অন্তর্বর্তী সরকারে আস্থা রাখুন, এখনই উপসংহার টানার সময় হয়নি : রিজওয়ানা হাসান

 

অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দেশের নাগরিক ও সুশীল সমাজকে আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পানি সম্পদ এবং বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের যে দীর্ঘপথ, সেই রাস্তাটা মসৃণ হওয়ার বাস্তবিক কোনো কারণ দেখতে পাচ্ছি না। সেজন্য বলবো- আমাদের ওপর একটু আস্থা রাখুন। এখনই অন্তর্বর্তী সরকারের সফলতা নিয়ে উপসংহারে চলে আসার সময় হয়নি, কোনো কারণও ঘটেনি।’

শনিবার ‘নাগরিক সমাজ : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক জাতীয় পরামর্শ সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে রিজওয়ানা হাসান এসব কথা বলেন। রাজধানীর গুলশানে একটি অভিজাত হোটেলে এ সভার আয়োজন করা হয়। রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমরা তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করছি। কেউ যখন কোনো আন্দোলন করছেন, দাবি তুলছেন; আমরা বলছি- আপনাদের মুখপাত্রকে পাঠান, আমরা বসবো; বলবো। আমাদের দরজা আলোচনার জন্য সবসময় খোলা। এটিই বৈষম্যবিহীন রাষ্ট্র গঠনে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি।’

প্রথাগত সরকারগুলোর পথে অন্তর্বর্তী সরকার হাঁটছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর প্রথাগত সরকারগুলো যেভাবে সমস্যা হ্যান্ডেল করেছে, আমরা সেভাবে সমাধানটা করতে চাচ্ছি না। ভিন্নধারায় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছি। সেটা আপনারা দেখতে পারছেন। অনেক ক্ষেত্রে আপনারা সহায়তাও করছেন। রাষ্ট্র সংস্কারের কাজটা অন্তর্বর্তী সরকারের নয়, সরকারের উপদেষ্টাদেরও নয়; এটা রাষ্ট্রের নাগরিকদের ডিমান্ড (চাহিদা)। সেই কাজটা করতে আমরা সংলাপ-আলোচনা শুরু করেছি। কমিশন করেছি, নিজেরাও কাজ করছি।’ 

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন খাতে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এগুলোকে খালি চোখে দেখতে নিরুৎসাহিত করেছেন রিজওয়ানা হাসান। তার ভাষ্য, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কতগুলো জায়গায় যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তার ভেতরে কিন্তু অন্য কিছু কাজ করছে। হঠাৎ করে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে অস্বস্তির মধ্যে পড়ে গেলো। আমি নিজে এ বাংলাদেশে বড় হয়েছি। নিজের মধ্যে তো সাম্প্রদায়িকতা দেখিনি। কাজেই খালি চোখে যা দেখা যায়, ঘটনার অন্তরালে আরও অনেক ঘটনা থাকে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, কোনো ক্ষেত্রে যদি আপনারা দেখেন বৈষম্যবিরোধী সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে আমরা এগোতে পারছি না; এটুকু মনে রাখবেন যে, বৈষম্যবিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এতটা সহজও হবে না। নতুন একটি রাষ্ট্র গঠনের পথ মসৃণ নয়। কারণ প্রত্যেকেই কিন্তু তার ফুটপ্রিন্ট রেখে গেছে এ দেশে। প্রত্যেকে কিন্তু সুবিধাবাদীদের রেখে গেছে। তারাও কিন্তু অ্যাক্টিভ ফোর্স হিসেবে মাঠে কাজ করছে। তবে, যদি কখনও দেখেন সরকারের পক্ষ থেকে বৈষম্য প্রতিষ্ঠার জায়গাগুলোতে আক্রমণ হয়েছে বা হচ্ছে, সেটা বলবেন। আবার সবসময় আক্রমণের একই ব্যাখ্যা বা সরলীকরণের সুযোগ আছে বলেও মনে করি না। সেজন্য আমাদের সংস্কারের পথটা এতটা মসৃণ হওয়ার সুযোগ নেই।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.