কাজী নজরুল ইসলাম নদিয়ার কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ জানুয়ারি, কারও মতে ৫ জানুয়ারি। ১৯২৮ পর্যন্ত ছিলেন কৃষ্ণনগরের গ্রেস কটেজে। সেখানেই ১৯২৬ সালের ৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র বুলবুল। তার অন্নপ্রাশন হয় ১৯২৭ সালের ১৩ মার্চ। ১৯৩০ সালের ৭ মে কলকাতায় বুলবুলের মৃত্যু হয়। তার পরেই নজরুলের জীবনে পরিবর্তন আসে। নদিয়াতে নজরুল যখন ছিলেন তখন তাঁর চরম দারিদ্র্য। এখানে বসেই লিখেছিলেন ‘দারিদ্র্য’ কবিতাটি। এখানেই লেখেন ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাস।
কাজী নজরুল ইসলাম নবদ্বীপে শ্রী শ্রী রাধা মদনমোহন জীউর মন্দিরে অনেকবার এসেছেন বলে পরিবার সূত্রে দাবি করা হয়। সেখানে নজরুল যে চেয়ার, টেবিল ব্যবহার করতেন, সেগুলি এখনো সংরক্ষিত আছে। কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নবদ্বীপ কথাশিল্প আবৃত্তি চর্চাকেন্দ্র এক স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল নবদ্বীপ বকুলতলা প্রাক্তনী সভাগৃহে। ছোট্ট শিল্পী আরাত্রিকা দেবনাথের গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। নজরুলগীতি পরিবেশন করেন পিয়ালি সাহা। তবলায় সঙ্গত করেন শুভ্রশেখর তা। আয়োজক সংস্থার প্রধান পীতম ভট্টাচার্য প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখেন সুব্রত গাঙ্গুলি। নজরুল ও তাঁর প্রাণপ্রিয় বুলবুল সম্পর্কে আলোচনা করেন কলকাতা ‘ছায়ানট’ – এর সভাপতি, নজরুল গবেষক, সংগীতশিল্পী সোমঋতা মল্লিক। তিনি নজরুলের ভক্তিগীতি পরিবেশন করেন। শ্রোতাদের একের পর এক গানের অনুরোধ আসতে থাকে। সকলেই মুগ্ধ তাঁর গানে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দেবাশিস নন্দী।

