“ফ্রান্সে মে দিবসের সম্মিলিত আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণ ও সংহতি প্রকাশ”

ফ্রান্সে মে দিবসের সম্মিলিত আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশী বিভিন্ন সংগঠন অংশগ্রহণ করে এবং সংহতি প্রকাশ করে।

১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে প্রথম পালিত  হয় মহান শ্রমিক দিবস । সেদিন দৈনিক আটঘণ্টার কাজের দাবিতে শ্রমিকরা হে মার্কেটে জমায়েত হয়েছিল। তাদেরকে ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাতনামার বোমা নিক্ষেপের পর পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। ফলে প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হয়।

১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে থেকে শিকাগো ঘটনার প্রতিবাদে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে ১মে শ্রমিক দিবস পালনের প্রস্তাব করেন রেমন্ড লাভিনে।

প্রতি বছরের মত এবারও প্যারিসের রিপাবলিক চত্ত্বরে বিপুল জনসমাগম হয়। বিশেষ করে শ্রমিক সংগঠন CGT ও অন্যান্য সংগঠনের উপস্থিত লক্ষ্য করা যায়। তাদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশী সংগঠন ইপিএস কমিউনিটি ফ্রান্স, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ফ্রান্স, সলিডারিটি আজি ফন্স ও অন্যান্য সংগঠন র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিলো উল্লেখ করার মতো।

“ইপিএস কমিউনিটি ফ্রান্স” শ্রমিকদের কিছু দাবি উপস্থাপন করে উপস্থিত জনতার স্বাক্ষর গ্রহণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। স্বাক্ষর উদ্বোধন করেন,  বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ফ্রান্স কমিটির কোষাধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রহমত উল্লাহ চৌধুরী সুজন। উপস্থিত একাংশের মাঝে বক্তব্য রাখেন এন কে নয়ন, প্রেসিডেন্ট সলিডারিটি আজি ফন্স, এলান খান চৌধুরী সভাপতি ইপিএস কমিউনিটি ফ্রান্স, কলম সৈনিক আরিফ খান রানা রাজ, রিগ্রুপমো ফ্যামেলিয়ালের এডমিন কাউসার আহাম্মেদ, প্রবাসী অধিকার পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি শাহিন আহামেদ, ইপিএস কমিউনিটির এক্সিকিউটিভ সদস্য হাফিজ আহাম্মেদ, শুভাশিস গাঙ্গুলী, রনি রহমান, আহাম্মেদ বাশার, জামাল হোসেন, গ্যালাক্সি বয়েজ এর স্বত্বাধিকারী আমির হোসেন,  প্রমুখ।

বক্তব্যে ইপিএস কমিউনিটি ফ্রান্সের সভাপতি এলান খান চৌধুরী বলেন কর্মজীবী মানুষের অধিকারের জন্য ইপিএস কমিউনিটি সব সময় সোচ্চার। তাদের দাবি সমুহ ছিল:

ক. সবার স্বাস্থ্য সেবা অধিকার নিশ্চিত করণ।

খ.  কর্মজীবীদের জন্য আইন সহজ করণ।

গ. মা-বাবার মৃত্যুতে দেশে গেলে আবার ফিরত আসার নিশ্চয়তা।

ঘ. তিন বছর আওতায় ১২ টি ট্যাক্সের দ্রুত মাধ্যমে নিয়মিত করণ।

ঙ. সবাইকে নিয়মিত করণ।

 সলিডারিটি আজি ফন্স’র সভাপতি এন কে নয়ন বলেন, সলিডারিটি আজি ফন্স অনিয়মিতদের জন্য সব সময় কাজ করে যাচ্ছে বিশেষ করে যারা এখনো নিয়মিত হয়নি তাদেরকে কাজের স্থানে ও বেতনের ক্ষেত্রে সমান অধিকার বা ন্যায্য মূল্য  দিতে হবে। কাগজ নাই দেখে দাসের মতো কাজ করানোর মন-মানসিকতা পরিহার করতে হবে। কাগজ জমা দেয়ার সময় মালিক পক্ষ থেকে  অসহযোগিতা মুলক আচরণ বিলুপ করতে হবে। নারীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করতে হবে । অন্যদিকে যুব ইউনিয়ন ফ্রান্স শ্রমিকদের সাথে সংহতি জানিয়ে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন  বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ফ্রান্স শাখার সদস্য ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ফ্রান্স কমিটির সাবেক সভাপতি  রমেন্দ্র  কুমার চন্দ, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ফ্রান্স কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রহমত উল্লাহ চৌধুরী সুজন, সহ-সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বি চৌধুরী ওয়াফি, কোষাধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

রাকিবুল ইসলাম, শুদ্ধস্বর ডটকমের ফ্রান্স প্রতিনিধি ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.