সরকারি সব চাকরির কোটা সংস্কারের নতুন দাবি, আজ আবারও বাংলা ব্লকেড

কোটা পদ্ধতি সংস্কারের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের উত্তাল ‘বাংলা ব্লকেড’ আন্দোলন চলছে। গতকাল সকালে আপিল বিভাগে শুনানির পর আন্দোলনে এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছিল দেশ। পুরো রাজধানী ছিল অবরুদ্ধ। দেশের প্রায় সব মহাসড়কেই অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। সড়কে যান চলাচল বন্ধের পাশাপাশি অবরুদ্ধ ছিল রেলপথগুলো। ফলে দেশের বড় অংশে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় তীব্র যানজট ও চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে একই দাবিতে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবেন আন্দোলনকারীরা।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম গতকাল বুধবার ঢাকার শাহবাগে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সব গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের বিষয়টি তাঁদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সরকারি চাকরিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটাবৈষম্য আরও বেশি।

সারজিস আরও বলেন, তাঁদের দাবি সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রাখা। সেটিকে সামনে রেখে সরকার একটি পরিপত্র জারি করতে পারে। শুধু প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ন্যূনতম কোটাকে তাঁরা সমর্থন করেন। জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সুবিধা দিলেও এসব কোটা ৫ শতাংশের বেশি রাখার প্রয়োজন হয় না। 

এদিকে, বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির আন্দোলন ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। সেই কর্মসূচির অংশে চট্টগ্রামে রেল ও সড়কপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। চবি প্রতিনিধি জানান, আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ প্রত্যাখ্যান করে চট্টগ্রামে রেল ও সড়কপথ অবরোধ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অধিভুক্ত কলেজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। দিনব্যাপী আন্দোলনে চট্টগ্রাম শহরজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রামের টাইগার পাস এলাকা অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকাল পৌনে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে চড়ে ১৭ কিলোমিটার দূরে দেওয়ানহাটে আসেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে দেওয়ানহাট রেলপথ অবরোধ করেন তারা। এর ফলে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রাবি প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল থেকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে রাবির প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। পরে সেখান থেকে রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত আন্দোলন করেন। এ সময় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সব যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.