ইউরো কাপের খেলা, বিয়েই ভেঙে যাচ্ছিল যুগলের !

আর একটু হলে বিয়েটাই ভেস্তে যাচ্ছিল। ইউরো কাপে ইংল্যান্ড-ডেনমার্ক লড়াই। এমন ম্যাচ ছেড়ে বিয়ের প্রশ্নই ওঠে না। অথচ বিয়ের সব কিছু ঠিক। অনেক আগে দিনও ঠিক হয়ে গিয়েছিল। সমস্যা তৈরি করেছে পরে তৈরি হওয়া ইউরো কাপের সূচি। শেষ পর্যন্ত এক চকোলেট নির্মাতা সংস্থার উদ্যোগে সমাধান হয়েছে সমস্যার।

থমাস বার এবং নিকোলেটা দু’জনেই ফুটবল পাগল। ফারহামের বাসিন্দা যুগলের পরিচয়, প্রেম সব কিছুরই মাধ্যম ফুটবল। তাঁদের জীবনে সবার প্রথমে ফুটবল। তার পর সব কিছু। বিয়ের দিন এবং ইংল্যান্ড-ডেনমার্ক ম্যাচ এক দিনে (২০ জুন) পড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। দেশের ফুটবল ম্যাচ না দেখে বিয়ে! ভাবতেই পারছিলেন না থমাস এবং নিকোলেটা।

তাঁদের চিন্তা মুক্ত করে একটি চকোলেট প্রস্তুতকারী সংস্থা। ইংল্যান্ডের খেলা এবং যাঁদের বিয়ে একই দিনে, তাঁদের জন্য একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সংস্থাটি। জয়ী যুগল বিয়ে করতে পারবেন খেলা দেখতে দেখতে। ব্যবস্থা থাকবে বড় স্ক্রিনের। বিজ্ঞাপন দেখে প্রতিযোগিতায় নাম দিয়ে দেন থমাস এবং নিকোলেটা। কিন্তু নাম দিলেই তো হবে না। প্রতিযোগিতায় জিততে পারলে তবেই বিয়ে করতে করতে দেশের খেলা দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। থমাস বলেছেন, ‘‘ফুটবল ছাড়া কিছু বুঝি না আমরা। ইউরো কাপের সূচি দেখার পর বেশ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। বিশ্বাসই হচ্ছিল না এমন হতে পারে। অন্য উপায় না দেখেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম। জীবনের বিশেষ দিনটার সঙ্গে ইংল্যান্ডের খেলা উদ্‌যাপন করার জন্য।’’

শেষ পর্যন্ত থমাস এবং নিকোলেটা প্রতিযোগিতায় জেতায় সমস্যার সমাধান হয়। চকোলেট প্রস্তুতকারী সংস্থা তাদের বিয়ের সব আয়োজনের পাশাপাশি বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার ব্যবস্থাও করে। নব দম্পতির জন্য ব্যবস্থা করে হয় বিশেষ চকোলেট কেকের। ইংল্যান্ডের ফুটবলার বুকায়ো সাকা ভিডিয়ো বার্তায় নতুন জীবনের শুভেচ্ছা জানান নব দম্পতিকে। বিয়ের অনুষ্ঠান মিটিয়ে স্ত্রী এবং অতিথিদের নিয়ে ইংল্যান্ড-ডেনমার্ক ম্যাচ দেখতে বসে পড়েন থমাস।

আসল কৃতিত্ব অবশ্য নিকোলেটার। তিনি বলেছেন, ‘‘প্রতিযোগিতায় থমাসের নামটা আমিই দিয়েছিলাম। সুযোগটা কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম। ও যা ফুটবল পাগল, হয়তো বিয়েটাই বাতিল করে দিত। ইংল্যান্ডের কোনও ম্যাচ ছাড়ে না। পরে যখন সংস্থা থেকে ফোন করে জানানো হল আমরা প্রতিযোগিতায় জিতেছি, সেই মুহূর্তের কথা বলে বোঝাতে পারব না। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, সত্যিই আমরা এমন একটা দুর্দান্ত সুযোগ পেতে চলেছি। আর সাকার বার্তা পেয়ে আমরা অভিভূত। এটাই সেরা প্রাপ্তি আমাদের বিয়ের।’’

এমন বিয়ের আয়োজন করে উচ্ছ্বসিত চকোলেট প্রস্তুতকারী সংস্থাটিও। সংস্থার পক্ষে কেরি ক্যাভানাফ বলেছেন, ‘‘বিজয়ী দম্পতির জন্য এমন আয়োজন করতে পেরে আমরাও ভীষণ খুশি। একটা দুর্দান্ত দিনে ওরা নিজেদের লক্ষ্যও পূরণ করতে পারলেন। আমরা এমন আয়োজন আরও করতে চাই। আমাদের সংস্থা মানুষের খুশির মুহূর্তকে আরও সুন্দর করে তুলতে চায়। মানুষের জীবনের বিশেষ মুহূর্তের সঙ্গী হতে চায়।’’ সুত্র, আনন্দবাজার পত্রিকা ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.