বাঘ- ভেড়া- ইউনূস- ভূরাজনীতি

জলের শ্যাওলা”- পরিষ্কার করে পড়ুন অতঃপর ভাবুন/ বুঝুন। হালকা পড়ে অভিব্যক্তি (expression) অথবা ব্যাখ্যা (Interpretation) দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে। আমি স্রেফ আপন বুঝ, আপন ক্ষুদ্র জ্ঞানে খোলা হৃদয়ে লিখছি। শতভাগ উদ্দেশ্য বিহিন। যে কোন যুক্তি/ ব্যাখ্যা/ অভিব্যক্তিকে স্বাগত জানাই। স্মরণে রাখুন যুক্তি- তর্ক- ব্যাখ্যা- লেখা/ লেখার বিপরীতে লেখা এগুলো সব সময় দেশকে ভালবেসেই হয়।

প্রথমেই স্পষ্ট করে বলি:

“ভারত আন্তর্জাতিক লুকায়ীত ও রেষারেষি বা পরস্পর দ্বন্দ্ব যুদ্ধে মার্কিনিদের নিকট ধরাশায়িত”

শব্দে লক্ষ্য রাখুন। আমি ধরাশায়ি বলছি তবে পরাজিত বলছি না। পরাজিত বলার সময় এখনও আসেনি তবে কিভাবে আসতে পারে? সেটা খুবই সংক্ষেপে বলবো শেষে ।

পরাজিত কখন হয় ? প্রথমে ধরাশায়িত হয়, তারপর দস্তখত করে, সব হস্তান্তর করে অতঃপর পলায়ন করে অথবা নত মাথায় চলে যায়/ জেলে যায়। ৭১ কে স্মরণ করুন। সেই সময়ে বিশ্বের তৃতীয় শক্তিধর আর্মির সেনা প্রধান নিয়াজী দস্তখত দিলো অতঃপর নত মাথায় ফিরে গেলো।

এবারের ছাত্রদের আন্দোলনে শেখ হাসিনা প্রথমে ধরাশায়ি হয়েছে, পরাজিত হয়েছে এবং পলায়ন করেছে। তবে ভুল করবেন না যেন, মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়েছে ভেবে। মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র খুলে দেখুন, কি লেখা আছে ? শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ আর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী লীগ আকাশ- পাতাল ফারাক ছিল। থাক সে কথা। ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এগুলো উঠে আসবেই আসবে।

(যারা দুই/ চারজন আমার লেখা পড়ে থাকেন, আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন, আমি সব সময় রাষ্ট্রের চেয়ারের কারণেই এবং রাষ্ট্রের চেয়ারের সম্মান বজায় রাখতে মাননীয় শেখ হাসিনা/ সাবেক মাননীয় খালেদা জিয়া লিখে থাকতাম। তবে পরাজিত এবং পলায়িতকে কখনোই মাননীয় লেখা যায় না।)

আরও একটু লক্ষ্য করুন:
(বহুবার লিখেছি/ শত- হাজারবার লিখেছি),

“ভারত বিশ্ব পরাশক্তি হতে চায় তবে পড়শী দেশগুলোর সাথে সম মর্যাদার সম্পর্ক না গড়ে, কেবলমাত্র দাদাগিরি করে পরাশক্তি হতে চায়। যা পৃথিবীর কোন অংশেই ওটা হয় না বা সম্ভব নয়। সে কারণেই আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বে ভারত ধরাশায়িত হলো মাত্র ” বলছিলাম অত্র অঞ্চলের কথা।

কেন মাত্র বলছি ?

