।আবার সেই সাকিব এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারার পর শিশুর মতো কেঁদেছেন।বিদেশে বাজে আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদে দলকে মাঠ থেকে উঠিয়ে আনার সাহস দেখিয়েছেন। ঢাকা লিগে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে লাথি দিয়ে স্ট্যাম্প ভেঙেছেন ।সাকিব বেয়য়াদব।কিন্তু প্রতিবাদের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছেন অনেকবার।
সাকিব ক্রিকেট জুয়ারিদের সাথে যোগাযোগের জন্য আইসিসি কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়েছেন।যদিও সাকিব ম্যাচ পাতিয়েছেন, ব্যাপারটা তা নয়।তিনি জুয়ারিদের যোগাযোগের বিষয়টি গোপন করেছেন।যা আইসিসি কোড অফ কন্ডাক্টের পরিপন্থী।তাই সাজা পেয়েছেন।
সাকিব অর্থলোলুপ।অর্থের বিনিময়ে খেলার ফাঁকে চলে গেছেন কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনে।দুবাইতে পুলিশ হ*ত্যা মামলার আসামী আরাভ খানের স্বর্ণের দোকান শোরুম উদ্বোধন করায় তাকে বিপাকে পড়তে হয়েছে।সাকিব বিদেশের মাটিতে কারো বিয়ের অনুষ্ঠানে অর্থের বিনিময়ে অতিথিদের সাথে ছবি তুলে সমালোচিত হয়েছেন।
সাকিব শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারিতে নিজেকে জড়িয়েছেন।ব্যাংকের শেয়ার কিনতে যেয়ে বাবার নাম জাল করেছেন।জুয়া কিংবা অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সাকিব ‘বেট উইনার’ নামের অনলাইন জুয়ার প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। ‘রিলায়াবল কমোডিটিস এক্সচেঞ্জ কোম্পানি’ এবং ‘বুরাক কমোডিটিস এক্সচেঞ্জ কোম্পানি’–এর মাধ্যমে জনৈক রাশেক রহমানের সঙ্গে অংশীদারি ব্যবসা করেছেন। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশ থেকে সোনা আমদানি ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারের শুল্ক ও রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ব্যবসা করেছে। কাঁকড়া খামারের মাধ্যমেও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে সাকিবের বিরুদ্ধে।
খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারে স্ক্যান্ডাল নত্তুন কিছু । নারী কিংবা মাদক বিষয়ক কেলেঙ্কারি খেলোয়াড়দের জন্য খুব স্বাভাবিক ঘটনা।কিন্তু সাকিব কাঁচা নন।তিনি সামান্য বিষয়ে নিজেকে জড়াননি।তিনি অনিয়ম করেছেন রাঘব-বোয়াল স্টাইলে।বিশ্বসেরা ক্রিকেটার হওয়ার সুবিধা সাকিব দুইহাতে নিয়েছেন।
সাকিব ২০২৪ সালেই এমপি হয়েছিলেন।দুনিয়াতে খেলোয়াড়দের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া নতুন কিছু না। জর্জ উইয়াহ লাইবেরিয়ার রাষ্ট্রপতি হয়েছেন।পেলে থেকে শুরু করে আমাদের দেশের জয় হয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী।কিন্তু তারা সকলেই খেলাধুলায় ক্যারিয়ার শেষ করে রাজনিতিকে বেছে নিয়েছেন। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও তাই করেছেন।
বাংলাদেশে মাঠে সচল ক্রিকেটারদের রাজনীতিতে এনে সস্তা স্টান্টবাজির সূচনা করেছে আওয়ামী লিগ।মাশরাফি আর সাকিবরা ফাঁদে পা দিয়েছেন।জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার সময় তারা নিশ্চুপ থেকেছেন।দায়িত্বশীল পদে থেকে মাশরাফি আর সাকিবদের চুপ থাকা মানুষ মেনে নেয়নি।তারা নিজ দেশেই এখন অনেকটা গণশত্রু। সাকিব তো দেশেই আসতে সাহস পাচ্ছেন না নিরাপত্তার ভয়ে। অথচ দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবের বিদায়টা হতে পারত রাজসিক।বিদেশে পালিয়ে থাকাবস্থায় নয়।
সাকিবের বিরুদ্ধে হ*ত্যা মামলা হয়েছে।যদিও আন্দোলনের সময়টায় সাকিব ক্যানাডায় টি টুয়েন্টি ক্রিকেট খেলায় ব্যস্ত ছিলেন।তাই তার বিরুদ্ধে হ*ত্যার অভিযোগ হয়ত টিকবে না- আভাস মিলেছে উপদেষ্টাদের মন্তব্যে।কিন্তু আদালতের শাস্তি না হলেও মানুষের ঘৃণা কমছে না। তারা সাকিবকে বয়কট করে বসে আছে।
সাকিব আর মাশরাফির ঘটনায় শিক্ষা নিতে পারে অন্যরা।খেলাধুলার সাথে সাথে নৈতিকতা বিষয়ে সজাগ থাকার শিক্ষা । তারা দেশের আইডল।তাদের একটা বক্তব্য আর পদক্ষেপের মুল্য অনেক বেশী। অন্যথা হলে মানুষ যেমন তাদের মাথায় তুলে নাচতে পারে । তেমনি ছুঁড়ে ফেলতে পারে আস্তাকুঁড়ে ।
আহসান হাবীব সুমন , ক্রীড়া সাংবাদিক ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.