“জলের শ্যাওলা”- সমস্যা হলো দূর্ণীতি নিয়ে লিখতে গেলেই চোখে সর্ষেফুল দেখতে হয়। যদি সরাসরি এভাবে একটি প্রশ্ন করি, দেশের একটি প্রতিষ্ঠান কেউ দেখাতে পারবেন কি, যেখানে চোর নেই, দূর্ণীতি নেই ? আচ্ছা এটা কি অবান্তর প্রশ্ন করলাম? আমার ধারণা কেউ আমার এমন প্রশ্নের বিপরীতে বলবেন না যে, এটা সত্যিই অবান্তর প্রশ্ন।
একবার ভাবুন, একটি রাষ্ট্রের বিষয়ে যখন এভাবে প্রশ্ন তোলা যায় এবং সচেতন কেউ প্রতিবাদও করবে না বলে ধারণা করি, তাহলে ভাবুন সেই রাষ্ট্রে কোটা আন্দোলন বলেন আর চোর খোঁজা বলেন, এগুলো দিয়ে কি সত্যিই কোন সমাধান হবে ? উত্তরটি হবে না এবং অবশ্যই না।
দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রতিনিয়তই দূর্ণীতিবাজ আর চোররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণেই সামনে চলে আসছে। এমন এমন মানুষগুলো (!) দূর্ণীতিবাজ আর চোর হয়ে প্রকাশ পাচ্ছে যা দেখে সাধারণ ভাবনার যে কেউ হীম হয়ে যাবে নিশ্চয়ই। কি আশ্চর্যের বিষয়। বিশ- তিরিশ- চল্লিশ বছর ধরে সবগুলো প্রতিষ্ঠানের দূর্ণীতিবাজ আর চোরেরা টিকে থাকে তবে তারা যে চোর আর দূর্ণীতিবাজ সেটা প্রকাশ পায়, হয় পেনশন গিয়ে অথবা চাকুরির শেষ বয়সে। বহু উদহারণ আছে।
যখন প্রকাশ পায় তখন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছুটা তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। বলাই বাহুল্য, জনমানুষেরা যখন ডিজিট্যালের কল্যাণেই বর্তমানে যখন চোর চোর বলে চিৎকার- চেঁচামেচি করতে থাকে, তখন সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মতৎপরতা আসে। তবে সেই অতীতের বিশ- তিরিশ- চল্লিশ বছর যেন কেউ জানতোই না এই সব চোর- দূর্ণীতিবাজরা সত্যিই চোর- দূর্ণীতিবাজ হতে পারে। যদিও শত- হাজার কোটি টাকা কামাই নিশ্চয়ই সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর অজান্তে বা গোপনে- নীরবে হবার কোন সুযোগই থাকে না।
একটি বিষয় বেশ লক্ষ্যণীয় যে, ওই সব চোর- দূর্ণীতিবাজরা যখন বাজারে জনমানুষের কাছে ধরা পরে এবং সামনে চলে আসে, তখন অনাকাঙ্খিতভাবে হোক অথবা অধমের মতন হোক, আমরা সাধারণ জনগনেরাই তখন আবার খুঁজতে থাকি, সেই চোর- দূর্ণীতিবাজরা কোন রাজনৈতিক রংয়ের? কে আ’ লীগের? কে বিএনপির ? অথচ ভাবি না যে, চোর সব সময়ই চোর এবং যে কোন দলের হোক, একইভাবে চোর। তেমনটা দূর্ণীতিবাজদের ক্ষেত্রেও। স্পষ্ট করেই বলতে চাই, চোর- দূর্ণীতিবাজদের রাজনৈতিক রংয়ে দেখাটা অবাঞ্ছিত ও অনাকাঙ্খিত।
এই যে আবেদ আলী সাধারণ গাড়ির ড্রাইভার থেকে এখন কোটিপতি। এই আবেদ আলীর ক্ষেত্রেও দেখলাম সামাজিক যোগাযোগের বাজারে খোঁজ করা হচ্ছে, সে কোন রাজনৈতিক রংয়ের ? একবার ভেবে দেখুন রাজনৈতিক রং খুঁজে কি আমরা নিজেদেরই ক্ষতি করছি কিনা ?
আরও লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, আবেদ আলীদের মতন দুই- চারজনকে নিয়ে আমরা হইহুল্লা করছি অথচ আবেদ আলীর মতন গাড়ির ড্রাইভারের কোন ক্ষমতা ছিল প্রশ্ন ফাঁস করার ? খুব সাধারণভাবেই অনুমেয় হয়, তাহলে শুরুটা আবেদ আলীদের দিয়ে বহু উপর থেকেই করানো হয়েছে। কেননা প্রশ্ন তৈরী এবং বিতরণের আইন ও পদ্ধতি (আজকে এখানে লিখছি না) কখনোই প্রমাণ করে না যে, আবেদ আলীদের সেখানে এমন কর্ম করার কোন সুযোগ থাকে।
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে না,” মাছের পচন মাথা থেকে”। এই প্রবাদটি চোখ বন্ধ করেই বলা যায় বর্তমানে বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বলেন, বিচারবিভাগ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলেন বা ধর্মীয়প্রতিষ্ঠান বলেন, সর্বত্রই বিরাজমান। সেখানে আবেদ আলীদের মতন দুই চারজনের পিছনে না ছুটে রাষ্ট্রের উচিত সেই সব মাথাদের পিছনে ছোটা। আবেদ আলীরাতো কেবলমাত্র নমুনা।
হ্যা আমি বেশ অবগত আছি যে, যখন আমি প্রতিষ্ঠানের মাথাদের পিছনে ছোটার কথা লিখছি, তখন নিশ্চয়ই কোটি জনমানুষের মনে প্রশ্ন জাগবে, শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের মাথায় হবে কেন? মূল প্রতিষ্ঠান দেশের মাথাও’তো যেভাবে ক্ষমতায়ন হয়েছিল এবং আছে, এই মাথাও’তো পচনের কথাই বলে কেননা গোড়াতে ক্ষমতায়নেই পচনের নমুনা আছে যে।
লেখার শুরুতেই কোটা শব্দটি লিখেছি। না, আজকে মূলত কোটা নিয়ে লেখা এটা নয়। কোটার কথা লিখেছি শুধুমাত্র অনুধাবনের জন্য। তবে হ্যা ইতিপূর্বেই একবার লিখেছিলাম, কোটার একটি রাজনৈতিক সমাধান অতিব জরুরি।
এ কথা বলাই যায় যে, এমন একটি রাষ্ট্রের যে রাষ্ট্রের পরতে পরতে চোর আর দূর্ণীতিবাজদের ছড়াছড়ি, সেই রাষ্ট্রের দুই চারটি কোটা বা ভিন্ন আন্দোলন দিয়ে কিছুই হবার নয়। মূলত রাষ্ট্রের গোড়ায় আমুল পরিবর্তন প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রের একটি সংস্কারসাধন হওয়া ছাড়া কিছুই হবার নয়।
বুলবুল তালুকদার
শুদ্ধস্বর ডটকম