” ভারতের এই ভারতীয় মলিন আন্তর্জাতিক জ্ঞানের কল্যাণে চীন পড়লো বড় বিপদে। চীন কিন্ত বিশ্ব পরিমণ্ডলে অবশ্যই এখন পরাশক্তিদের একটি। অত্র অঞ্চলে চীনকে এখন থেকে দু’মুখী লড়াইয়ে জীবিত থাকতে হবে। তাও আবার তাদের বড় শত্রু মার্কিনিদের সাথে” (লক্ষ্য করুন, আমি শব্দটি বলছি- জীবিত)

এখন একটি বাংলা প্রবাদ বলি:

” খুঁটির জোরে ভাড়া নাচে”- বাংলা প্রবাদ। এবার আসুন আমাদের সর্বোচ্চ সম্মানিতজন প্রফেসর ইউনূস সাহেবের একটি সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি বচন নিয়ে একটু বুঝার চেষ্টা করি।

ইন্ডিয়ান সাংবাদিকদের প্রশ্ন:

সাংবাদিকঃ
আপনার দেশে এসব কি হচ্ছে? ঢাকায় নৈরাজ্য চলছে এর কারণ কি?

প্রফেসর ইউনুসঃ
কই নাতো! আমার দেশের মানুষ স্বাধীনতা উৎযাপন করছে।

এরপর প্রফেসর ইউনূস সাহেব ভারতকে ডাইরেক্ট একটি কড়া হুমকি দিলেন। (মাঝে অনেক কিছু আছে/ আমি দুটি পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করছি মাত্র)। কি হুমকি ?

“ভারত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার কোন চেষ্টা করলে, ভারত, মায়ানমার, সেভেনসিস্টারও অক্ষত থাকবে না”।

এখানে বলে রাখি, প্রফেসর ইউনূস পুরোটা সময় বাংলাদেশের মানুষকে প্রোটেক্ট করে গেছেন এবং বেশ কঠিন স্বরে যা সত্যিই আত্মা জুড়িয়ে যাবার মতন।

আত্মা আমারও জুড়িয়েছে তবে ভাবনাও মনে চলে আসে। সেটাই লিখছি।

আমার লেখা বই, ” প্রত্যাশার বাংলাদেশ “-এ একটি বিশাল প্রবন্ধ আছে প্রফেসর ইউনূস সাহেবকে নিয়ে। সেই বইয়েই স্যার ফজলে হোসেন আবেদ এবং ডাক্তার জাফরউল্লাহ সাহেব, উনাদের তিনজনকে নিয়েই তিনটি প্রথম প্রবন্ধ আছে।

আমি প্রফেসর ইউনূস সাহেবকে ডক্টর ইউনূস বলা নিয়েও দ্বিমত প্রকাশ করেছি কেননা “এজ অ্যা নেম ইউনূস ইজ অ্যা ইন্সটিটিউট”।

সেখানে ডক্টর ইউনূস মানন সই নয়। ডক্টর অনেক জনেই হয় তবে ইন্সটিটিউট না। আমার সেই প্রবন্ধে ইউনূস সাহেবের গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর কাহিনী আছে যা সত্যিই অস্বাভাবিক ভাবনা থেকেই শুরু। অতঃপর উনার সব বিষয়েই আমার পজেটিভ লেখা এবং সম্মানের সাথে প্রাণ খুলে লেখা। আমি কতবার লিখেছি আ’লীগ সরকার অন্যায় করছেন ইউনূস সাহেবের সাথে যা মোটা দাগে বাংলাদেশের সাথেই অন্যায় এবং যা সত্যিই এমন একটি ব্যাক্তিপ্রতিষ্ঠানের সাথে চরম অন্যায়। কতবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছি ইউনূস সাহেব বাংলাদেশের। আমার লেখা বইয়ে সবই পজেটিভ এবং যা সত্যিই ইউনূস সাহেবের পজেটিভ অংশ। আমরা উনার মূল্যায়ন করতে সক্ষম হইনি এজ এ স্টেট।

