মোদির জোটের এমপিদের মধ্যে হিন্দু ছাড়া কেউ নেই!

নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপিতে, এমনকি তাদের জোট ‘এনডিএ’তেও হিন্দু ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) নেই। এমনটাই ওঠে এসেছে ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে।

খবরটি নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বহু ধর্ম, বর্ণ, জাতির দেশ ভারতের নেতৃত্ব যে জোটের হাতে থাকবে, তাদের এরকম একমাত্রিক সাংসদ মিশ্রণ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

২৯৩ জনের এনডিএ-তে সংখ্যালঘুদের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় জম্মু ও কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ তীব্র সমালোচনা করেছেন।

উল্লেখ্যে, এনডিএ সঙ্গীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নরেন্দ্র মোদিকে তৃতীয় বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য বেছে নিয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

এ নির্বাচনে হেরে যাওয়া ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, ‘শুধু বিজেপি নয়, এনডিএ মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ মুক্ত। তা সত্ত্বেও সরকার ১৪০ কোটি ভারতীয়ের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করবে।’

৫৪৩ সদস্যের লোকসভায় এনডিএ শেষ পর্যন্ত ২৯৩টি আসনে জয়লাভ করে, যা ২৭২ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে কিছুটা বেশি। বিজেপি পেয়েছে ২৪০টি আসন, কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯টি আসন। একজন স্বতন্ত্র সাংসদও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।

এনডিএ দলগুলোর মধ্যে কোনো মুসলিম সাংসদ না থাকলেও ‘ইন্ডিয়া’ জোটে ৭.৯ শতাংশ মুসলিম সাংসদ রয়েছেন। একইভাবে, এনডিএ-তে কোনো খ্রিস্টান সাংসদ নেই, যেখানে ইন্ডিয়া জোটের ৩.৫ শতাংশ খ্রিস্টান সাংসদ রয়েছে। এনডিএ-তে একজনও শিখ সাংসদ নেই, যেখানে ইন্ডিয়া জোটে শিখ সম্প্রদায়ের ৫ শতাংশ সাংসদ রয়েছেন।

লোকসভা নির্বাচন ১৯ এপ্রিল থেকে ১ জুনের মধ্যে সাত দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলাফল ঘোষণা করা হয় ৪ জুন।

এবার উত্তরপূর্বাঞ্চলের তিনটি রাজ্যে বিজেপি খাতা খুলতে না পারায় খ্রিষ্টান সাংসদ নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে জেডিইউ’র মতো শরিকদেরও কোনো সংখ্যালঘু সাংসদ না থাকা কিছুটা অবাকের বলে মনে করা হচ্ছে।

অতীতে বিজেপি অবশ্য বলেছে যে তারা টিকিট দিলেও মুসলিমরা জেতে না। তাই নিজেদের যেটা শক্তি সেই অনুযায়ী তারা টিকিট দেয়।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী মোদি বারবার বলেছেন যে তিনি সবকা সাথ, সবকা বিকাশে বিশ্বাস করেন। কোনো তারতম্য করেন না। তাও তারা কোনো সংখ্যালঘু সাংসদকে জিতিয়ে আনতে পারেননি।

হিন্দুদের মধ্যে বিরোধীদের থেকে বিজেপিতে উঁচু জাতের সাংসদ বেশি আছে বলে রিপোর্টে প্রকাশ। অন্যদিকে দলিত সাংসদ বিরোধীদের বেশি সংখ্যক নির্বাচিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

মন্ত্রিসভায় কোনো টোকেন সংখ্যালঘুকে রাখা হবে কিনা, হলেও তিনি কোন দায়িত্ব পাবেন, এখন সেদিকেই নজর সবার।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.