দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে শতবর্ষ অতিক্রান্ত নেতাজির প্রতিষ্ঠিত মতিলাল ঘোষ লাইব্রেরিতে উদযাপিত হল স্বাধীনতা দিবস। এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ছায়ানট’ (কলকাতা) গোষ্ঠীর সঙ্গীত পরিবেশনা। শ্রীমতী সোমঋতা মল্লিকের সুদক্ষ পরিচালনায় কাজী নজরুল ইসলামের বেশ কয়েকটি দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা এনে দেয়। ‘ছায়ানট’ (কলকাতা)-র তরফে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয় কাজী নজরুল ইসলামের বেশকিছু বই। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন লাইব্রেরির বর্তমান সম্পাদক সন্দীপ দত্ত, শরৎচন্দ্র বসুর পৌত্র অভিজিৎ রায়, লেখক তথা সাংবাদিক গোপাল দাস প্রমুখ বিশিষ্টজনেরা।

এছাড়া অরুণাভ মিত্র, পার্থপ্রতিম চক্রবর্তী, প্রিয়াঙ্কা করাতি, স্বর্ণালী চক্রবর্তী প্রমুখ লাইব্রেরির তরুণ সদস্যরা উপস্থাপন করেন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য ও কবিতা আবৃত্তি। উপস্থিত ছিলেন লাইব্রেরির বেশকিছু সদস্য ও এলাকার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষজন। ১৯২৩ সালে তরুণ সুভাষচন্দ্র বসু দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর অঞ্চলে একই দিনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘দক্ষিণ কলকাতা সেবক সমিতি’ এবং ‘মতিলাল ঘোষ লাইব্রেরি’। তিনিই ছিলেন এই লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং সভাপতি ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছিল সে যুগের প্রখ্যাত সাংবাদিক তথা অমৃতবাজার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মতিলাল ঘোষের নামে।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের বোন ঊর্মিলা দেবী সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের ব্যক্তিগত সংগ্রহের বই লাইব্রেরিতে দান করেন। লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত সুভাষচন্দ্রের দান করা এবং সাক্ষরিত একটি বই এখনো অতীত ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। সেবক সমিতি ও লাইব্রেরি গঠনের সূচনা পর্বে সুভাষচন্দ্রের দাদা শরৎচন্দ্র বসু, ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়, ঊর্মিলা দেবী, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের পুত্র দিলীপকুমার রায়, স্যার আশুতোষের জ্যেষ্ঠপুত্র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, ডাক্তার সুনীল বসু, প্রভুদয়াল হিম্মৎসিংকা, বসন্তকুমার বসু, ধীরেন্দ্রনাথ ঘোষ, প্রমুখ বিশিষ্ট জনেরা এগিয়ে এসেছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে। এছাড়া যতীন দাস, গণেশ ঘোষ সহ বহু বিপ্লবীর নিয়মিত যাতায়াত ছিল এই লাইব্রেরিতে। সুভাষচন্দ্রের অন্তর্ধানের পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার দফায় দফায় লাইব্রেরিটি বন্ধ হয়ে গেলেও এলাকার উৎসাহী মানুষের উদ্যোগে এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এটি আবার চালু হয়। যদুবাবুর বাজারের দ্বিতলে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এই লাইব্রেরিটি আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে।