(মাসটি স্মরণে নেই/ তবে আমার ফেসবুকে আছে) লেবার কোর্টের মামলায় ইউনূস সাহেব যখন ১২ কোটি টাকা পেমেন্ট করলেন (সব মিলিয়ে ১৫ কোটি টাকা) তখন আমি লেবার আইন এবং সম্ভবত ২৫০+ জন শ্রমিকের করা কেস স্টাডি করে, শতভাগ নিশ্চিত হয়েই এবং আদালতের রায় শতভাগ পর্যালোচনা করেই , প্রথম ইউনূস সাহেব সমন্ধে অত্যন্ত সম্মানের সাথে নেগেটিভ লিখেছিলাম। সেই লেখায় সব উল্লেখ ছিল। অনেকেই ভাবতো ইউনূস সাহেবের বিরুদ্ধে ২৫০ টি মামলা হয়েছিল । আসলে মামলা ছিল একটি তবে লেবার কোর্ট আইন অনুযায়ীই ২৫০+ জন শ্রমিকের মামলা। ইন কোটেশন সব মামলা একই ধারায় হওয়াতে একটি মামলা হয়ে গিয়েছিল, মূলত। ওটা লেবার কোর্ট আইন অনুযায়ীই। আমার সেই লেখাতেই সব উল্লেখ আছে।

আবার লিখছি, ওটাই প্রফেসর ইউনূস সাহেবকে নিয়ে আমার প্রথম নেগেটিভ লেখা এবং শতভাগ সম্মান ও সতর্কতার সাথে। সেই মামলায় ইউনূস সাহেব শ্রমিকের পাওনার বিষয়ে বাস্তবিক অর্থেই হেরে গিয়েছিলেন শতভাগ লেবার আইনেই। সেদিন আমি সত্যিই অনুধাবন করে, ভেবে এবং কেস স্টাডি করেই লিখেছিল, ক্ষমা করবেন ইউনূস সাহেব আপনার দ্বারা এটা প্রত্যাশিত নয় কেননা আপনি বাংলাদেশের গর্ব তবে কেবলমাত্র বাংলাদেশের নন। আপনি আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। আন্তর্জাতিক গর্ব (সংক্ষেপে)।

ইউনূস সাহেব বর্তমান পৃথিবীতে এমন একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ যার একটি ছোট্র বচনও বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয় এমনকি পৃথিবীর বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ানোর সাবজেক্ট ইউনূস ইন্সটিটিউট। অন্যদিকে ইউনূস সাহেবের এত সুনামের পিছনে মার্কিনিদের হাত শতভাগ আছে, এটা অস্বীকার করা আর বোকার স্বর্গে বাস করা সমান। স্মরণে রাখুন, মার্কিনরা না চাইলে এই পৃথিবীর কেউ ইউনূস সাহেবের মতন এতদূর এবং এত উঁচুতে আসতে পারে না ( ওটা আবার বিরাট আলোচনার বিষয়) ।

মার্কিনিদের নিয়ে ইউরোপে একটা প্রচলিত কথা আছে, তুমি ততদিন আমার বন্ধু যতদিন তুমি আমার স্বার্থকে সমর্থন কর। সেটা তোমার বিপরীতে হোক বা তোমার ন্যাশনের বিপরীতে হোক। “ডাজ নট ম্যাটার উই আর ফ্রেণ্ড”। যাক সে কথা। মার্কিনিরা যদি বলে তুমি আমার বন্ধু তাহলে শত্রুর প্রয়োজন হয় না। এটাতো চিরাচরিত কথা।

অত্র এশিয়া অঞ্চলে ভূরাজনীতি একটি বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ চীন মার্কিনিদের বহুলাংশেই ছাড়িয়ে গেছে। ওটাই মার্কিনিদের এখন বদ স্বপ্ন।

লেবার কোর্টের মামলায় সত্যি অর্থেই শ্রমিকদের ছিল। পরাজিত শেখ হাসিনার প্রভাব ছিল না তা মোটেও নয়। তবে হ্যা, আইনের চোখের চশমা দিয়ে পরিষ্কার করার কাজটি শেখ হাসিনা করেছিল। আবার বলি আইনের শক্তিকে কাজে লাগিয়েই এবং বলাই বাহুল্য, কোর্ট শেখ হাসিনার ঈশারা বরাবরই নজরে রাখতো, ইহাও কঠিন সত্য। শ্রমিক আইনে ট্যোটাল ১৫ কোটি টাকা ( আমি টেলিকম বা নরওয়ের সাথে সমঝোতা ওগুলো বলছি না/ স্রেফ লেবার কোর্টের কথা বলছি) বাস্তবিক অর্থেই হেরফের ছিল এবং পেমেন্ট করলেন তখন খটকা লেগেছিল (সেই সময়ের লেখায় উল্লেখ করেছিলাম)। মার্কিনিরা ইউনূস সাহৃবের এই দূর্বলতা কাজে লাগবেই সময়ে। তাছাড়াও ইউনূস সাহেবের উচ্চতার পিছনে অবশ্যই মার্কিনিদের শতভাগ অবদান (উপরেই লিখেছি)।

এছাড়াও মার্কিনিদের বিশ্বব্যাপী যেকোন টার্গেট বা প্লান, এক/ দুই বছরের হয় না। যুগে যুগে হয়। আরব বসন্ত/ ইরাক/ লিবিয়া থেকেও জলের মতন পরিষ্কার হয়। মার্কিনিরা অত্র অঞ্চলের ভারতীয়দের মতন ভাবে না। চীন আজকাল মার্কিনিদের মতন করেই এগোচ্ছে।

মার্কিনিদের অত্র অঞ্চলে এবং আরব সাগরে প্রভাব রাখতেই হবে একমাত্র চীনকে ঠেকাতে। বিশ্বে চীন মার্কিনিদের জন্য বর্তমানে একমাত্র শত্রু এবং অনেক শক্তিশালী শত্রু। ইরান/ নর্থ কোরিয়া ওগুলোকে মার্কিনিরা ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে যেকোন সময়। সমস্যা চীন এবং রাশিয়া। রাশিয়া নিয়ে মার্কিনিদের চিন্তা অবশ্যই আছে তবে চীনের মতন অবশ্যই নয় এই রাশিয়াকেও মার্কিনিরা স্রেফ “কোকা কোলা” দিয়েই ভেঙ্গে দিয়েছিল (গ্লাসনস্ত ও পেরেস্ত্রইকা পড়লেই পাবেন) এবং রাশিয়ার শক্তি খর্ব করে যুগ যুগ ধরে বিশ্বে এককভাবে পরাশক্তি। রাশিয়া আজও সেই পূর্বে ফিরতে পারেনি। তবে মার্কিনিদের বেশ জানা আছে, চীনকে রাশিয়া ভাবলে চরম ভুল করবো। তাই অত্র অঞ্চলে মার্কিনিদের অবস্থান লাগবেই লাগবে। বাংলাদেশ ভূরাজনীতিতে মোক্ষম সুযোগ। এটা মার্কিনিদের দীর্ঘদিনের ভাবনা কেননা বাংলাদেশ শক্তিহীন এবং ছোটো দেশ। আবার অন্যদিকে বাংলাদেশ মার্কিনিদের উপর বহুলাংশেই (অর্থনৈতিকভাবে এবং বহুকিছুতেই দূর্বল)। এখানে একটি কথা বলি, ইউরোপ এত শক্তিধর ইউনিয়ন তারপরেও মার্কিনিদের প্রভাবের বাহিরে আজও নয় (ওটা বড় আলোচনা/ আজ নয়)

আসুন একটু বাঘ/ ভেড়া সংক্ষেপে দেখি:

স্মরণে আছে কি, শেখ হাসিনা সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরীর টেলিফৌন কলকে অবজ্ঞা করেছিল। হিলারি ক্লিনটন কেউ। হিলারি ক্লিনটনকেতো এমনভাবে বলেছিল,” উই লিসেন মি”। সৈয়দ আশরাফ বলেছিলেন কাজের মেয়ে মর্জিনা (মার্কিনি রাষ্ট্রদূতকে)

এবার একটু স্মরণ করুন, সেই সময় দেশের পত্র পত্রিকাগুলোর আর্টিকেলগুলো। বুদ্ধিজীবীদের কলামগুলো (যদি স্মরণে আসে)। তখন গর্ব করে বলা হতো, “শেখের বেটির দম আছে/ বাপের বেটি” ইত্যাদি ইত্যাদি। এবার ভাবুনতো, কিভাবে শেখ হাসিনার অত সাহস হয়েছিল বা দম পেয়েছিল? সহজ হিসেব, ভারতের সাহসে। এটাতো শিশু বাচ্চাও বুঝে।

এবার আসুন ইউনূস সাহেবের সাক্ষাৎকারে:

ভারতকে কি হুমকিটাই দিয়েছে। ভারতের কলিজা নিশ্চিত কেঁপে উঠবেই। অনেককেই দেখলাম পোস্ট করেছেন (বুদ্ধিজীবী দেখিনি/ তবে বিদ্বানদের ইতিমধ্যেই দেখেছি), বাঘের বাচ্চা/ বাঘের হুমকি। আরও কত কি। ভাল এবং বেশ ভাল।

এবার ভাবুনতো, ইউনূস সাহেব কোয়াইট জেন্টেলম্যান এভাবে বাঘের গর্জন কিভাবে করলো ? একেবারে ক্ষমতা নেবার আগে (পার্ফেক্টলি) ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে। চাট্টিখানি কথা না। সহজভাবে বলি, এটাও জলের মতন পরিষ্কার এবং শিশুরাও বুঝে, পিছনের শক্তি মার্কিন মুল্লুক। এখানেই বাঘ/ ভেড়া শেষ করবো, তবে একটি প্রশ্ন রেখে। আচ্ছা, মার্কিনিরা বিনা স্বার্থে কিছু করে কি ? উত্তর আপনাদের আপন বিবেচনার।

আমাদের সমস্যা কি জানেন ? আমরা গোড়া না ভেবেই বাঘ বানিয়ে দেই আবার সুবিধে মতন না হলেই ছাগল বলি বা কত কি । বাস্তবতা হচ্ছে খুঁটা শক্ত হলেই ভেড়া লাফায়। আরও বাস্তবতা হচ্ছে বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ডে বাংলাদেশ সহ শত দেশ বা প্রায় সব দেশে বা দূর্বল দেশগুলো ভেড়া হয়ে থাকে বা থাকতে বাধ্য হয়। বাঘ ওটা অনেক শক্তিশালী প্রাণী। ওটা হতে গিয়েই ইরাক/ লিবিয়া বা বহু উদহারণ আছে, সেগুলোকে এই মার্কিনিরাই ভেড়া বানিয়ে রেখেছে এবং খুঁটা বেঁধে লাফাতে দিচ্ছে।

এই যে ইরান এখন বেশ শক্তিধর রাষ্ট্রের ভূমিকায় উঠে আসছে, দীর্ঘদিন মার্কিনিদের পা চাটার পরে অবশেষে উপলব্ধি করেই এবং সে কারণে অ্যাটোম বানিয়েই ফেলেছে। তবে এই ইরানকেও রাশিয়া পেছনের শক্তি হবার পরেও পাঁচবছর হোক/ দশবছর হোক অতঃপর খুঁটায় বেঁধে ভেড়া বানাবেই। এইতো গত তিনদিন পূর্বেই ইরানের ভিতরে হামাস নেতা হানীকে (হনিম) হত্যা করেছে। লিখে রাখুন, ইরানে এই হত্যা দিয়েই মার্কিনিদের নতুন শুরু।

বাংলাদেশে প্রফেসর ইউনূস সাহেব রাষ্ট্রের ক্ষমতায়ন হচ্ছেন। আমি বলছি না যে, মার্কিনিরা ইউনূস সাহেবকে দিয়ে বা ইউনূস সাহেবের ক্ষমতায়নের আমলে অথবা আগামীতে যে সরকার আসবে ( ওই সরকার মার্কিনিদের দিকেই ঝুঁকে থাকতে বাধ্য হবেই) তাদেরকে দিয়ে অতি দ্রুত দুই/ চার/ পাঁচ বছরের মধ্যেই আমাদের সাগরে ঘাঁটি বানিয়ে চীন/ ভারতের দিকে তাক করে বসে যাবে।

লিখে রাখুন তা হবে না। তবে মার্কিনিরা পোক্তভাবেই ইন করলো এবং আপাতত এতটুকুই মার্কিনিদের প্রয়োজন ছিল এবং আপাতত যথেষ্ট। ওই যে উপরেই বলেছি, মার্কিনিরা ভারতের মতন মলিন আন্তর্জাতিক জ্ঞান দিয়ে কিছুই করে না। চীন যেটা নতুন করে শিখেছে। তাহলে মার্কিনিরা কিভাবে এবং কখন নিজেদের শক্তভাবে প্রভাব রাখবে। সেটা সঠিক সময়ে এবং সঠিক হিসেব কষেই করবে এবং আমরা পুতুল রাষ্ট্র হয়েই থাকবো। আবার বলি সেই হিসেব করার খাতাটা মার্কিনিরা কেবলমাত্র ভালভাবেই খুললো।

এখানে একটু ইতিহাসে আসি। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুর হত্যার পিছনে মার্কিনিদের হাত ছিল। এটা এখন জানা কথা। একবার ভাবুনতো, তাহলে শেখ হাসিনাকে খুন হতে হলো না কেন ? ওটাতো সহজ থেকেও সহজ ছিল।আবার সেই একই কথা বলতে হয়, জ্বি হা, ইহাই মার্কিনিদের আন্তর্জাতিক জ্ঞান। এখন শেখ হাসিনাকে খুন করলে ইউনূস সাবেকে বসালেও মার্কিনিদের গায়ে খুনের দাগ লাগতো এবং জনগণ ইউনূস সাহেবকে গ্রহণ করতে নিশ্চিত ভাবতো। মার্কিনিরা সেটা ৭৫ থেকে ভাল করেই শিখেছে।

লেখার শেষে বলি, ইউনূস সাহেব দেশটাকে একটি ভাল অবস্থানে নিয়ে আসতে পারবেন। এখানে দুটি কারণে পারবেন। এক ভারত সত্যি অর্থেই একটু হলেও ( আসলে বেশ) ঘাবড়িয়ে থাকবেই। কেননা ভারত জানে এবং বেশ ভাল করেই জানে, মার্কিনিদের মূল টার্গেট থাকবে সত্যিই ভারতের অঙ্গরাজ্যকে প্রথমে আঘাত করা, মানে ইউনূস সাহেব সাক্ষাৎকারে যা বলেছেন, সেভাবেই করবে। আবার বলছি মার্কিনিরা এগুলো ততক্ষণ করবে না যতক্ষণ ভারত মার্কিনিদের অত্র অঞ্চলে সঙ্গ দেয়। সঙ্গ না দিলেই ধীরে ধীরে সেই অপারেশন মার্কিনিরা করবেই এবং সেটা আমাদের ভূমি থেকেই। ওটা যদি মার্কিনিরা ফলপ্রসু করতে পারে (মার্কিনিরা পাবরেই/ লিখে রাখুন) তখন পুরো ভারত জুড়েই ভাঙনের সুর উঠবেই উঠবৈ। সুতরাং ভারত অত্র অঞ্চলে মার্কিনিদের সঙ্গ দেবে (ভারতের জন্য চীন বড় ফ্যাক্ট) এবং আপেক্ষিক অর্থে বলা যায়, বাংলাদেশের সাথে ভারতও একপ্রকার ভেড়া হলো কিন্ত।

একেবারে শেষে এসে বলি:
এতদিন ভারত জুজু চলছিল সঙ্গত কারণেই। আগামীতে যদি যে কোন ঘটনা ঘটে মার্কিনিদের জুজু আসে ওটাও কিন্ত স্বাভাবিকই হবে।

আমরা সাধারণ জনগণ এত রক্তের পরে আসলে কি চাই? আমরা চাই শান্তি এবং সেই শান্তির জন্য আমাদের প্রয়োজন দাঁতাল রাজনীতির অবসান।

বুলবুল তালুকদার 
শুদ্ধস্বর ডটকম 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.